দেশের ২৩তম রাষ্ট্রপতি নির্বাচন আজ

Sadek Ali
বাংলাবাজার ডেস্ক
প্রকাশিত: ৮:২১ পূর্বাহ্ন, ২০ অগাস্ট ২০২৬ | আপডেট: ৭:০৩ অপরাহ্ন, ২০ অগাস্ট ২০২৬
ছবিঃ সংগৃহীত
ছবিঃ সংগৃহীত

দীর্ঘ ৩৫ বছর পর আবারও প্রতিদ্বন্দ্বিতার মধ্য দিয়ে রাষ্ট্রপতি নির্বাচন হতে যাচ্ছে বাংলাদেশে। বৃহস্পতিবার (২০ আগস্ট) জাতীয় সংসদ ভবনের সংসদ কক্ষে দেশের ২৩তম রাষ্ট্রপতি নির্বাচনের ভোট গ্রহণ অনুষ্ঠিত হবে।

এবারের নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন বিএনপির প্রার্থী মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর এবং জামায়াত নেতৃত্বাধীন ১১-দলীয় ঐক্যের প্রার্থী কর্নেল (অব.) অলি আহমদ।

আরও পড়ুন: রাষ্ট্রপতির শপথের সঙ্গে সঙ্গে এমপি ও মন্ত্রী পদ শূন্য হবে: চিফ হুইপ

বৃহস্পতিবার দুপুর ২টা থেকে বিকেল ৫টা পর্যন্ত ভোট গ্রহণ চলবে। ভোট শেষ হওয়ার পর সংসদ কক্ষেই ব্যালট গণনা করা হবে। এরপর নির্বাচনী কর্তা ও প্রধান নির্বাচন কমিশনার (সিইসি) এ এম এম নাসির উদ্দিন ফল ঘোষণা করবেন।

চিফ হুইপ নুরুল ইসলাম মনি জানান, জাতীয় সংসদের প্লেনারি হলে, যেখানে সাধারণত সংসদ সদস্যরা অধিবেশনে বসেন, সেখানেই ভোট গ্রহণের ব্যবস্থা করা হয়েছে। সিইসি ভোটের স্থান নির্ধারণ করেছেন। প্রত্যেক সংসদ সদস্যকে একটি করে ব্যালট পেপার দেওয়া হবে। প্রার্থীর নামের পাশে নির্ধারিত স্থানে স্বাক্ষর করে ভোট দেওয়ার পর ব্যালট নির্দিষ্ট বাক্সে জমা দিতে হবে।

আরও পড়ুন: মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর রাষ্ট্রপতি নির্বাচিত

ভোটারদের সুবিধার জন্য ভোটকেন্দ্রে তিনটি ব্যালট বাক্স রাখা হবে। একই সময়ে অতিরিক্ত ভিড় এড়াতে পর্যায়ক্রমে সংসদ সদস্যদের ব্যালট পেপার দেওয়া হবে। সিইসি, নির্বাচন কমিশনের কর্মকর্তা, সংসদ সচিবালয়ের কর্মকর্তা ও সংশ্লিষ্টরা ভোটকেন্দ্রে দায়িত্ব পালন করবেন।

রাষ্ট্রপতি নির্বাচন ঘিরে ভোটগ্রহণের গুরুত্বপূর্ণ কিছু অংশ সরাসরি সম্প্রচার করা হবে। চিফ হুইপ জানান, ভোট শুরুর প্রথম ২০ মিনিট সরাসরি সম্প্রচার করা হবে। এ সময় রাষ্ট্রপতি, স্পিকার, প্রধানমন্ত্রী, বিরোধীদলীয় নেতা এবং রাষ্ট্রপতি পদে প্রতিদ্বন্দ্বী কোনো প্রার্থী সংসদ সদস্য হলে তার ভোট দেওয়ার দৃশ্য দেখানো হবে। ভোটের শেষ পর্যায়েও সরাসরি সম্প্রচার থাকবে। ভোট শেষে ব্যালট বাক্স খোলা, ভোট গণনা ও ফল ঘোষণা পর্যন্ত কার্যক্রমও সরাসরি সম্প্রচার করা হবে।

তিনি আরও জানান, শুক্রবার (২১ আগস্ট) সন্ধ্যা সাড়ে ৭টায় বঙ্গভবনে নির্বাচিত রাষ্ট্রপতির শপথ অনুষ্ঠিত হবে।

৭০ অনুচ্ছেদ ঘিরে বিশেষ গুরুত্ব

এবারের রাষ্ট্রপতি নির্বাচনে সংবিধানের ৭০ অনুচ্ছেদ কার্যকর থাকার বিষয়টি বিশেষ গুরুত্ব পাচ্ছে। গত ১১ আগস্ট রাষ্ট্রপতি নির্বাচন নিয়ে এক সংবাদ সম্মেলনে চিফ হুইপ নুরুল ইসলাম মনি জানিয়েছিলেন, নির্বাচনে দলীয় সিদ্ধান্তের বাইরে গিয়ে ভোট দিলে সংশ্লিষ্ট সংসদ সদস্যের আসন শূন্য হবে।

