করিমগঞ্জে পাটের বাম্পার ফলন, চড়া দামে বিক্রিতে খুশি চাষিরা
কঠিন পরিশ্রম আর প্রতিকূল আবহাওয়ার শঙ্কা কাটিয়ে শেষ পর্যন্ত মুখে সোনালী হাসি ফুটেছে কিশোরগঞ্জের করিমগঞ্জ উপজেলার পাট চাষিদের। এ বছর পাটের বাম্পার ফলন পাওয়ার পাশাপাশি বাজারে বেশ চড়া দামে বিক্রি করতে পেরে দারুণ খুশি স্থানীয় কৃষকরা।
উপজেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর সূত্রে জানা গেছে, চলতি মৌসুমে করিমগঞ্জ উপজেলায় মোট ৬ হাজার ৫ হেক্টর জমিতে পাটের আবাদ হয়েছে। আবহাওয়া অনূকূলে থাকায় এবং কৃষকদের সঠিক পরিচর্যার ফলে এবার পাটের ভালো ফলন পাওয়া গেছে।
আরও পড়ুন: ফেনীতে বিনামূল্যে বীজ ও রাসায়নিক সার বিতরণ
রবিবার (২৬ জুলাই) কৃষকদের সাথে কথা বলে জানা যায়, গত মৌসুমে মানভেদে প্রতি মণ পাট বিক্রি হয়েছিল মাত্র ১৫শ টাকা থেকে ১৭শ টাকায়। তবে এ বছর বাজারের চিত্র সম্পূর্ণ ভিন্ন। বর্তমানে বাজারে প্রতি মণ পাট ৩৫শ টাকা থেকে শুরু করে ৪ হাজার টাকা পর্যন্ত বিক্রি হচ্ছে। গত বছরের তুলনায় দ্বিগুণ বা তারও বেশি দামে পাট বিক্রি করতে পেরে কৃষকদের চোখে-মুখে এখন স্বস্তির আনন্দ।
করিমগঞ্জ চরপাড়া এলাকার পাট চাষি মোঃ কাইয়ুম বলেন, "গত বছর পাটের যা দাম পাইছিলাম, তাতে উৎপাদন খরচ তোলাই কঠিন আছিলো। এইবার ফলনও ভালো হইছে, আবার প্রতি মণ সাড়ে তিন থেকে চার হাজার টাকায় বেইচ্ছা বেশ ভালো লাভ থাকছে৷"
আরও পড়ুন: জিপিএফের ৫ লাখ টাকা আত্মসাতের অভিযোগ, ক্যাশিয়ারের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি
স্থানীয় ব্যবসায়ীরা জানান, বাজারে ভালো মানের পাটের চাহিদা থাকায় দাম বেশ ভালো। তাছাড়া পাটকাঠি বিক্রি করেও কৃষকরা অতিরিক্ত কিছু টাকা আয় করতে পারছেন, যা তাদের সামগ্রিক লোকসান পুষিয়ে বেশ ভালো লাভে রেখেছে।
উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা অপূর্ব সূত্র ধর বলেন, "এ বছর পাটের ভালো ফলন ও দাম পাওয়ায় আগামীতে করিমগঞ্জ উপজেলায় পাট চাষে কৃষকদের আগ্রহ আরও অনেক বাড়বে, যা দেশীয় অর্থনীতি এবং সোনালী আঁশের ঐতিহ্য ফিরিয়ে আনতে দারুণ ভূমিকা রাখবে৷"





