ই-মেইলে হুমকি দিয়ে অর্থ আদায়ের চেষ্টা, আতঙ্ক ছড়ানোর নেপথ্যে কারা

বিভিন্ন দূতাবাসে চাঁদাবাজির দাবি, পদক্ষেপ নিচ্ছে পুলিশ

Sanchoy Biswas
বিশেষ প্রতিনিধি
প্রকাশিত: ৭:৪৭ অপরাহ্ন, ২৩ অগাস্ট ২০২৬ | আপডেট: ৯:১১ অপরাহ্ন, ২৩ অগাস্ট ২০২৬
ছবিঃ সংগৃহীত
ছবিঃ সংগৃহীত

ঢাকায় অবস্থানরত বিদেশি দূতাবাস ও দেশের সরকারি দপ্তরগুলোকে লক্ষ্য করে ই-মেইলে চাঁদা দাবি ও হুমকির ঘটনায় নড়েচড়ে বসেছে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী। চীন, তুরস্ক ও পাকিস্তানসহ অন্তত চারটি বিদেশি দূতাবাস এবং কয়েকটি সরকারি দপ্তরে একই ধরনের ই-মেইল পাঠিয়ে অর্থ দাবি করার তথ্য নিশ্চিত করেছে ঢাকা মহানগর গোয়েন্দা পুলিশ (ডিবি)। বিষয়টি খতিয়ে দেখছে পুলিশের কাউন্টার টেরোরিজম অ্যান্ড ট্রান্সন্যাশনাল ক্রাইম (সিটিটিসি) ইউনিটও।

পুলিশের প্রাথমিক ধারণা, এটি নিছক অর্থ আদায়ের চেষ্টা নাও হতে পারে। বিদেশি কূটনীতিকদের মধ্যে আতঙ্ক সৃষ্টি, নির্দিষ্ট ব্যক্তি বা প্রতিষ্ঠানকে হয়রানি, ব্যক্তিগত শত্রুতার জের এবং দেশের ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ন করার উদ্দেশ্যেও পরিকল্পিতভাবে এসব হুমকি দেওয়া হয়ে থাকতে পারে। তবে তদন্ত শেষ না হওয়া পর্যন্ত এর প্রকৃত উদ্দেশ্য সম্পর্কে নিশ্চিত করে কিছু বলা যাচ্ছে না।

আরও পড়ুন: স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর নির্দেশের দুই ডাক্তারের উপর হামলাকারীদের গ্রেফতার করেছে ডিবি

রোববার ডিএমপি মিডিয়া সেন্টারে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে অতিরিক্ত পুলিশ কমিশনার (গোয়েন্দা) মো. শফিকুল ইসলাম সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে দূতাবাসে চাঁদা দাবি করে ই-মেইলে হুমকি দেওয়ার বিষয়টি নিশ্চিত করেন। পরে ডিবি সূত্রে চারটি দূতাবাসের তথ্য পাওয়া যায়। গোয়েন্দা কর্মকর্তাদের ভাষ্য অনুযায়ী, একটি চক্র ইন্টারনেটের মাধ্যমে কূটনৈতিক এলাকার বিভিন্ন দূতাবাসে হুমকি দিয়ে চাঁদা আদায়ের চেষ্টা করছে।

সাধারণ মানুষের বিকাশ নম্বর ব্যবহার: 

আরও পড়ুন: প্রশাসনিক কারণে তেজগাঁও ও পল্টন মডেল থানার ওসি প্রত্যাহার

তদন্তে পুলিশের কাছে আরও একটি গুরুত্বপূর্ণ তথ্য এসেছে। হুমকিদাতারা নিজেদের পরিচয় ও অর্থ গ্রহণের মাধ্যম গোপন রাখতে সাধারণ মানুষের বিকাশ নম্বর ব্যবহার করছে। যেসব ব্যক্তির নম্বর ব্যবহার করা হচ্ছে, তাদের অনেকেই এ বিষয়ে কিছু জানেন না বলে পুলিশ জানিয়েছে।

ফলে শুধু ই-মেইলের প্রাপক বা অর্থ গ্রহণের জন্য ব্যবহৃত মোবাইল নম্বর শনাক্ত করলেই প্রকৃত হুমকিদাতাকে শনাক্ত করা সম্ভব হচ্ছে না। তদন্তকারীরা ই-মেইলের ডিজিটাল উৎস, ব্যবহৃত অ্যাকাউন্ট, মোবাইল নম্বর এবং অর্থ লেনদেনের তথ্য বিশ্লেষণ করছেন।

