প্রস্তাবিত বাজেট বাংলাদেশকে নতুন উচ্চতায় নেবে: আইনমন্ত্রী
আইন, বিচার ও সংসদ বিষয়ক মন্ত্রী মো. আসাদুজ্জামান বলেছেন, ২০২৬–২৭ অর্থবছরের জন্য প্রস্তাবিত ৯ লাখ ৩৮ হাজার কোটি টাকার বাজেট একটি স্বপ্নবিলাসী ও উচ্চাভিলাষী বাজেট, যা বাংলাদেশকে নতুন উচ্চতায় নিয়ে যাবে এবং একটি স্বনির্ভর রাষ্ট্র গঠনের পথ সুগম করবে।
বৃহস্পতিবার (১৮ জুন) ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের দ্বিতীয় অধিবেশনের দশম দিনে প্রস্তাবিত বাজেটের ওপর সাধারণ আলোচনায় অংশ নিয়ে তিনি এ কথা বলেন।
আরও পড়ুন: ‘কাঁঠালভিত্তিক খাদ্যপণ্য হবে বাংলাদেশের শক্তিশালী রপ্তানি খাত’
আইনমন্ত্রী বলেন, অতীতে বাজেট ঘোষণার পর অনেক সময় ‘গরিব মারার বাজেট’ বা ‘বড়লোকের বাজেট’ হিসেবে সমালোচনা করা হতো। তবে এবার তেমন কোনো নেতিবাচক প্রতিক্রিয়া দেখা যায়নি। তাঁর মতে, এবারের বাজেট গরিব, মধ্যবিত্ত, প্রান্তিক জনগোষ্ঠী, ব্যবসায়ী এবং তরুণদের স্বার্থকে গুরুত্ব দিয়ে প্রণয়ন করা হয়েছে।
তিনি আরও বলেন, এই বাজেট কোনো হঠাৎ সিদ্ধান্ত নয়; বরং সরকারের দীর্ঘমেয়াদি উন্নয়ন পরিকল্পনার ধারাবাহিক বাস্তবায়ন। দেশের উন্নয়ন ও জনগণের কল্যাণ নিশ্চিত করার লক্ষ্যেই এটি প্রণয়ন করা হয়েছে।
আরও পড়ুন: ‘ঝুঁকে সম্মান’ নয়, ধর্মীয় রীতিতে স্পিকারকে সম্মান জানাবেন এমপিরা
বাজেটকে ‘স্বপ্নবিলাসী’ ও ‘উচ্চাভিলাষী’ বলার সমালোচনার জবাবে মন্ত্রী বলেন, যে জাতি স্বপ্ন দেখতে পারে না, সে জাতি উন্নতি করতে পারে না। বড় লক্ষ্য ছাড়া উন্নয়ন সম্ভব নয়, তাই বাংলাদেশকে শক্তিশালী ও স্বনির্ভর রাষ্ট্রে পরিণত করতে উচ্চাভিলাষী পরিকল্পনা প্রয়োজন।
তিনি জানান, প্রস্তাবিত বাজেটে কৃষি খাতে ভর্তুকি অব্যাহত রাখা হয়েছে। কৃষকদের জন্য কৃষি কার্ড, উৎপাদন বৃদ্ধি এবং বিভিন্ন সহায়তা কর্মসূচি রাখা হয়েছে। পাশাপাশি ফ্যামিলি কার্ড কর্মসূচির আওতা বাড়িয়ে প্রান্তিক জনগোষ্ঠীর কাছে সরকারি সহায়তা পৌঁছে দেওয়ার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।
শিক্ষা খাত প্রসঙ্গে তিনি বলেন, শুধু সনদনির্ভর শিক্ষা নয়, বরং কর্মমুখী ও দক্ষতাভিত্তিক শিক্ষা ব্যবস্থার ওপর গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে। এ জন্য কারিগরি ও মাদ্রাসা শিক্ষায় অতিরিক্ত প্রায় ৬ হাজার কোটি টাকা বরাদ্দ রাখা হয়েছে। স্বাস্থ্য, যুব উন্নয়ন এবং কর্মসংস্থান সৃষ্টিতেও বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে।
মন্ত্রী আরও বলেন, সরকার দায়িত্ব গ্রহণের সময় অর্থপাচার, ব্যাংক খাতের দুর্বলতা এবং বৈশ্বিক অর্থনৈতিক চ্যালেঞ্জ মোকাবিলা করে একটি বাস্তবমুখী বাজেট প্রণয়ন করেছে।
তিনি জানান, কর্মসংস্থান বৃদ্ধির লক্ষ্যে খাল ও নদী পুনঃখনন, ব্যাপক বৃক্ষরোপণ এবং বিভিন্ন উন্নয়ন প্রকল্প গ্রহণ করা হয়েছে, যা নতুন কর্মসংস্থান সৃষ্টি করবে।
আইনমন্ত্রী বলেন, বাজেটে মুদ্রাস্ফীতি নিয়ন্ত্রণ, কর সুবিধা বৃদ্ধি, সামাজিক নিরাপত্তা কর্মসূচি সম্প্রসারণ এবং সুশাসন প্রতিষ্ঠাকে অগ্রাধিকার দেওয়া হয়েছে। একই সঙ্গে ব্যাংকিং খাতে শৃঙ্খলা ফেরানো, আমানতের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা এবং আইনের শাসন প্রতিষ্ঠার বিষয়গুলো অন্তর্ভুক্ত রয়েছে।
তিনি আরও বলেন, সরকার লুটপাট ও অর্থপাচারনির্ভর অর্থনীতির পরিবর্তে একটি স্বচ্ছ, জবাবদিহিমূলক ও মানবিক অর্থনৈতিক ব্যবস্থা গড়ে তুলতে কাজ করছে। প্রস্তাবিত বাজেট সেই লক্ষ্য অর্জনের একটি গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ।





