র‍্যাবের বন্দিশালায় ২৯টি ছোট কক্ষ, ৭টি কক্ষ ব্যবহৃত হতো ‘ডেথ সেল’ হিসেবে

Sadek Ali
বাংলাবাজার ডেস্ক
প্রকাশিত: ৯:০৬ পূর্বাহ্ন, ০২ অগাস্ট ২০২৬ | আপডেট: ৯:০৬ পূর্বাহ্ন, ০২ অগাস্ট ২০২৬
ছবিঃ সংগৃহীত
ছবিঃ সংগৃহীত

শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের পাশে অবস্থিত র‍্যাব-১ কার্যালয়ের মূল ফটক পেরিয়ে প্রধান ভবনের পেছনে রয়েছে দেয়াল ও কাঁটাতারে ঘেরা একটি দোতলা ভবন। ভবনটিতে প্রবেশের জন্য রয়েছে আলাদা ফটক। ভেতরে ঢুকতেই চোখে পড়ে দেড় ফুট চওড়া একটি ছোট দরজা। সেই দরজা পেরোলেই সারিবদ্ধ ছোট ছোট কক্ষের দেখা মেলে।

এটিই র‍্যাব কার্যালয়ের ভেতরের বহুল আলোচিত ‘আয়নাঘর’। আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের তদন্ত–সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের ভাষ্য অনুযায়ী, এই বন্দিশালার সাতটি কক্ষ ‘ডেথ সেল’ বা ‘যম সেল’ হিসেবে ব্যবহৃত হতো।

আরও পড়ুন: দন্তচিকিৎসক পিনু হত্যা: জুতার ছাপের সূত্র ধরে পুলিশের হাতে স্বামী

ভবনের নিচতলায় প্রবেশের পর দরজার পাশেই রয়েছে দোতলায় ওঠার সিঁড়ি। কিছুটা ওপরে উঠে আবার নিচের দিকে নামার আরেকটি সিঁড়ি রয়েছে। সেই পথে নামলেই দেখা যায় আরও প্রায় ১০টি ছোট কক্ষ। দুই ফুট চওড়া ও চার ফুট লম্বা এসব কক্ষে একজন মানুষের স্বাভাবিকভাবে শোবারও পর্যাপ্ত জায়গা নেই। এছাড়া দোতলার পশ্চিম পাশে তুলনামূলক বড় ১০টি কক্ষ এবং ওই পাশজুড়ে আরও দুটি কক্ষ রয়েছে। সব মিলিয়ে এই বন্দিশালায় মোট ২৯টি ছোট কক্ষ রয়েছে। অভিযোগ রয়েছে, আওয়ামী লীগ সরকারের সময়ে এসব কক্ষেই গুমের শিকার ব্যক্তিদের আটকে রাখা হতো।

পরিদর্শন শেষে চিফ প্রসিকিউটর আমিনুল ইসলাম বলেন, এই গোপন বন্দিশালায় ‘ডেথ সেল’ নামে পরিচিত মোট ২৯টি বিশেষ কক্ষের সন্ধান মিলেছে। আয়নাঘর গড়ে তোলার পেছনে রাজনৈতিক দল হিসেবে আওয়ামী লীগের প্রত্যক্ষ দায় রয়েছে এবং তৎকালীন সরকারের মাধ্যমে শাসনব্যবস্থায় তোপ ও ফ্যাসিবাদের রূপ দেওয়া হয়েছিলো। এর সঙ্গে যুক্ত প্রতিটি রাজনৈতিক ব্যক্তি, নেতা ও সংশ্লিষ্ট সবাইকে দ্রুত আইনের আওতায় আনা হবে। একই সঙ্গে আয়নাঘরের আলামত ও প্রমাণ লোপাটের চেষ্টার সঙ্গে যারা জড়িত, তদন্তের মাধ্যমে তাদেরও বিচারের মুখোমুখি করা হবে।

আরও পড়ুন: বাংলাদেশে বিনিয়োগে ইতিবাচক বার্তা

পরিদর্শনকালে জানানো হয়, বিএনপি নেতা ও বর্তমান স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদকেও এই বন্দিশালায় গুম করে রাখা হয়েছিলো।

প্রতিনিধি দলে উপস্থিত ছিলেন আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-১–এর চেয়ারম্যান বিচারপতি মো. গোলাম মর্তূজা মজুমদার, ট্রাইব্যুনালের সদস্য বিচারপতি মো. শফিউল আলম মাহমুদ এবং বিচারক মো. মোহিতুল হক এনাম চৌধুরী।

এছাড়া প্রসিকিউশন টিমের পক্ষে উপস্থিত ছিলেন প্রসিকিউটর মিজানুল ইসলাম, প্রসিকিউটর গাজী এমএইচ তামিম, ফারুক আহাম্মদ, শাইখ মাহদী, সহিদুল ইসলাম সরদার, তাসমিরুল ইসলাম এবং আসামিপক্ষের আইনজীবীরা।

এর আগে, গত ২১ জুলাই চিফ প্রসিকিউটরের আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে এই পরিদেশের সিদ্ধান্ত দেন ট্রাইব্যুনাল-১। ওই আবেদনে ডিজিএফআই, র‍্যাব ও ডিবির অধীনে পরিচালিত বিভিন্ন গোপন বন্দিশালা পরিদর্শনের অনুমতি চাওয়া হয়। শুনানিতে আওয়ামী লীগ সরকারের শাসনামলে এসব গোপন আস্তানায় বিরোধী মতাদর্শের মানুষদের তুলে এনে দিনের পর দিন নির্যাতন ও গুম করে রাখার বিস্তারিত তথ্য ট্রাইব্যুনালের সামনে তুলে ধরা হয়েছিলো।