যেকোনো বিদেশি হস্তক্ষেপের বিরুদ্ধে বাংলাদেশের পাশে থাকবে চীন: রাষ্ট্রদূত ইয়াও ওয়েন

Sanchoy Biswas
বাংলাবাজার রিপোর্ট
প্রকাশিত: ১:১৩ পূর্বাহ্ন, ০৩ জুলাই ২০২৬ | আপডেট: ২:৩৫ পূর্বাহ্ন, ০৩ জুলাই ২০২৬
ছবিঃ সংগৃহীত
ছবিঃ সংগৃহীত

বাংলাদেশের অভ্যন্তরীণ বিষয়ে যেকোনো ধরনের বিদেশি হস্তক্ষেপের বিরুদ্ধে চীন সবসময় বাংলাদেশের পাশে থাকবে বলে জানিয়েছেন ঢাকায় নিযুক্ত চীনের রাষ্ট্রদূত ইয়াও ওয়েন। তিনি বলেন, কোনো স্বাধীন দেশের অভ্যন্তরীণ বিষয়ে বাইরের হস্তক্ষেপের নীতিগতভাবে বিরোধিতা করে চীন এবং এই অবস্থান দীর্ঘদিনের পররাষ্ট্রনীতির অংশ।

বৃহস্পতিবার (২ জুলাই) সকালে রাজধানীর বারিধারায় চীনা দূতাবাসে আয়োজিত এক সংবাদ ব্রিফিংয়ে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে তিনি এসব কথা বলেন। প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সাম্প্রতিক চীন সফর এবং দুই দেশের দ্বিপাক্ষিক সম্পর্কের বিভিন্ন দিক তুলে ধরতে এই ব্রিফিংয়ের আয়োজন করা হয়।

আরও পড়ুন: ৩৪ কর্মকর্তাকে সহকারী সচিব পদে পদোন্নতি

রাষ্ট্রদূত ইয়াও ওয়েন বলেন, প্রধানমন্ত্রীর বেইজিং সফর শেষে প্রকাশিত যৌথ ইশতেহারে বাংলাদেশের অভ্যন্তরীণ বিষয়ে যেকোনো বিদেশি হস্তক্ষেপের বিরোধিতার বিষয়টি স্পষ্টভাবে উল্লেখ করা হয়েছে। তিনি বলেন, শুধু বাংলাদেশ নয়, বিশ্বের যেকোনো স্বাধীন দেশের অভ্যন্তরীণ বিষয়ে বাইরের হস্তক্ষেপের বিরোধিতা করে চীন।

তিনি আরও বলেন, চীন নিজেও বিভিন্ন সময় বিদেশি শক্তির হস্তক্ষেপের চেষ্টা মোকাবিলা করেছে। ফলে বাংলাদেশ বর্তমানে যে পরিস্থিতির মুখোমুখি, তা চীন অনুধাবন করতে পারে এবং এ বিষয়ে তাদের অবস্থান বাংলাদেশকে স্পষ্টভাবে জানানো হয়েছে।

আরও পড়ুন: ঢাকার বিমানবন্দরে ৪৫ কোটি টাকার স্বর্ণ আটকে তোলপাড়

এদিকে, প্রধানমন্ত্রীর চীন সফরের সময় বাংলাদেশ বেইজিং থেকে ‘জে-১০সি’ যুদ্ধবিমান কেনার সম্ভাবনা নিয়ে বিভিন্ন মহলে আলোচনা হলেও এ বিষয়ে সরাসরি কোনো মন্তব্য করতে চাননি রাষ্ট্রদূত। তবে তিনি জানান, যৌথ ইশতেহারে দুই দেশ প্রতিরক্ষা সহযোগিতা আরও জোরদারের বিষয়ে একমত হয়েছে।

তার ভাষ্য অনুযায়ী, প্রতিরক্ষা সহযোগিতার আওতায় উচ্চপর্যায়ের সংলাপ, পারস্পরিক সফর, সামরিক প্রশিক্ষণ এবং জাতিসংঘের শান্তিরক্ষা কার্যক্রমে সহযোগিতা ও যোগাযোগ বাড়ানোর বিষয়ে দুই দেশের মধ্যে ঐকমত্য হয়েছে।

সংবাদ ব্রিফিংয়ের শেষদিকে ইয়াও ওয়েন আশা প্রকাশ করেন, বাংলাদেশ ও চীনের সম্পর্ক নতুন উচ্চতায় পৌঁছেছে। ভবিষ্যতে প্রতিরক্ষা, অর্থনীতি, বাণিজ্যসহ পারস্পরিক স্বার্থসংশ্লিষ্ট সব ক্ষেত্রে সহযোগিতা আরও বিস্তৃত ও শক্তিশালী হবে বলেও তিনি আশাবাদ ব্যক্ত করেন।