সন্ত্রাসী, চাঁদাবাজ ও মাদক ব্যবসায়ীদের দ্রুত গ্রেপ্তারের নির্দেশ স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর

Sanchoy Biswas
বাংলাবাজার রিপোর্ট
প্রকাশিত: ৭:৪৮ অপরাহ্ন, ২২ অগাস্ট ২০২৬ | আপডেট: ৯:০৬ অপরাহ্ন, ২২ অগাস্ট ২০২৬
ছবিঃ সংগৃহীত
ছবিঃ সংগৃহীত

ঢাকাসহ সারাদেশে চিহ্নিত সন্ত্রাসী, চাঁদাবাজ ও মাদক ব্যবসায়ীদের দ্রুত আইনের আওতায় আনার নির্দেশ দিয়েছেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ। এ ক্ষেত্রে ব্যর্থ হলে সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে ‘জিরো টলারেন্স’ নীতিতে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলে সতর্ক করেছেন তিনি।

শনিবার রাজধানীর ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে শান্তিনগরে হামলায় আহত চিকিৎসক অধ্যাপক ডা. মো. আসাদুর রহমানকে দেখতে গিয়ে সাংবাদিকদের ব্রিফিংকালে এসব কথা বলেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী।

আরও পড়ুন: তেজগাঁও থানা আকস্মিক পরিদর্শনে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী, সেবা নিশ্চিতের নির্দেশ

স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, ঢাকা মেট্রোপলিটন এলাকাসহ অন্যান্য মেট্রো শহর এবং সারাদেশে চিহ্নিত চাঁদাবাজ, সন্ত্রাসী ও মাদক ব্যবসায়ীদের দ্রুত আইনের আওতায় আনতে হবে। যারা এ দায়িত্ব পালনে ব্যর্থ হবেন, তাদের বিরুদ্ধেও কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

সম্প্রতি শান্তিনগরে চিকিৎসক ডা. মো. আসাদুর রহমানের ওপর হামলার ঘটনায় আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর তৎপরতার কথা তুলে ধরে তিনি বলেন, ঘটনার ৪৮ ঘণ্টার মধ্যে সংঘবদ্ধ চাঁদাবাজ চক্রের সাত সদস্যের মধ্যে মূল হোতাসহ চারজনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।

আরও পড়ুন: তারেক রহমানের নেতৃত্বে নতুন করে বাংলাদেশ গড়ব: মঈন খান

মন্ত্রী জানান, গ্রেপ্তার ব্যক্তিদের একজনকে ঘটনাস্থল থেকে এবং অন্যদের লক্ষ্মীপুর, যাত্রাবাড়ীর দনিয়া ও সাঁতারকুল এলাকা থেকে গ্রেপ্তার করা হয়। দ্রুততম সময়ে অভিযুক্তদের শনাক্ত ও গ্রেপ্তার করায় পুলিশ ও গোয়েন্দা শাখার (ডিবি) সদস্যদের প্রশংসা করেন তিনি।

প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদের বরাত দিয়ে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, চক্রটির মূল হোতা বিদেশে অবস্থানকালে হুন্ডি ব্যবসায় ক্ষতিগ্রস্ত হয়ে দেশে ফিরে একটি অপরাধী চক্র গড়ে তোলেন। বড় হাসপাতাল, খ্যাতিমান চিকিৎসক, প্রকৌশলী ও ধনাঢ্য পেশাজীবীদের টার্গেট করে ভয়ভীতি প্রদর্শন, বার্তা পাঠানো এবং পরবর্তী সময়ে শারীরিক হামলার মাধ্যমে মোটা অঙ্কের চাঁদা আদায় করাই ছিল চক্রটির উদ্দেশ্য।

তিনি বলেন, চাঁদাবাজদের কোনো ধরনের অপতৎপরতা সহ্য করা হবে না। চাঁদাবাজি নির্মূল না হওয়া পর্যন্ত আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর অভিযান অব্যাহত থাকবে।

পুলিশের স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা নিশ্চিত করার বিষয়ে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, শুধু চাঁদাবাজ ও অপরাধীদের তালিকা নয়, চাঁদাবাজির সঙ্গে পুলিশের কোনো সদস্য জড়িত বা সহযোগিতা করলে তাদের তালিকাও তৈরি করা হচ্ছে। অপরাধী কিংবা তাদের মদদদাতা যতই প্রভাবশালী হোক, কাউকেই আইনের ঊর্ধ্বে রাখা হবে না।

চিকিৎসক ও অন্যান্য পেশাজীবীদের নিরাপত্তা প্রসঙ্গে তিনি জানান, দেশের স্বাস্থ্যসেবা প্রতিষ্ঠানগুলোর নিরাপত্তা জোরদারে ৫০০টি হাসপাতালে ১০ জন করে আনসার সদস্য মোতায়েন করা হচ্ছে। কোনো চিকিৎসক নিজস্ব চেম্বার বা ক্লিনিকে নিরাপত্তাঝুঁকি অনুভব করলে পুলিশকে অবহিত করার পরামর্শ দেন তিনি।

ব্যক্তিগত আগ্নেয়াস্ত্রের লাইসেন্স প্রসঙ্গে এক প্রশ্নের জবাবে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, বিদ্যমান আইন ও শর্ত পূরণ সাপেক্ষে যেকোনো নাগরিক শর্টগান বা পিস্তলের লাইসেন্সের জন্য আবেদন করতে পারেন। নিরাপত্তার প্রয়োজনে কোনো চিকিৎসক আবেদন করলে তা সরকারের বিদ্যমান নিয়ম অনুযায়ী বিবেচনা করা হবে।

এ সময় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর সঙ্গে উপস্থিত ছিলেন সমাজকল্যাণ মন্ত্রী অধ্যাপক ডা. এ জেড এম জাহিদ হোসেন, পুলিশের মহাপরিদর্শক (আইজিপি) মো. আলী হোসেন ফকির, ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশ (ডিএমপি) কমিশনার মোসলেহ্ উদ্দিন আহমদ, অতিরিক্ত কমিশনার (ডিবি প্রধান) মো. শফিকুল ইসলাম এবং ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের পরিচালক ব্রিগেডিয়ার জেনারেল মো. আসাদুজ্জামানসহ সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা।

পরে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী ধানমন্ডির আনোয়ার খান মডার্ন হাসপাতালে একই চাঁদাবাজ চক্রের হুমকির শিকার ডা. এ কে এম আমিনুল হককে দেখতে যান।