কমতে পারে মোবাইল কলরেট, ফ্লোর প্রাইস কমানোর কাজ চলছে: বিটিআরসি

Any Akter
বাংলাবাজার ডেস্ক
প্রকাশিত: ৬:৪৪ অপরাহ্ন, ১৯ অগাস্ট ২০২৬ | আপডেট: ৮:১৮ অপরাহ্ন, ১৯ অগাস্ট ২০২৬
ছবিঃ সংগৃহীত
ছবিঃ সংগৃহীত

মোবাইল ফোনে কথা বলার খরচ কমানোর উদ্যোগ নিয়েছে বাংলাদেশ টেলিযোগাযোগ নিয়ন্ত্রণ কমিশন (বিটিআরসি)। গ্রাহকদের সুবিধার কথা বিবেচনায় নিয়ে বর্তমানে নির্ধারিত ভয়েস কলের সর্বনিম্ন রেট বা ‘ফ্লোর প্রাইস’ কমানোর বিষয়ে কাজ চলছে বলে জানিয়েছে সংস্থাটি। বুধবার (১৯ আগস্ট) রাজধানীর আগারগাঁওয়ে বিটিআরসি ভবনে আয়োজিত গণশুনানিতে এক গ্রাহকের প্রশ্নের জবাবে এ তথ্য জানানো হয়।

গণশুনানিতে দেশের টেলিযোগাযোগ সেবার মান, নেটওয়ার্ক কাভারেজ, কলড্রপ, ভয়েস ও ডাটার মূল্য, ডাটা ক্যারি-ফরওয়ার্ড, সিম নিবন্ধন ও এনইআইআরসহ বিভিন্ন বিষয়ে গ্রাহকদের অভিযোগ ও প্রশ্নের জবাব দেন বিটিআরসির কর্মকর্তারা।

আরও পড়ুন: ১২ ঘণ্টার প্যারোলে মুক্তি পেলেন দীপু মনি

জামালপুর থেকে গণশুনানিতে অংশ নেওয়া রকীব রায়হান মোবাইল কলরেট কমানোর পাশাপাশি গ্রামাঞ্চলে রাষ্ট্রায়ত্ত মোবাইল অপারেটর টেলিটকের নেটওয়ার্ক সম্প্রসারণের দাবি জানান। জবাবে বিটিআরসি জানায়, বর্তমানে ভয়েস কলের সর্বনিম্ন ট্যারিফ ৪৫ পয়সা এবং সর্বোচ্চ ২ টাকা নির্ধারিত রয়েছে। গ্রাহকদের সুবিধা বিবেচনায় সর্বনিম্ন রেট বা ফ্লোর প্রাইস কমানোর বিষয়ে কাজ চলছে।

টেলিটকের নেটওয়ার্ক সম্প্রসারণের বিষয়ে বিটিআরসির প্রকৌশল ও পরিচালনা বিভাগের মহাপরিচালক ব্রিগেডিয়ার জেনারেল শফিসুল আলম পারভেজ বলেন, রোলআউট বাধ্যবাধকতা পূরণের পাশাপাশি হাওরসহ দেশের দুর্গম ও প্রত্যন্ত এলাকায় নেটওয়ার্ক জোরদারে একাধিক প্রকল্প বাস্তবায়নের কাজ চলছে।

আরও পড়ুন: নিহতদের পাঁচজন বাংলাদেশি, চারজন একই পরিবারের সদস্য: পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়

গাজীপুর থেকে তৌহিদ হাসান অভিযোগ করেন, মাস্কিং ছাড়া আনমাস্কড এসএমএস আসায় স্প্যাম বার্তা শনাক্ত করা কঠিন হচ্ছে। একই সঙ্গে বিদেশি ওটিপি পেতেও কখনো দেরি হচ্ছে। বিটিআরসি জানায়, সব ধরনের বার্তা পর্যায়ক্রমে মাস্কিংয়ের আওতায় আনা হচ্ছে। তবে প্রযুক্তিগত জটিলতার কারণে বিদেশি ওটিপি পেতে কখনো কখনো বিলম্ব হতে পারে।

ডাটা প্যাকেজের ভিন্নতা নিয়ে আনোয়ার সাদাতের প্রশ্নের জবাবে কমিশন জানায়, প্রতিটি প্যাকেজের শর্ত গ্রাহকদের কাছে স্পষ্টভাবে তুলে ধরতে মোবাইল অপারেটরদের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

বিদ্যুৎ বিভ্রাটের সময় নেটওয়ার্ক সচল রাখা নিয়েও প্রশ্ন করেন গ্রাহকেরা। বিটিআরসি জানায়, নেটওয়ার্ক সচল রাখার সক্ষমতা বাড়াতে একটি প্ল্যাটফর্ম তৈরি করা হয়েছে। এর মাধ্যমে সারাদেশের মোবাইল টাওয়ারের পরিস্থিতি সরাসরি পর্যবেক্ষণ করা হচ্ছে।

মোবাইল টাওয়ারের তড়িৎচুম্বকীয় বিকিরণ নিয়েও গণশুনানিতে প্রশ্ন ওঠে। ফুয়াদ হাসান খানের প্রশ্নের জবাবে বিটিআরসি জানায়, দেশের বিভিন্ন স্থানে মোবাইল টাওয়ারের বিকিরণ নিয়মিত পরিমাপ করা হয়। সংস্থাটির দাবি, পরিমাপের ফলাফলে দেখা গেছে, বাংলাদেশে মোবাইল টাওয়ার থেকে নির্গত বিকিরণের মাত্রা জাতীয় ও আন্তর্জাতিক নিরাপত্তা মানদণ্ডের তুলনায় অনেক নিচে। বিটিআরসির ভাষ্য অনুযায়ী, বিদ্যমান মাত্রা মানবস্বাস্থ্য ও পরিবেশের জন্য নিরাপদ।

গ্রাহকদের অভিযোগ জানানোর পদ্ধতি সম্পর্কে বিটিআরসি জানায়, কলসেন্টার ১০০, ওয়েবসাইট ও জিআরএস প্ল্যাটফর্মের মাধ্যমে অভিযোগ করা যাচ্ছে। ২০২৫ সালের জুলাই থেকে ২০২৬ সালের জুন পর্যন্ত কমিশনে মোট ১৩ হাজার ৯টি অভিযোগ পাওয়া গেছে। এর মধ্যে ১১ হাজার ২৭৯টি, অর্থাৎ ৮৬ দশমিক ৭০ শতাংশ অভিযোগ নিষ্পত্তি করা হয়েছে।

তবে এই হারে পুরোপুরি সন্তুষ্ট নয় বিটিআরসি। দ্রুততার সঙ্গে শতভাগ অভিযোগ নিষ্পত্তি করাই কমিশনের লক্ষ্য বলে জানানো হয়েছে।

এ ছাড়া টেলিযোগাযোগ সেবার মান বা ‘কোয়ালিটি অব সার্ভিস’ উন্নয়নের অংশ হিসেবে খুব শিগগির বিটিআরসির ওয়েবসাইটে মাসভিত্তিক তথ্য প্রকাশ করা হবে বলেও কর্মকর্তারা জানিয়েছেন।