দেশে সৌরবিদ্যুতে বিপ্লব ঘটাতে নীতি সহায়তা দেবে সরকার
বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ মন্ত্রী ইকবাল হাসান মাহমুদ বলেছেন, দেশে সৌরবিদ্যুতের ব্যাপক প্রসারে প্রয়োজনীয় নীতি সহায়তা প্রদানের লক্ষ্যে কাজ করছে সরকার।
৭ মে বৃহস্পতিবার বাংলাদেশ-চীন মৈত্রী সম্মেলন কেন্দ্রে ‘বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও ইনফ্রাস্ট্রাকচার এক্সপো’ এর উদ্বোধন অনুষ্ঠানে তিনি এসব কথা বলেন।
আরও পড়ুন: অলস শিল্পপ্রতিষ্ঠান হবে বিনিয়োগ ও কর্মসংস্থানের কেন্দ্র : বাণিজ্যমন্ত্রী
মন্ত্রী বলেন, ‘প্রদর্শনীতে অংশগ্রহণকারীদের দেখে তিনি কনভিন্সড যে, আমাদের দেশ সোলারের জন্য ‘রেডি’, এখন শুধু সমস্যা হলো যথাযথ পলিসি’। তিনি বলেন, আমাদের সরকার মাননীয় প্রধানমন্ত্রী জনাব তারেক রহমানের নেতৃত্বে দায়িত্বভার গ্রহণ করার পরে বিদ্যুৎ ও জ্বালানি সেক্টরকে অগ্রাধিকার দিয়েছে। কিছুদিন আগে প্রধানমন্ত্রী আমাদের নেতৃত্বে একটি কমিটি করে দিয়েছে। সেই কমিটি কিভাবে আপনাদের পলিসি সাপোর্ট দিলে আমরা দ্রুত বাস্তবায়নের দিকে যেতে পারি সে জন্য কাজ করে যাচ্ছে। একটা মিটিংও করেছে এবং নীতিমালার বেইজ (ভিত্তি) চূড়ান্ত করা হয়েছে। তিনি বলেন, আমরা বিশ্বাস করি সরকার যদি কোনো সেক্টরকে পলিসি সাপোর্ট ঠিকমতো দেয় তাহলে সে দেশে বিপ্লব আনতে পারে।
আশির দশকে শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমান পলিসি সাপোর্ট দিয়ে গার্মেন্টস সেক্টরের পাশে থাকায় এ খাতে বিপ্লব ঘটানো সম্ভব হয়েছে। মন্ত্রী সোলার খাতে বিনিয়োগকারীদের উদ্দেশ্যে বলেন, ‘যদি আপনাদেরকে পলিসি সাপোর্ট দেয়া যায় এবং রেগুলেশনগুলো আরো রিল্যাক্স করা যায় তাহলে বাংলাদেশে আপনারা পারবেন। এ নিয়ে সরকার কাজ করছে। ইনভার্টার, ফ্রেম ইত্যাদির মতো সরঞ্জাম আমদানির বিষয়ে একটি সহজ ও কার্যকর ট্যাক্স কাঠামো তৈরির কাজ চলমান। যাতে উদ্যোক্তারা সহজে কিনে সোলার সিস্টেম স্থাপন করতে পারে।
আরও পড়ুন: ৭ জুন শুরু হচ্ছে ২০২৬-২৭ অর্থবছরের বাজেট অধিবেশন
তিনি আরও বলেন, এখন আমরা জোর দিচ্ছি সঞ্চয়ের উপর, ব্যাটারি স্টোরেজ ব্যবস্থায় বিশেষ গুরুত্ব দেয়া হচ্ছে। কারণ কেবল দিনের বেলা বিদ্যুৎ উৎপাদন যথেষ্ট নয়। রাতে পিক আওয়ারে বিদ্যুতের চাহিদা মেটাতে এই ব্যাটারি ভূমিকা রাখতে পারে। সেই সাথে সরকার এমন একটি নীতিমালা প্রণয়ন করতে চায়, যাতে উদ্যোক্তাদের করের চাপ কমে এবং সহজে সোলার প্রকল্প বাস্তবায়ন করা সম্ভব হয়। সেজন্য আমরা পলিসি সাপোর্ট দেব যেন আপনাদের ট্যাক্স বেশি না দিতে হয়। মন্ত্রী আশা করেন চলতি মাসের মধ্যেই একটি পলিসি চূড়ান্ত করে, জুন মাসেই অনুমোদন ও আদেশ জারি করা হতে পারে।
সরকার আগামী পাঁচ বছরে ১০ হাজার মেগাওয়াট নবায়নযোগ্য বিদ্যুৎ উৎপাদনের লক্ষ্য নিয়ে জোরালোভাবেই কাজ করছে।
ঢাকাসহ দেশের বিভিন্ন শহরের প্রতিটি ভবনের ছাদে সৌরবিদ্যুৎ উৎপাদনের পরিকল্পনা গ্রহণের নির্দেশনা দিয়ে মন্ত্রী বলেন, এতে বেসরকারি উদ্যোক্তা ও ভবন মালিক উভয়ই লাভবান হবেন।
উদ্বোধন অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন সাসটেইনেবল অ্যান্ড রিনিউএবল এনার্জি ডেভেলপমেন্ট অথরিটির চেয়ারম্যান মুজাফফর আহমেদ, বাংলাদেশ এলিভেটর, এসকেলেটর অ্যান্ড লিফট ইম্পোর্টার্স অ্যাসোসিয়েশনের সভাপতি মো. শফিউল আলম উজ্জ্বল, বাংলাদেশ সাসটেইনেবল অ্যান্ড রিনিউএবল এনার্জি অ্যাসোসিয়েশনের সভাপতি মোস্তফা আল মাহমুদ, ফোরাম ফর এনার্জি রিপোর্টার্স বাংলাদেশের (এফইআরবি) চেয়ারম্যান এম. আজিজুর রহমান এবং খাত সংশ্লিষ্ট বিনিয়োগকারী প্রতিষ্ঠানের প্রতিনিধিগণ।
উল্লেখ্য, বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও ইনফ্রাস্ট্রাকচার এক্সপো আয়োজিত তিন দিনব্যাপী এই প্রদর্শনীতে ১২টি দেশের প্রায় ১৪০টি কোম্পানি ও প্রতিষ্ঠান অংশগ্রহণ করছে এবং এটি শনিবার পর্যন্ত চলবে।