ডিবির ধারণা, কোনো কোনো ক্ষেত্রে উদ্দেশ্য অর্থ আদায়ের চেয়ে আতঙ্ক তৈরি ও হয়রানি করাও হতে পারে। বিদেশি দূতাবাস ও রাষ্ট্রদূতদের মধ্যে নিরাপত্তা-উদ্বেগ সৃষ্টি করে বাংলাদেশের ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ন করার চেষ্টা হয়ে থাকলে বিষয়টি আরও গুরুতর বলে মনে করছে পুলিশ।

আগে থেকেই তদন্তে সিটিটিসি: 

দূতাবাসগুলোতে হুমকির ই-মেইল পাওয়ার পর বিষয়টি ডিএমপিকে জানানো হলে সিটিটিসি ইউনিট তদন্ত শুরু করে। গত বৃহস্পতিবার বারিধারার একটি কার্যালয়ে সিটিটিসির কর্মকর্তারা দুটি দূতাবাসের প্রতিনিধির সঙ্গে বৈঠক করেন। বৈঠকে দূতাবাসের কর্মকর্তা-কর্মচারীদের আতঙ্কিত না হওয়ার পরামর্শ দেওয়া হয়।

এর আগে শনিবার রাতে সিটিটিসির যুগ্ম পুলিশ কমিশনার মুন্সী শাহাবুদ্দীন জানিয়েছিলেন, একাধিক দূতাবাস ও ব্যক্তির কাছে পাঠানো হুমকির ই-মেইল নিয়ে উদ্বিগ্ন হওয়ার মতো কিছু পাওয়া যায়নি। তদন্তে এখন পর্যন্ত কাউকে শনাক্ত করা সম্ভব না হলেও পুলিশ এগুলোকে প্রতারণামূলক ই-মেইল বা ‘ই-মেইল স্ক্যাম’ হিসেবে দেখছে।

তবে রোববার ডিবির পক্ষ থেকে বিষয়টিকে আরও বিস্তৃতভাবে সামনে আনা হয়েছে। পুলিশের বক্তব্য অনুযায়ী, দূতাবাস ছাড়াও দেশের কয়েকটি সরকারি দপ্তর একই ধরনের হুমকি ও চাঁদা দাবির ই-মেইলের লক্ষ্যবস্তু হয়েছে।

একই ধরনের ভাষা, বদল শুধু নাম-পরিচয়ে: 

দূতাবাস ও সরকারি দপ্তরে পাঠানো কয়েকটি হুমকির ই-মেইল বিশ্লেষণ করে একই ধরনের বক্তব্য ও পদ্ধতির মিল পাওয়ার তথ্যও প্রকাশ্যে এসেছে। একটি প্রতিবেদনে দুটি ই-মেইলের তুলনামূলক বিশ্লেষণে দেখা যায়, ভিন্ন নাম ও ই-মেইল ঠিকানা ব্যবহার করা হলেও বার্তার ধরন ও অর্থ চাওয়ার পদ্ধতিতে মিল রয়েছে। এমনকি একটি বার্তায় চাঁদার অঙ্ক পাকিস্তানি রুপিতে এবং পরবর্তী বার্তায় বাংলাদেশি টাকায় উল্লেখ করার অসংগতিও উঠে এসেছে।

তদন্তকারীদের জন্য এ ধরনের অসংগতি গুরুত্বপূর্ণ সূত্র হতে পারে বলে সংশ্লিষ্ট বিশ্লেষণে উঠে এসেছে। একই সঙ্গে ব্যবহৃত বিকাশ, নগদ বা অন্য ডিজিটাল লেনদেনের মাধ্যম, ই-মেইল অ্যাকাউন্ট ও সম্ভাব্য ক্রিপ্টোকারেন্সি ওয়ালেটের তথ্য বিশ্লেষণ করে প্রকৃত ব্যবহারকারীকে শনাক্তের চেষ্টা করা হচ্ছে বলে জানা গেছে।

দূতাবাস থেকে রাস্তাঘাট—চাঁদাবাজির ধরন বদলাচ্ছে

দূতাবাসে ই-মেইলের মাধ্যমে চাঁদা দাবির ঘটনা সামনে আসার পাশাপাশি দেশের বিভিন্ন এলাকায় সাম্প্রতিক সময়ে চাঁদাবাজির নানা অভিযোগও সামনে এসেছে। কোথাও মোবাইল ফোনে হুমকি, কোথাও চিঠি বা চিরকুট, কোথাও আবার আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর পরিচয় ব্যবহার করে অর্থ আদায়ের অভিযোগ পাওয়া যাচ্ছে।

