ধর্ম নিয়ে রাজনীতি নয়, সবার নিরাপত্তা নিশ্চিত করবে সরকার: প্রধানমন্ত্রী

Sadek Ali
বাংলাবাজার ডেস্ক
প্রকাশিত: ১:০০ অপরাহ্ন, ৩০ এপ্রিল ২০২৬ | আপডেট: ২:২৪ অপরাহ্ন, ০২ মে ২০২৬
ছবিঃ সংগৃহীত
ছবিঃ সংগৃহীত

বর্তমান সরকার ধর্মকে রাজনৈতিক স্বার্থে ব্যবহার করতে চায় না বলে জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। তিনি বলেছেন, ধর্ম যার যার, নিরাপত্তা পাওয়ার অধিকার সবার।

বৃহস্পতিবার (৩০ এপ্রিল) সকালে সচিবালয়ের মন্ত্রিপরিষদ বিভাগের জনপ্রশাসন সভাকক্ষে বৌদ্ধ সম্প্রদায়ের নেতৃবৃন্দের সঙ্গে শুভেচ্ছা বিনিময়কালে এসব কথা বলেন তিনি।

আরও পড়ুন: ময়মনসিংহ মেডিকেলে অগ্নিকাণ্ডের ঘটনায় তদন্ত কমিটি গঠন

প্রধানমন্ত্রী বলেন, “আমরা ধর্মকে রাজনৈতিক স্বার্থে ব্যবহার করতে চাই না, অতীতেও করিনি। ধর্ম-বর্ণ নির্বিশেষে বাঙালি-অবাঙালি, বিশ্বাসী-অবিশ্বাসী—সবাই সমান অধিকার ভোগ করবে, এটাই সরকারের নীতি।”

তিনি আরও বলেন, পৃথিবীর প্রতিটি ধর্মই মানুষকে কল্যাণের পথে আহ্বান করে এবং প্রতিটি ধর্মের নিজস্ব নিয়মনীতি রয়েছে। বৌদ্ধ ধর্মের প্রধান ধর্মগুরু গৌতম বুদ্ধ-এর পঞ্চশীল নীতির কথা উল্লেখ করে তিনি বলেন, এই নীতিতে প্রাণী হত্যা, চুরি, ব্যভিচার, মিথ্যা ও মাদক থেকে বিরত থাকার শিক্ষা দেওয়া হয়েছে। পাশাপাশি প্রেম, অহিংসা ও সর্বজীবে দয়ার কথাও বলা হয়েছে।

আরও পড়ুন: কল্যাণমূলক রাষ্ট্র ও সমাজ প্রতিষ্ঠাই জনগণের প্রতি সরকারের অঙ্গীকার: প্রধানমন্ত্রী

মুক্তিযুদ্ধের চেতনার প্রসঙ্গ টেনে প্রধানমন্ত্রী বলেন, “ধর্ম-বর্ণ নির্বিশেষে একটি নিরাপদ বাংলাদেশ গড়ার লক্ষ্যেই মুক্তিযোদ্ধারা দেশ স্বাধীন করেছিলেন। তখন কে কোন ধর্মের—তা কেউ দেখেনি। এই দেশ সবার।”

তিনি বলেন, বর্তমান সরকারের রাজনৈতিক দর্শন ‘বাংলাদেশি জাতীয়তাবাদ’, যা দেশের সব ধর্ম ও নৃগোষ্ঠীর মধ্যে সহাবস্থান নিশ্চিত করতে পারে। “আপনারা কেউ নিজেদের সংখ্যালঘু ভাববেন না—আমরা সবাই বাংলাদেশি,” যোগ করেন তিনি।

অনুষ্ঠানে দেশের সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি ও বৌদ্ধ সম্প্রদায়ের উন্নয়নে সরকারের বিভিন্ন উদ্যোগ নিয়েও আলোচনা হয়। শেষে বৌদ্ধ নেতৃবৃন্দ প্রধানমন্ত্রীর হাতে সম্মাননা ক্রেস্ট ও পবিত্র বুদ্ধমূর্তির প্রতিচ্ছবি তুলে দেন।

এ সময় উপস্থিত ছিলেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দীন আহমদ, ধর্মমন্ত্রী শাহ মোফাজ্জল হোসাইন কায়কোবাদ, পার্বত্য চট্টগ্রাম বিষয়ক মন্ত্রী দিপেন দেওয়ান এবং প্রতিমন্ত্রী মীর হেলাল উদ্দিন।

এছাড়া প্রধানমন্ত্রীর বিশেষ সহকারী বিজন কান্তি সরকার, সংসদ সদস্য সাচিং প্রু জেরী, প্রার্থী মাধবী মারমা এবং শিক্ষাবিদ ড. সুকোমল বড়ুয়াসহ বিভিন্ন বিশিষ্ট ব্যক্তি উপস্থিত ছিলেন।