আগামী মাসে চালু হচ্ছে ‘প্রবাসী কার্ড’, মিলবে ১০ বিশেষ সুবিধা

Sanchoy Biswas
বাংলাবাজার রিপোর্ট
প্রকাশিত: ৮:১৫ অপরাহ্ন, ১৮ জুলাই ২০২৬ | আপডেট: ৪:৪০ পূর্বাহ্ন, ১৯ জুলাই ২০২৬
ছবিঃ সংগৃহীত
ছবিঃ সংগৃহীত

সরকার আগামী মাসের মাঝামাঝিতে পরীক্ষামূলকভাবে ‘প্রবাসী কার্ড’ চালুর উদ্যোগ নিয়েছে। প্রথম পর্যায়ে জনতা ব্যাংকের মাধ্যমে প্রবাসী ডেবিট কার্ড ইস্যু করা হবে। এই কার্ডের মাধ্যমে প্রবাসী বাংলাদেশিরা দেশে ও বিদেশে বিভিন্ন আর্থিক, প্রশাসনিক ও বিশেষ সেবা গ্রহণের সুযোগ পাবেন।

শনিবার (১৮ জুলাই) দুপুরে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত প্রবাসী কার্ড বিষয়ক এক সভায় এ সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে বলে জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের উপ-প্রেস সচিব শাহাদাৎ স্বাধীন।

আরও পড়ুন: যত ট্রল-অপবাদই আসুক, দায়িত্ব থেকে বিচ্যুত হব না: শিক্ষামন্ত্রী

তিনি জানান, সরকারের নির্বাচনী অঙ্গীকার বাস্তবায়নের অংশ হিসেবে ফ্যামিলি কার্ড, কৃষক কার্ড ও ক্রীড়া কার্ডের পর এবার চালু হচ্ছে প্রবাসী কার্ড। এর মাধ্যমে প্রবাসীদের সামাজিক মর্যাদা বৃদ্ধি, আর্থিক ক্ষমতায়ন এবং আধুনিক ব্যাংকিং ও আন্তর্জাতিক লেনদেন সুবিধা নিশ্চিত করার লক্ষ্য নেওয়া হয়েছে।

প্রবাসী কার্ডে যে ১০টি বিশেষ সুবিধা মিলবে

আরও পড়ুন: বন্যায় প্রাণহানি বেড়ে ৫৯, ক্ষতিগ্রস্ত ৭ জেলার ৫৬ উপজেলা

  • দেশে ও বিদেশে কমপ্লিমেন্টারি এয়ারপোর্ট লাউঞ্জ ব্যবহারের সুযোগ এবং বিশেষ ইমিগ্রেশন বুথে দ্রুত সেবা।
  • আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে কমপ্লিমেন্টারি ‘মিট অ্যান্ড গ্রিট’ সুবিধা।
  • বিমানের টিকিট ও হোটেল বুকিংয়ে বিশেষ ছাড়।
  • দেশে-বিদেশে ন্যায্যমূলে গাড়ি বুকিং এবং সিগনেচার কার্ডধারীদের জন্য এয়ারপোর্ট পিক-আপ ও ড্রপ সেবা।
  • সরকারি হাসপাতালে প্রবাসী সেবা বুথ এবং বেসরকারি হাসপাতালে চিকিৎসায় ছাড়।
  • কার্ডধারীর মৃত্যুর ক্ষেত্রে বিনা খরচে মরদেহ দেশে পরিবহন।
  • প্রবাসফেরতদের পুনর্বাসন ও বীমা সুবিধা।
  • জমি রেজিস্ট্রেশন, নামজারি, ইউটিলিটি সংযোগ, লাইসেন্স এবং বৈদেশিক বিনিয়োগে অগ্রাধিকারমূলক সেবা।
  • রেমিট্যান্স রিওয়ার্ড পয়েন্ট, ক্রেডিট স্কোরিং, ঋণ সুবিধা এবং কার্ডের মাধ্যমে সহজে অর্থ লেনদেন।
  • জাতীয় পরিচয়পত্র (এনআইডি), পাসপোর্ট, কনস্যুলার সেবা এবং অন্যান্য সরকারি ও ব্যাংকিং সেবায় অগ্রাধিকার।

শাহাদাৎ স্বাধীন জানান, পরীক্ষামূলকভাবে আগামী মাসের মাঝামাঝি প্রবাসী কার্ড চালু হবে। ডিসেম্বরের মধ্যে ৫০ হাজার এবং আগামী বছরের জুনের মধ্যে ২ লাখ প্রবাসীর হাতে এই কার্ড পৌঁছে দেওয়ার লক্ষ্য নির্ধারণ করা হয়েছে।

তিনি আরও জানান, দ্বিতীয় পর্যায়ে প্রবাসী কল্যাণ ব্যাংকের মাধ্যমে প্রবাসী কার্ডের সব কার্যক্রম পরিচালিত হবে।

সভায় প্রধানমন্ত্রী জাতীয় দক্ষতা উন্নয়ন কর্তৃপক্ষকে আরও আধুনিক ও সময়োপযোগী করার নির্দেশনা দেন। পাশাপাশি বিশ্বের বিভিন্ন দেশে অবস্থানরত বাংলাদেশিরা যাতে এই কার্ডের আওতায় আসতে পারেন, সে বিষয়ে সংশ্লিষ্টদের প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিতে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

সভায় বৈদেশিক কর্মসংস্থান ও প্রবাসী কল্যাণ মন্ত্রী আরিফুল হক চৌধুরী, প্রতিমন্ত্রী নুরুল হক নুর, প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা রেহান আসিফ আসাদ ও মাহদী আমিন, বৈদেশিক কর্মসংস্থান ও প্রবাসী কল্যাণ সচিব মোখতার আহমেদ, প্রধানমন্ত্রীর বিশেষ সহকারী শাকিরুল ইসলাম খান, বিএমইটির মহাপরিচালক জামিল আহমেদসহ সংশ্লিষ্ট ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।