৫ বছরের কর্মপরিকল্পনা প্রণয়ন ও বাস্তবায়নের উদ্যোগ নিয়েছে সরকার: প্রধানমন্ত্রী

Sanchoy Biswas
বাসস
প্রকাশিত: ৬:২২ অপরাহ্ন, ২২ এপ্রিল ২০২৬ | আপডেট: ৭:৫০ অপরাহ্ন, ২২ এপ্রিল ২০২৬
বুধবার জাতীয় সংসদে প্রশ্নোত্তর পর্বের জবাব দেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। ছবি : পিএমও
বুধবার জাতীয় সংসদে প্রশ্নোত্তর পর্বের জবাব দেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। ছবি : পিএমও

প্রধানমন্ত্রী ও সংসদ নেতা তারেক রহমান বলেছেন, ‘নির্বাচনী ইশতেহারে ঘোষিত কার্যক্রমসমূহ বাস্তবায়নে সরকারের প্রথম ১৮০ দিন, ২০২৬-২৭ অর্থবছর এবং আগামী ৫ বছরের কর্মপরিকল্পনা প্রণয়ন করা হয়েছে এবং তা বাস্তবায়নে প্রয়োজনীয় উদ্যোগও গ্রহণ করা হয়েছে।’

আজ বুধবার বিকেলে জাতীয় সংসদে প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে প্রশ্নোত্তর পর্বে কুমিল্লা-৯ আসনের সংসদ সদস্য মো. আবুল কালামের এক প্রশ্নের জবাবে প্রধানমন্ত্রী এ কথা বলেন।

আরও পড়ুন: নতুন বাস ভাড়া নিয়ে সিদ্ধান্ত বৃহস্পতিবার: মন্ত্রী

প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘উন্নত, সমৃদ্ধ ও মর্যাদাশীল বাংলাদেশ গঠনের লক্ষ্যে বিএনপির নির্বাচনী ইশতেহারে গণতন্ত্র, সুশাসন, অর্থনৈতিক উন্নয়ন ও মানবিক মূল্যবোধের সমন্বিত বাস্তবায়নের ওপর গুরুত্বারোপ করা হয়েছে। এতে অবাধ ও সুষ্ঠু নির্বাচন, প্রশাসনিক স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা নিশ্চিত করার পাশাপাশি আইনের শাসন, মানবাধিকার ও মতপ্রকাশের স্বাধীনতা প্রতিষ্ঠার কথা বলা হয়েছে। দুর্নীতি দমন, বিনিয়োগ ও শিল্পায়ন বৃদ্ধি, কর্মসংস্থান সৃষ্টি এবং মানবসম্পদ উন্নয়নের মাধ্যমে অর্থনৈতিক সমৃদ্ধি অর্জনের লক্ষ্য নির্ধারণ করা হয়েছে।’

তিনি আরো বলেন, ‘একই সঙ্গে শিক্ষা, স্বাস্থ্য, কৃষি ও সামাজিক সুরক্ষা খাতে উন্নয়ন জোরদার করে অন্তর্ভুক্তিমূলক ও বৈষম্যহীন সমাজ গঠনের ওপর বিশেষ গুরুত্বারোপ করা হয়েছে। এছাড়াও সবার আগে বাংলাদেশ পররাষ্ট্রনীতির এই মূল দর্শনকে বিবেচনায় নিয়ে প্রতিটি ক্ষেত্রে বাংলাদেশের স্বাধীনতা, সার্বভৌমত্ব, জাতীয় স্বার্থ, জাতীয় নিরাপত্তা এবং জনগণের কল্যাণ সর্বাগ্রে প্রাধান্য দেওয়ার লক্ষ্যে কার্যক্রম শুরু হয়েছে। সমতা, ন্যায্যতা ও পারস্পরিক সম্মানের ভিত্তিতে বাংলাদেশকে একটি আত্মমর্যাদাশীল রাষ্ট্র হিসেবে প্রতিষ্ঠার লক্ষ্যে সরকার কাজ করছে।’

আরও পড়ুন: কৃষি উন্নয়নে ৭ দফা পরিকল্পনা ঘোষণা প্রধানমন্ত্রীর

একটি উন্নত, সমৃদ্ধ ও মর্যাদাশীল বাংলাদেশ গড়ে তুলতে বর্তমান সরকার ইতোমধ্যে উল্লেখযোগ্য উদ্যোগ গ্রহণ করেছে উল্লেখ করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘এর মধ্যে অন্যতম হলো— ৫ বছরে ২০ হাজার কিলোমিটার খাল ও নদী খনন এবং পুনঃখননের কার্যক্রম, প্রান্তিক ও নিম্ন আয়ের পরিবারের জন্য ফ্যামিলি কার্ড প্রদান, কৃষির উন্নয়নে কৃষকদের জন্য কৃষক কার্ড, মসজিদ, মন্দির, বৌদ্ধ বিহার, প্যাগোডা ও গির্জায় কর্মরত ব্যক্তিবর্গের জন্য সম্মানি ও উৎসব ভাতা, ক্রীড়াবিদদের জন্য ক্রীড়া কার্ড ও ভাতা প্রদান, ৫ বছরে ২৫ কোটি বৃক্ষরোপণ কর্মসূচি, ১০ হাজার টাকা পর্যন্ত কৃষি ঋণ সুদসহ মওকুফ ইত্যাদি।’

প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘এ ছাড়াও সারাদেশে শহর ও গ্রামাঞ্চলে খেলার মাঠ নির্ধারণ ও অবকাঠামো উন্নয়ন, ই-হেলথ কার্ড-এর মাধ্যমে চিকিৎসা সেবা প্রদান, ৫ লাখ সরকারি কর্মচারী নিয়োগ এবং এ অর্থবছরে প্রাথমিক বিদ্যালয়ের ২ লাখ শিশুর মাঝে বিনামূল্যে স্কুল ড্রেস বিতরণসহ অন্যান্য উদ্যোগ বাস্তবায়নের কার্যক্রম চলমান রয়েছে।’

স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদের সভাপতিত্বে বিকাল ৩টায় সংসদের অধিবেশন শুরু হয়। অধিবেশনের প্রথম কর্মসূচি ছিল প্রথম ৩০ মিনিট প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে প্রশ্নোত্তর পর্ব।