এদিকে বুধবার (১৯ আগস্ট) নির্বাচন ভবনে রাষ্ট্রপতি নির্বাচন নিয়ে ব্রিফিংয়ে সিইসি এ এম এম নাসির উদ্দিন এবারের নির্বাচনকে ঐতিহাসিক হিসেবে উল্লেখ করেন। তিনি বলেন, মেয়াদ শেষ হওয়ার আগেই একজন রাষ্ট্রপতির পদত্যাগ এবং দীর্ঘ সময় পর প্রতিদ্বন্দ্বিতার মাধ্যমে রাষ্ট্রপতি নির্বাচন হওয়ায় এ নির্বাচন নিয়ে মানুষের আগ্রহ তৈরি হয়েছে।

সিইসি জানান, ১৯৯১ সালের পর প্রতিদ্বন্দ্বিতার মাধ্যমে আর কোনো রাষ্ট্রপতি নির্বাচন হয়নি। দীর্ঘ বিরতির কারণে প্রাতিষ্ঠানিক অভিজ্ঞতায় কিছুটা ঘাটতি থাকলেও নির্বাচন আয়োজনের জন্য প্রয়োজনীয় প্রস্তুতি সম্পন্ন করা হয়েছে।

ইসি সচিব আখতার আহমেদ জানান, বৃহস্পতিবার দুপুর ২টা থেকে বিকেল ৫টা পর্যন্ত সংসদ কক্ষে ভোট গ্রহণ হবে। ভোট শেষে সেখানেই গণনা করে ফল ঘোষণা করা হবে। পরে নির্বাচিত রাষ্ট্রপতির নামে গেজেট প্রকাশ করবে নির্বাচন কমিশন।

ভোটার ৩৪৯ সংসদ সদস্য

সংরক্ষিত নারী আসনসহ জাতীয় সংসদের মোট সদস্যসংখ্যা ৩৫০ জন। তবে বিএনপির সংসদ সদস্য আসলাম চৌধুরীর সদস্যপদ আদালতের রায়ে বাতিল হওয়ায় এবার রাষ্ট্রপতি নির্বাচনে ভোটার হিসেবে থাকছেন ৩৪৯ জন সংসদ সদস্য।

ইসি জানিয়েছে, সংসদ সদস্যরা ব্যালট গ্রহণের পর নির্ধারিত স্থানে প্রার্থীর নামের পাশে স্বাক্ষর করে ভোট দেবেন। এরপর ব্যালট নির্দিষ্ট বাক্সে জমা দিতে হবে। বিকেল ৫টায় ভোট গ্রহণ শেষ হওয়ার পরপরই গণনা শুরু হবে। ভোটের ব্যালট সাদা কাগজে কালো কালিতে ছাপানো হয়েছে।

জয় অনেকটাই নিশ্চিত মির্জা ফখরুলের

রাষ্ট্রপতি নির্বাচনে ক্ষমতাসীন বিএনপির প্রার্থী মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। অন্যদিকে জামায়াত নেতৃত্বাধীন ১১-দলীয় ঐক্যের প্রার্থী কর্নেল (অব.) অলি আহমদ। নির্ধারিত সময়ের মধ্যে দুই প্রার্থীর কেউই মনোনয়ন প্রত্যাহার না করায় তাদের মধ্যেই ভোট অনুষ্ঠিত হচ্ছে।

জাতীয় সংসদে বিএনপির দুই-তৃতীয়াংশের বেশি সংখ্যাগরিষ্ঠতা থাকায় দলটির প্রার্থী মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরের জয় অনেকটাই নিশ্চিত বলে মনে করা হচ্ছে।

তবে পরাজয়ের সম্ভাবনা থাকার পরও রাষ্ট্রপতি নির্বাচনে প্রার্থী দেওয়ার কারণ ব্যাখ্যা করেছেন বিরোধীদলীয় চিফ হুইপ ও জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) আহ্বায়ক নাহিদ ইসলাম। তার মতে, দীর্ঘ প্রায় ৩৫ বছর পর প্রতিদ্বন্দ্বিতাপূর্ণ রাষ্ট্রপতি নির্বাচন হওয়ায় গণতন্ত্রের স্বার্থে অংশগ্রহণমূলক নির্বাচন প্রয়োজন ছিল। পাশাপাশি নির্বাচনের মাধ্যমে দেশের মানুষের কাছে তাদের রাজনৈতিক অবস্থান তুলে ধরার সুযোগও তৈরি হয়েছে।

সর্বশেষ প্রতিদ্বন্দ্বিতাপূর্ণ নির্বাচন ১৯৯১ সালে

দেশে সর্বশেষ প্রতিদ্বন্দ্বিতাপূর্ণ রাষ্ট্রপতি নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়েছিল ১৯৯১ সালে, ১৯৯০ সালের গণঅভ্যুত্থানের পর। ওই নির্বাচনে ক্ষমতাসীন বিএনপির প্রার্থী ছিলেন আবদুর রহমান বিশ্বাস। তার প্রতিদ্বন্দ্বী ছিলেন আওয়ামী লীগের মনোনীত সাবেক প্রধান বিচারপতি বদরুল হায়দার চৌধুরী। ভোটে জয়ী হয়ে রাষ্ট্রপতি নির্বাচিত হন আবদুর রহমান বিশ্বাস।