টেকসই অর্থনীতি গড়তে আন্তর্জাতিক অংশীদারিত্ব জোরদারের আহ্বান পররাষ্ট্রমন্ত্রীর
দেশের অর্থনীতিকে আরও শক্তিশালী ও টেকসই ভিত্তির ওপর দাঁড় করাতে আন্তর্জাতিক সহযোগিতা এবং কৌশলগত অংশীদারিত্ব বৃদ্ধির ওপর গুরুত্বারোপ করেছেন পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. খলিলুর রহমান। তিনি বলেছেন, বৈশ্বিক অর্থনৈতিক অনিশ্চয়তার মধ্যেও সঠিক নীতি ও আন্তর্জাতিক সম্পৃক্ততার মাধ্যমে বাংলাদেশ প্রবৃদ্ধির ধারাকে আরও এগিয়ে নিতে সক্ষম হবে।
শনিবার রাজধানীর একটি পাঁচতারকা হোটেলে অনুষ্ঠিত ‘বাণিজ্য, প্রবৃদ্ধি এবং অর্থনৈতিক কূটনীতির জন্য রোডম্যাপ ২০২৬: নেভিগেটিং রিস্ক, লিভারেজিং রেজিলিয়েন্স’ শীর্ষক উচ্চপর্যায়ের সম্মেলনে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।
আরও পড়ুন: বহুমুখী চ্যালেঞ্জে সরকার
পররাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, বর্তমান বিশ্বে ভূ-রাজনৈতিক পরিবর্তন এবং অর্থনৈতিক অস্থিরতা নতুন নতুন চ্যালেঞ্জ তৈরি করছে। এ পরিস্থিতিতে বাংলাদেশের পররাষ্ট্রনীতির অন্যতম প্রধান লক্ষ্য হচ্ছে জাতীয় স্বার্থকে অগ্রাধিকার দেওয়া এবং অর্থনৈতিক উন্নয়নকে কেন্দ্র করে আন্তর্জাতিক সম্পর্ককে আরও কার্যকর করা।
তিনি জানান, সরকার বাণিজ্য সম্প্রসারণ, বিদেশি বিনিয়োগ আকর্ষণ এবং অর্থনৈতিক কূটনীতিকে আরও গতিশীল করতে কাজ করছে। একই সঙ্গে দেশের রপ্তানি সক্ষমতা বৃদ্ধি ও নতুন বাজার অনুসন্ধানের উদ্যোগও অব্যাহত রয়েছে।
আরও পড়ুন: প্রধানমন্ত্রীকে বহনকারী বিমানে যান্ত্রিক ত্রুটি নিয়ে তদন্তে কমিটি
ড. খলিলুর রহমান বলেন, আগামী দিনের বৈশ্বিক অর্থনীতিতে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই), সৃজনশীল শিল্প, প্রযুক্তিনির্ভর সেবা এবং ক্রীড়া অর্থনীতি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করবে। এসব খাতে বাংলাদেশকে প্রতিযোগিতামূলক অবস্থানে নিয়ে যেতে সুস্পষ্ট নীতিমালা, দক্ষ মানবসম্পদ এবং সরকারি সহায়তা প্রয়োজন।
তিনি আরও বলেন, উদীয়মান খাতগুলোর সম্ভাবনাকে কাজে লাগাতে পারলে বাংলাদেশ আন্তর্জাতিক বাজারে নতুন সুযোগ সৃষ্টি করতে পারবে। এর মাধ্যমে কর্মসংস্থান, বৈদেশিক মুদ্রা অর্জন এবং দীর্ঘমেয়াদি অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি নিশ্চিত করা সম্ভব হবে।
সম্মেলনে অংশগ্রহণকারী অর্থনীতিবিদ, ব্যবসায়ী, নীতিনির্ধারক ও কূটনীতিকরা বৈশ্বিক ঝুঁকি মোকাবিলা, অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতা বৃদ্ধি এবং আন্তর্জাতিক বাণিজ্যে বাংলাদেশের অবস্থান শক্তিশালী করার বিভিন্ন দিক নিয়ে আলোচনা করেন।
বক্তারা মনে করেন, পরিবর্তিত বৈশ্বিক বাস্তবতায় অর্থনৈতিক কূটনীতি, উদ্ভাবনভিত্তিক শিল্পায়ন এবং আন্তর্জাতিক অংশীদারিত্বই বাংলাদেশের টেকসই উন্নয়নের অন্যতম চালিকাশক্তি হতে পারে।





