শরিকদের মধ্যে মতভিন্নতা থাকতে পারে, বিভেদ নয়: প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান
যুগপৎ আন্দোলনে অংশ নেওয়া শরিক রাজনৈতিক দলগুলোর মধ্যে মতের পার্থক্য থাকতে পারে, তবে কোনো বিভেদ নেই বলে মন্তব্য করেছেন প্রধানমন্ত্রী ও বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান। তিনি বলেন, ৩১ দফা ও জুলাই সনদের আলোকে সবাইকে সঙ্গে নিয়েই দেশকে সামনের দিকে এগিয়ে নেওয়া হবে।
সোমবার (২০ জুলাই) সন্ধ্যায় রাষ্ট্রীয় অতিথি ভবন যমুনায় যুগপৎ আন্দোলনের শরিক দলগুলোর নেতাদের সম্মানে আয়োজিত নৈশভোজের আগে সংক্ষিপ্ত বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।
আরও পড়ুন: দেশে থামছে না হামের প্রাদুর্ভাব, আরও ৪ শিশুর মৃত্যু
প্রধানমন্ত্রী বলেন, আন্দোলন-সংগ্রামে সবাই একসঙ্গে ছিলেন এবং ভবিষ্যতেও ঐক্য অটুট থাকবে। তিনি বলেন, "আমাদের মধ্যে মতভিন্নতা থাকতে পারে, তবে বিভেদের কোনো কারণ নেই। লক্ষ্য ও উদ্দেশ্য এক হওয়ায় রাষ্ট্র সংস্কার ও জনগণের প্রত্যাশা পূরণে আমরা একসঙ্গেই কাজ করব।"
৩১ দফার পক্ষে জনগণের রায়
আরও পড়ুন: হজযাত্রীদের জন্য বড় স্বস্তির খবর!
তারেক রহমান বলেন, যুগপৎ আন্দোলনের সময় শরিক দলগুলো যৌথভাবে রাষ্ট্র সংস্কারের ৩১ দফা জনগণের সামনে তুলে ধরেছিল। তার দাবি, সাম্প্রতিক নির্বাচনে জনগণ সেই ৩১ দফার পক্ষেই রায় দিয়েছে।
তিনি বলেন, এখন ৩১ দফা শুধু রাজনৈতিক দলগুলোর কর্মসূচি নয়, এটি দেশের মানুষের প্রত্যাশায় পরিণত হয়েছে। রাষ্ট্র সংস্কার ও গণতান্ত্রিক প্রতিষ্ঠান শক্তিশালী করার কাজই এখন সরকারের প্রধান দায়িত্ব বলে উল্লেখ করেন তিনি।
'ঐক্য ধরে রাখতে হবে'
প্রধানমন্ত্রী বলেন, জনগণ বর্তমান সরকারের ওপর যে আস্থা রেখেছে, তা ধরে রাখতে হলে শরিকদের ঐক্যবদ্ধ থাকতে হবে।
তার ভাষায়, "জনগণ প্রত্যাশা নিয়ে আমাদের দায়িত্ব দিয়েছে। আগে সেই দায়িত্ব পালন করতে হবে, পরে নিজেদের বিষয় নিয়ে ভাবার সুযোগ আসবে।"
অতীতের আন্দোলনের প্রসঙ্গ
আন্দোলন-সংগ্রামের সময় কিছু রাজনৈতিক শক্তিকে রাজপথে দেখা যায়নি বলে মন্তব্য করেন তারেক রহমান। তিনি বলেন, যারা এখন বিভিন্ন দাবি করছে, তাদের অনেককেই দীর্ঘ আন্দোলনের সময় মাঠে দেখা যায়নি।
তিনি আরও দাবি করেন, জনগণ আন্দোলনে ভূমিকা রাখা রাজনৈতিক শক্তির প্রতিই আস্থা রেখেছে এবং সেই কারণেই বর্তমান সরকার দায়িত্ব পালনের সুযোগ পেয়েছে।
অন্তর্বর্তী সরকারের প্রসঙ্গ
বক্তব্যে তারেক রহমান বলেন, অন্তর্বর্তী সরকারের এক সাবেক উপদেষ্টার সঙ্গে আলাপচারিতায় তিনি জানতে পেরেছেন, ওই সরকারের সময় প্রশাসনের বিভিন্ন স্তরে একটি বিশেষ গোষ্ঠীর প্রভাব ছিল বলে অভিযোগ রয়েছে।
তবে তিনি ওই উপদেষ্টার নাম প্রকাশ করেননি।
অর্থনীতি ও রাষ্ট্র সংস্কারের চ্যালেঞ্জ
প্রধানমন্ত্রী বলেন, দীর্ঘ সময়ের শাসনের ফলে অর্থনীতি, বিদ্যুৎ, জ্বালানি, স্বাস্থ্য, শিক্ষা ও যোগাযোগ খাতে যে সংকট তৈরি হয়েছে, তা মোকাবিলা করে দেশকে এগিয়ে নেওয়াই বর্তমান সরকারের অন্যতম চ্যালেঞ্জ।
তিনি শরিক দলগুলোর প্রতি ধৈর্য ধরে জনগণের প্রত্যাশা পূরণে একযোগে কাজ করার আহ্বান জানান।
শরিক নেতাদের সঙ্গে নৈশভোজ
অনুষ্ঠানে প্রধানমন্ত্রী শরিক দলগুলোর নেতাদের সঙ্গে কুশল বিনিময় করেন এবং পরে একসঙ্গে নৈশভোজে অংশ নেন।
অনুষ্ঠানে স্বাগত বক্তব্য দেন বিএনপি মহাসচিব ও স্থানীয় সরকারমন্ত্রী মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর।
এ সময় জাতীয় পার্টি (কাজী জাফর)-এর চেয়ারম্যান মোস্তফা জামাল হায়দার, নাগরিক ঐক্যের সভাপতি মাহমুদুর রহমান মান্না, বিপ্লবী ওয়ার্কার্স পার্টির সাধারণ সম্পাদক সাইফুল হক, জমিয়তে উলামায়ে ইসলামের মুফতি মহিউদ্দিন ইকরামসহ যুগপৎ আন্দোলনের শরিক দলগুলোর শীর্ষ নেতারা উপস্থিত ছিলেন।





