ভারতের সঙ্গে বাণিজ্য ঘাটতি সবচেয়ে বেশি, দায় আগের সরকারের নীতির: বাণিজ্যমন্ত্রী

Sanchoy Biswas
বাংলাবাজার রিপোর্ট
প্রকাশিত: ১০:২৩ অপরাহ্ন, ০৮ জুন ২০২৬ | আপডেট: ১১:৪৩ অপরাহ্ন, ০৮ জুন ২০২৬
ছবিঃ সংগৃহীত
ছবিঃ সংগৃহীত

দেশের বাণিজ্য ঘাটতি গত পাঁচ বছরে উল্লেখযোগ্য হারে বেড়েছে এবং এর মধ্যে ভারতের সঙ্গে সবচেয়ে বেশি ঘাটতি তৈরি হয়েছে বলে জানিয়েছেন বাণিজ্যমন্ত্রী খন্দকার আবদুল মুক্তাদির। তিনি বলেন, আগের সরকারের ভুল নীতি ও বৈশ্বিক অর্থনৈতিক পরিস্থিতির কারণে এই ঘাটতি বৃদ্ধি পেয়েছে।

সোমবার (৮ জুন) জাতীয় সংসদে চট্টগ্রাম-১৪ আসনের সংসদ সদস্য জসীম উদ্দিন আহমেদের তারকা চিহ্নিত প্রশ্নের জবাবে বাণিজ্যমন্ত্রী এসব তথ্য তুলে ধরেন।

আরও পড়ুন: বাণিজ্য সচিব নিয়ে হচ্ছেটা কী!

মন্ত্রী জানান, সার্কভুক্ত দেশগুলোর মধ্যে ভারতের সঙ্গে বাংলাদেশের বাণিজ্য ঘাটতি সবচেয়ে বেশি। এছাড়া আফগানিস্তান, ভুটান ও পাকিস্তানের সঙ্গেও দেশের বাণিজ্য ঘাটতি রয়েছে।

খন্দকার আবদুল মুক্তাদির বলেন, আগের সরকারের নীতিগত দুর্বলতার পাশাপাশি বৈশ্বিক জ্বালানি সংকট, রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধের প্রভাব, ডলারের সংকট এবং আন্তর্জাতিক বাজারে মূল্যবৃদ্ধি বাণিজ্য ঘাটতি বৃদ্ধির পেছনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছে।

আরও পড়ুন: আইজিপির সঙ্গে ইউএনডিপি প্রতিনিধিদলের সৌজন্য সাক্ষাৎ

তিনি আরও বলেন, জ্বালানি, খাদ্য ও শিল্পের কাঁচামাল আমদানিতে উচ্চ ব্যয় এবং রপ্তানির তুলনায় ধীর প্রবৃদ্ধি বাণিজ্য ঘাটতি বাড়ার অন্যতম কারণ।

সংসদে উপস্থাপিত তথ্য অনুযায়ী, ২০২০-২১ অর্থবছরে দেশের বাণিজ্য ঘাটতি ছিল ১৬ দশমিক ২৪ বিলিয়ন ডলার। ২০২১-২২ অর্থবছরে তা বেড়ে দাঁড়ায় ২৮ দশমিক ১৩ বিলিয়ন ডলারে। ২০২২-২৩ অর্থবছরে বাণিজ্য ঘাটতি ছিল ২৭ দশমিক ১৮ বিলিয়ন ডলার, ২০২৩-২৪ অর্থবছরে ২১ দশমিক ৫০ বিলিয়ন ডলার এবং ২০২৪-২৫ অর্থবছরে ২৪ দশমিক ১৬ বিলিয়ন ডলার।

একই সময়ে দেশের রপ্তানি আয় ও আমদানি ব্যয়ের চিত্রও তুলে ধরেন মন্ত্রী। তিনি জানান, গত পাঁচ অর্থবছরে রপ্তানি আয় ছিল যথাক্রমে ৪৫ দশমিক ৩৬ বিলিয়ন, ৬০ দশমিক ৯৭ বিলিয়ন, ৫৩ দশমিক ৯২ বিলিয়ন, ৫১ দশমিক ১১ বিলিয়ন এবং ৫৫ দশমিক ১৯ বিলিয়ন মার্কিন ডলার। অন্যদিকে আমদানি ব্যয় ছিল ৬১ দশমিক ৬০ বিলিয়ন, ৮৯ দশমিক ১০ বিলিয়ন, ৭৮ দশমিক ২৯ বিলিয়ন, ৭২ দশমিক ৬১ বিলিয়ন এবং ৭৯ দশমিক ৩৫ বিলিয়ন ডলার।

বাণিজ্যমন্ত্রী বলেন, বাণিজ্য ঘাটতি কমানো এবং রপ্তানি বহুমুখীকরণের লক্ষ্যে সরকার বিভিন্ন উদ্যোগ বাস্তবায়ন করছে। বর্তমানে বাংলাদেশ ২০২টি দেশে পণ্য রপ্তানি করছে। তবে মোট রপ্তানি আয়ের প্রায় ৮৪ শতাংশই তৈরি পোশাক (আরএমজি) খাত থেকে আসে।

তিনি জানান, রপ্তানিতে বৈচিত্র্য আনতে চামড়া, পাট, কৃষিপণ্য, ওষুধ, আইসিটি, লাইট ইঞ্জিনিয়ারিং, হিমায়িত খাদ্য ও মাছ এবং প্লাস্টিক খাতের রপ্তানিকারকদের জন্য বিভিন্ন প্রণোদনা ও বন্ড সুবিধা দেওয়া হচ্ছে।

এছাড়া ‘ওয়ান ডিস্ট্রিক্ট ওয়ান প্রোডাক্ট (ওডিওপি)’ কর্মসূচির আওতায় দেশের ৬৪ জেলার মধ্যে ১৪টি বিশেষ পণ্য চিহ্নিত করা হয়েছে বলে জানান তিনি।

খন্দকার আবদুল মুক্তাদির আরও বলেন, মালয়েশিয়া, তুরস্ক ও নিউজিল্যান্ডসহ বিভিন্ন দেশের সঙ্গে মুক্ত বাণিজ্য চুক্তি (এফটিএ) স্বাক্ষরের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। পাশাপাশি বাংলাদেশ ও সিঙ্গাপুরের মধ্যে এফটিএ সইয়ের তৃতীয় দফা আলোচনা ২০২৬ সালের আগস্টে ঢাকায় অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা রয়েছে।