বিমান খাতে বড় পরিকল্পনা তুলে ধরলেন বিমানমন্ত্রী
দায়িত্ব গ্রহণের পর প্রথম কর্মদিবসেই দেশের বিমান পরিবহন খাত নিয়ে একগুচ্ছ বড় পরিকল্পনার কথা জানিয়েছেন বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটনমন্ত্রী এম রশিদুজ্জামান মিল্লাত। নিউইয়র্ক ও সিডনিতে ফ্লাইট চালু, বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্সের বহরে নতুন উড়োজাহাজ যুক্ত করা, শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের তৃতীয় টার্মিনাল এবং কক্সবাজার বিমানবন্দর চালুসহ বিভিন্ন পরিকল্পনার কথা তুলে ধরেছেন তিনি। রোববার (২৩ আগস্ট) মন্ত্রণালয়ে প্রথম অফিস করেন নতুন বিমানমন্ত্রী। এ সময় মন্ত্রণালয় ও অধীনস্থ সংস্থাগুলোর কর্মকর্তাদের সঙ্গে বৈঠকের পাশাপাশি সাংবাদিকদের সঙ্গে কথা বলেন তিনি।
মন্ত্রী বলেন, মন্ত্রণালয় ও আওতাধীন সংস্থাগুলোর মধ্যে সমন্বয়হীনতা দূর করাই হবে তার প্রথম কাজ। কাজের গতি বাড়াতে প্রচলিত আমলাতান্ত্রিক পদ্ধতির বাইরে গিয়ে উদ্ভাবনী পরিকল্পনা নিয়ে এগিয়ে যাওয়ার ওপরও গুরুত্ব দেন তিনি।
আরও পড়ুন: নিরাপদ বিমান চলাচলে দক্ষ জনবল গড়তে এটিসি বেসিক কোর্সের উদ্বোধন
এম রশিদুজ্জামান মিল্লাত জানান, প্রতি পাঁচ কর্মদিবসের মধ্যে একদিন সিভিল এভিয়েশন বা বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্সের কার্যালয়ে বসে কাজ করার পরিকল্পনা রয়েছে তার।
নতুন বিমানমন্ত্রী বলেন, আন্তর্জাতিক বেসামরিক বিমান চলাচল সংস্থার (আইকাও) অডিটে বাংলাদেশ প্রয়োজনীয় গ্রেড অর্জন করতে পারলে নিউইয়র্কে সরাসরি ফ্লাইট চালু করা সম্ভব হবে। আগামী বছরের জানুয়ারি থেকেই এ ফ্লাইট চালুর সম্ভাবনা রয়েছে বলে জানান তিনি।
আরও পড়ুন: দুর্নীতিকে কোনোভাবেই প্রশ্রয় দেবে না সরকার: মঈন খান
পাশাপাশি ভবিষ্যতে অস্ট্রেলিয়ার সিডনিতেও সরাসরি ফ্লাইট চালুর পরিকল্পনার কথা জানান মন্ত্রী।
বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্সের বহরে উড়োজাহাজের সংকট রয়েছে উল্লেখ করে মন্ত্রী বলেন, এ কারণে মধ্যপ্রাচ্যের বিভিন্ন গন্তব্যে ফ্লাইটের সংখ্যা বাড়ানো যাচ্ছে না।
সংকট কাটাতে পর্যায়ক্রমে অন্তত ১০টি উড়োজাহাজ লিজ নেওয়ার পরিকল্পনা করা হয়েছে। আগামী ডিসেম্বরের মধ্যে এ বিষয়ে চুক্তি সই করে পরের বছর থেকে নতুন উড়োজাহাজ বহরে যুক্ত করার লক্ষ্য রয়েছে।
মন্ত্রী জানান, বোয়িংয়ের সঙ্গে করা চুক্তি অনুযায়ী নতুন উড়োজাহাজ ২০৩১ সাল থেকে দেশে আসবে। তার আগ পর্যন্ত যাত্রীসেবা সচল রাখা ও নতুন রুটে ফ্লাইট বাড়াতে লিজে উড়োজাহাজ আনার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।
হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের তৃতীয় টার্মিনালের কাজ নিয়েও পরিকল্পনা জানিয়েছেন বিমানমন্ত্রী।
তিনি জানান, আগামী ২৫ আগস্ট জাপানি প্রতিষ্ঠানগুলো দরপত্র জমা দেবে। এরপর মূল্যায়ন শেষে সেপ্টেম্বরের মাঝামাঝি সময়ে চুক্তি সই করার আশা করা হচ্ছে।
চুক্তির পর প্রায় সাড়ে তিন মাসের মধ্যে কাজ শেষ করে আগামী ১৬ ডিসেম্বর তৃতীয় টার্মিনালের সফট ওপেনিং করার লক্ষ্য রয়েছে। তবে কাজের মান নিশ্চিত করতে প্রয়োজনে সময় আরও এক থেকে দুই মাস বাড়ানো হতে পারে বলেও জানান তিনি।
কক্সবাজার আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর নিয়েও সুখবর দিয়েছেন মন্ত্রী। তিনি জানান, আগামী অক্টোবরের মধ্যে বিমানবন্দরটি চালু করার পরিকল্পনা রয়েছে। প্রধানমন্ত্রীকে দিয়ে এর উদ্বোধন করার প্রত্যাশাও ব্যক্ত করেন তিনি।
বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্সে যাত্রী হয়রানি বন্ধে বেশ কিছু উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে বলেও জানান এম রশিদুজ্জামান মিল্লাত। এতে কিছুটা সফলতা এলেও সমস্যাটি পুরোপুরি সমাধান হয়নি বলে স্বীকার করেন তিনি। বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্সের ব্যবস্থাপনা পরিচালক, উপব্যবস্থাপনা পরিচালক ও বেসামরিক বিমান চলাচল কর্তৃপক্ষের কর্মকর্তাদের সঙ্গে সমন্বয় করে এ সমস্যা সমাধানে কাজ করার কথা জানান মন্ত্রী।
বিমানবন্দর থেকে শুরু করে উড়োজাহাজ পর্যন্ত পরিচ্ছন্নতা ও যাত্রীবান্ধব পরিবেশ নিশ্চিত করার ওপরও গুরুত্ব দেন তিনি।
ঈশ্বরদী বিমানবন্দরকে ঘিরেও সরকারের পরিকল্পনার কথা জানিয়েছেন বিমানমন্ত্রী। তিনি বলেন, ঈশ্বরদীতে পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্র থাকায় ইউরেনিয়াম পরিবহনের বিষয়টি গুরুত্বপূর্ণ। সড়কপথে পরিবহনের ক্ষেত্রে দুর্ঘটনা হলে ঝুঁকি তৈরি হতে পারে। এ কারণে বিমানবন্দরটির কার্যকর ব্যবহার নিয়ে ভাবছে সরকার। বর্তমানে ঈশ্বরদী বিমানবন্দর সেনাবাহিনীর নিয়ন্ত্রণে রয়েছে। এটি সম্প্রসারণ করে অভ্যন্তরীণ কয়েকটি ফ্লাইট চালুর পরিকল্পনা রয়েছে বলে জানান মন্ত্রী।
তিনি জানান, বিমানবন্দরটির প্রায় ৬ হাজার ফুট রানওয়ে আরও ২ হাজার ৫০০ ফুট সম্প্রসারণের পরিকল্পনা রয়েছে। পাশাপাশি রানওয়ে সংস্কার ও ছোট একটি টার্মিনাল ভবন নির্মাণের পরিকল্পনাও নেওয়া হয়েছে।
সব মিলিয়ে নিউইয়র্ক ও সিডনিতে নতুন আন্তর্জাতিক রুট চালু, উড়োজাহাজ সংকট কাটানো, তৃতীয় টার্মিনাল দ্রুত চালু, কক্সবাজার ও ঈশ্বরদী বিমানবন্দর সম্প্রসারণ এবং যাত্রীসেবার মান উন্নয়নের মাধ্যমে দেশের বিমান পরিবহন খাতকে আধুনিক ও যাত্রীবান্ধব করার লক্ষ্য নিয়েছে সরকার বলে জানান নতুন বিমানমন্ত্রী।





