আল্লামা সাঈদীর সাক্ষী সুখরঞ্জন বালীকে অপহরণকারী সাবেক এএসপি গ্রেপ্তার

Sadek Ali
বাংলাবাজার ডেস্ক
প্রকাশিত: ২:৪৮ অপরাহ্ন, ০৩ জুলাই ২০২৬ | আপডেট: ৪:০৭ অপরাহ্ন, ০৩ জুলাই ২০২৬
ছবিঃ সংগৃহীত
ছবিঃ সংগৃহীত

আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে জামায়াতে ইসলামীর নেতা দেলাওয়ার হোসাইন সাঈদীর পক্ষে সাক্ষ্য দিতে এসে নিখোঁজ হওয়া সুখরঞ্জন বালীকে গুমের অভিযোগে সাবেক এক সহকারী পুলিশ সুপারকে (এএসপি) গ্রেপ্তার করেছে ঢাকা মহানগর গোয়েন্দা পুলিশ (ডিবি)।

ডিবির অতিরিক্ত কমিশনার শফিকুল ইসলাম জানান, ফজলুর রহমান নামে ওই সাবেক পুলিশ কর্মকর্তাকে বৃহস্পতিবার রাতে রাজধানীর নিজ বাসা থেকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।

আরও পড়ুন: চেক রিপাবলিক ও স্লোভাকিয়া সফর শেষে দেশে ফিরলেন সেনাবাহিনী প্রধান

পিরোজপুরের বাসিন্দা সুখরঞ্জন বালী ২০১২ সালের ৫ নভেম্বর আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে দেলাওয়ার হোসাইন সাঈদীর পক্ষে সাক্ষ্য দিতে এসে আদালত প্রাঙ্গণ থেকে নিখোঁজ হন। সে সময় আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর পক্ষ থেকে দাবি করা হয়েছিল, তাকে সীমান্ত এলাকায় পাওয়া গেছে। তবে তার পরিবার ও বিভিন্ন মানবাধিকার সংগঠন অভিযোগ করে আসছিল, ট্রাইব্যুনাল এলাকা থেকেই তাকে তুলে নেওয়া হয়েছিল।

গত বছরের ৫ আগস্ট ছাত্র-জনতার অভ্যুত্থানে আওয়ামী লীগ সরকারের পতনের পর ২১ আগস্ট আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের প্রসিকিউটর কার্যালয়ে অভিযোগ দায়ের করেন সুখরঞ্জন বালী। অভিযোগে তিনি বলেন, দেলাওয়ার হোসাইন সাঈদীর বিরুদ্ধে সাক্ষ্য দিতে অস্বীকৃতি জানানো এবং পরে তার পক্ষে সাক্ষ্য দেওয়ার কারণে তাকে গুম ও নির্যাতনের শিকার হতে হয়েছে।

আরও পড়ুন: চীনের করিডোর প্রস্তাবে বাংলাদেশের কি শুধু ভূরাজনীতির সমীকরণ প্রশ্ন

এ মামলায় সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা, সাবেক প্রধান বিচারপতি সুরেন্দ্র কুমার সিনহাসহ ৩২ জনের নাম উল্লেখ করা হয়েছে। এছাড়া অজ্ঞাতনামা আরও ১০ থেকে ১৫ জনকে আসামি করা হয়েছে। অভিযুক্তদের মধ্যে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের সাবেক চেয়ারম্যান বিচারপতি নিজামুল হক নাসিম, সাবেক আইনমন্ত্রী শফিক আহমেদ, সাবেক আইন প্রতিমন্ত্রী কামরুল ইসলাম, সাবেক বিচারক বিচারপতি এ টি এম ফজলে কবির, সাবেক তদন্ত কর্মকর্তা হেলাল উদ্দিন এবং পিরোজপুর-১ আসনের সাবেক সংসদ সদস্য এ কে এম আউয়ালের নামও রয়েছে।

অভিযোগে সুখরঞ্জন বালী উল্লেখ করেন, ২০১০ সালের জুলাই-আগস্টে ট্রাইব্যুনালের তৎকালীন তদন্ত কর্মকর্তা হেলাল উদ্দিন তাকে পিরোজপুরের পাড়েরহাটের একটি স্কুলে ডেকে পাঠান। সেখানে একাত্তরে তার ভাই বিশাবালীর হত্যাকাণ্ডের বিষয়ে জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়। তিনি জানান, তার ভাইকে পাকিস্তানি হানাদার বাহিনী হত্যা করেছিল। তবে তদন্ত কর্মকর্তা তাকে দেলাওয়ার হোসাইন সাঈদীর নাম উল্লেখ করে সাক্ষ্য দিতে চাপ দেন। এতে রাজি না হওয়ায় তাকে মারধর করা হয় বলে অভিযোগ করেন তিনি।

পরে সাঈদীর ছেলে মাসুদ সাঈদী তার সঙ্গে যোগাযোগ করে প্রকৃত ঘটনা ট্রাইব্যুনালে তুলে ধরার অনুরোধ করলে তিনি সাক্ষ্য দিতে সম্মত হন। ২০১২ সালের ৫ নভেম্বর ট্রাইব্যুনালে পৌঁছানোর পর আদালতের ফটক থেকেই পুলিশ তাকে চোখ ও হাত বেঁধে তুলে নিয়ে যায় বলে অভিযোগে উল্লেখ করা হয়েছে।

সুখরঞ্জন বালীর ভাষ্য অনুযায়ী, তাকে প্রথমে জানালাবিহীন একটি কক্ষে দুই মাস এবং পরে অন্য একটি স্থানে আরও দুই মাস আটকে রেখে শারীরিক ও মানসিক নির্যাতন করা হয়। এরপর চোখ বাঁধা অবস্থায় সীমান্ত এলাকায় নিয়ে বিজিবির সহায়তায় তাকে ভারতের বৈকারী এলাকায় পাঠানো হয়। সেখানে বিএসএফ তাকে আটক করে বশিরহাটে নিয়ে যায়। পরে ২২ দিন বশিরহাট সাবজেলে রাখার পর তাকে দমদম কেন্দ্রীয় কারাগারে স্থানান্তর করা হয়।

তিনি আরও দাবি করেন, বিষয়টি জানার পর মাসুদ সাঈদী তার ছেলেকে ভারতে পাঠান। কারাগারে থাকাকালে বিভিন্ন আন্তর্জাতিক মানবাধিকার সংস্থা তার সঙ্গে সাক্ষাৎ করে নির্যাতনের অভিযোগ নথিভুক্ত করে। দেশে ফেরার পরও নিরাপত্তার কারণে তিনি নিজ এলাকায় না ফিরে আত্মগোপনে অন্য জেলায় অবস্থান করছেন।