অবৈধ অস্ত্র উদ্ধার ও ভুয়া মামলা প্রত্যাহারে কঠোর সরকার: স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী

Sanchoy Biswas
বাংলাবাজার রিপোর্ট
প্রকাশিত: ৫:৩১ অপরাহ্ন, ০৬ মে ২০২৬ | আপডেট: ৭:১৮ অপরাহ্ন, ০৬ মে ২০২৬
ছবিঃ সংগৃহীত
ছবিঃ সংগৃহীত

অবৈধ অস্ত্র উদ্ধার এবং হয়রানিমূলক ও ভুয়া মামলা প্রত্যাহারে সরকার কঠোর অবস্থানে রয়েছে বলে জানিয়েছেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ।

বুধবার দুপুরে রাজধানীর ওসমানী স্মৃতি মিলনায়তন-এ অনুষ্ঠিত জেলাপ্রশাসক সম্মেলন ২০২৬-এর চতুর্থ দিনের তৃতীয় অধিবেশন শেষে সাংবাদিকদের ব্রিফিংয়ে তিনি এ কথা জানান।

আরও পড়ুন: সংরক্ষিত নারী আসনে শপথ নিলেন নুসরাত তাবাসসুম, সংসদে নতুন কণ্ঠস্বর যুক্ত

মন্ত্রী বলেন, সম্মেলনে মাঠ প্রশাসনে আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতি বজায় রাখা, অবৈধ অস্ত্র উদ্ধার, হয়রানিমূলক মামলা প্রত্যাহার এবং আসন্ন ঈদুল আজহা উপলক্ষে নিরাপত্তা ব্যবস্থার বিষয়ে বিস্তারিত আলোচনা হয়েছে।

তিনি জানান, জাতীয় নির্বাচনকে সামনে রেখে পূর্বে জনসাধারণের কাছ থেকে জমা নেওয়া লাইসেন্সকৃত আগ্নেয়াস্ত্র এখনো অনেক ক্ষেত্রে ফেরত দেওয়া হয়নি। এ বিষয়ে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় থেকে নির্দেশনা জারি করা হয়েছে, যাতে দ্রুত এসব অস্ত্র ফেরত প্রদান করা হয়। তিনটি ক্যাটাগরিতে আগ্নেয়াস্ত্র ফেরতের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে—

আরও পড়ুন: অর্থনীতিকে প্রতিযোগিতামূলক ও বিনিয়োগবান্ধব করে তুলতে হবে: বাণিজ্যমন্ত্রী

১) ২০০৯ সালের ৬ জানুয়ারির পূর্বে লাইসেন্সপ্রাপ্ত অস্ত্র,

২) ২০২৪ সালের ৫ আগস্টের পর লাইসেন্সপ্রাপ্ত অস্ত্র,

৩) ২০০৯ সালের ৬ জানুয়ারি থেকে ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট পর্যন্ত রাজনৈতিক বিবেচনায় ইস্যুকৃত লাইসেন্সসমূহ যাচাই শেষে নীতিমালা অনুযায়ী বৈধ প্রমাণিত অস্ত্র।

স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আরও জানান, অন্তর্বর্তীকালীন সময়ে জমা না দেওয়া প্রায় ১০ হাজার অবৈধ অস্ত্র উদ্ধারে সাঁড়াশি অভিযান জোরদারের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। এসব অস্ত্রের বিরুদ্ধে মামলা ও বাজেয়াপ্ত কার্যক্রমও ত্বরান্বিত করা হবে।

বিগত সরকারের আমলে দায়ের করা ‘গায়েবি’ ও ভুয়া মামলা নিষ্পত্তির বিষয়েও সরকার কাজ করছে বলে জানান তিনি। জেলা ম্যাজিস্ট্রেটের নেতৃত্বে গঠিত কমিটি এসব মামলা যাচাই করবে। ভুক্তভোগীরা নির্ধারিত ফরমে চার্জশিট বা এজাহারসহ আবেদন করতে পারবেন। যাচাই শেষে সুপারিশ স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মাধ্যমে আইন মন্ত্রণালয়ে পাঠানো হবে এবং CrPC 494 ধারা অনুযায়ী আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে। পাশাপাশি তদন্তকারী কর্মকর্তাদের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে যাতে নিরপরাধ ব্যক্তি, বিশেষ করে সাংবাদিকরা হয়রানির শিকার না হন।

আসন্ন ঈদুল আজহা উপলক্ষে নিরাপত্তা জোরদারের বিষয়ে তিনি বলেন, সড়ক-মহাসড়ক ও রেলপথের পাশে কোনো পশুর হাট বসতে দেওয়া হবে না। বড় পশুর হাটে জালনোট শনাক্তকরণ মেশিন স্থাপন করা হবে এবং পুলিশ বডি-ওয়ার্ন ক্যামেরা ব্যবহার করবে। ঈদের সাত দিন আগে পুলিশ সদর দপ্তরে কেন্দ্রীয় মনিটরিং সেল স্থাপন এবং মহাসড়কে সিসিটিভি নজরদারি জোরদার করা হবে। ফেরিঘাটগুলোতে যাত্রী নিরাপত্তায় মাইকিং ও সচেতনতামূলক সাইনবোর্ড স্থাপনের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

চামড়া শিল্প রক্ষায় উপজেলা পর্যায়ে বিনামূল্যে লবণ সরবরাহের পরিকল্পনার কথাও জানান মন্ত্রী। এতে কাঁচা চামড়া অন্তত সাত দিন সংরক্ষণ করা সম্ভব হবে। একই সঙ্গে ঢাকার ইটিপি (ETP) সক্ষমতা বিবেচনায় ধাপে ধাপে চামড়া রাজধানীতে আনার নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।

সীমান্ত পরিস্থিতি নিয়ে এক প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, পার্শ্ববর্তী পশ্চিমবঙ্গ-এর প্রেক্ষাপটে সম্ভাব্য পুশব্যাক মোকাবেলায় বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ-কে সর্বোচ্চ সতর্ক অবস্থায় থাকতে বলা হয়েছে।

এছাড়া মাদক, জুয়া ও অনলাইন বেটিংয়ের বিরুদ্ধে সরকারের ‘জিরো টলারেন্স’ নীতি অব্যাহত থাকবে বলে পুনর্ব্যক্ত করেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী।

প্রেস ব্রিফিংয়ে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সিনিয়র সচিব মনজুর মোর্শেদ চৌধুরী এবং আইজিপি মো. আলী হোসেন ফকিরসহ সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।