সাম্প্রতিক ঘটনাগুলো পর্যালোচনা করলে দেখা যায়, চাঁদাবাজির টার্গেটের মধ্যে ব্যবসায়ী, ঠিকাদার, পরিবহন শ্রমিক, প্রবাসী ও সাধারণ পরিবার রয়েছে। অর্থ আদায়ে ভয়ভীতি, মারধর, হত্যার হুমকি, অস্ত্র প্রদর্শন এবং সামাজিক বা রাজনৈতিক পরিচয়ের অপব্যবহারের অভিযোগও রয়েছে।

৫০ লাখ টাকা না পেয়ে প্রবাসীর বাড়িতে গুলি: 

চট্টগ্রামে গত ১১ আগস্ট প্রকাশিত এক প্রতিবেদনে ৫০ লাখ টাকা চাঁদা না পেয়ে এক প্রবাসী ব্যবসায়ীর ভবনের গেটে গুলি করার অভিযোগের কথা উঠে আসে। একই সময়ে চট্টগ্রামে চাঁদাবাজি ও দখলকে কেন্দ্র করে একাধিক ঘটনার অনুসন্ধানও প্রকাশিত হয়েছে।

এ ধরনের ঘটনায় শুধু অর্থনৈতিক ক্ষতিই হচ্ছে না; ব্যবসা-বাণিজ্যের পরিবেশ ও সাধারণ মানুষের নিরাপত্তাবোধও ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে বলে সংশ্লিষ্টদের অভিমত।

‘ব্যবসা করতে হলে ৫০ শতাংশ চাঁদা’: 

চট্টগ্রামের কর্ণফুলীতে একটি ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের ওপর ‘ব্যবসা করতে হলে ৫০ শতাংশ চাঁদা দিতে হবে’—এমন দাবি করে হামলার অভিযোগও সম্প্রতি প্রকাশিত হয়েছে। পুলিশের উপস্থিতিতে ঠিকাদারের ওপর হামলার অভিযোগের ঘটনাটি চাঁদাবাজির সঙ্গে সহিংসতার যোগসূত্রের বিষয়টি সামনে এনেছে।

বাসায় ঢুকে ১০ লাখ টাকা দাবি: 

গত ৪ আগস্ট প্রকাশিত আরেক ঘটনায় ঢাকায় এক প্রবাসীর বাসায় ঢুকে তাঁর স্ত্রীকে অস্ত্রের মুখে ১০ লাখ টাকা চাঁদা দাবির অভিযোগে এক যুবককে গ্রেপ্তারের খবর প্রকাশিত হয়। একই সময়ে চট্টগ্রামে চাঁদা না দেওয়াকে কেন্দ্র করে ব্যবসায়ী ও ঠিকাদারদের ওপর হামলা এবং বিভিন্ন এলাকায় ভয়ভীতি দেখানোর একাধিক অভিযোগ সামনে আসে।

ডিবি পরিচয়েও চাঁদাবাজি: 

চাঁদাবাজির আরেকটি উদ্বেগজনক ধরন হচ্ছে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর পরিচয় ব্যবহার। গত ৭ আগস্ট রাজশাহীর বাঘা উপজেলার আড়ানী পৌরসভার পিয়াদাপাড়ায় ডিবি পুলিশের পরিচয় দিয়ে চাঁদাবাজির অভিযোগে দুই যুবককে স্থানীয়রা আটক করে পুলিশে সোপর্দ করেন।

এ ঘটনায় দেখা যাচ্ছে, সাধারণ মানুষের কাছে পুলিশের পরিচিতি ও বাহিনীর নামকে ব্যবহার করে দ্রুত অর্থ আদায়ের চেষ্টা করছে প্রতারক চক্রের সদস্যরা। এতে প্রকৃত আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর ভাবমূর্তিও ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে।

যুবককে আটকে মুক্তিপণ দাবি, গ্রেপ্তার ৭: 

নারায়ণগঞ্জের সিদ্ধিরগঞ্জে এক যুবককে আটকে রেখে মুক্তিপণ দাবি ও মারধরের অভিযোগে স্থানীয় একটি রাজনৈতিক সংগঠনের নেতাসহ সাতজনকে গ্রেপ্তারের খবরও প্রকাশিত হয়েছে। পুলিশ ওই ঘটনায় আটক যুবককে উদ্ধার করে এবং অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে মামলা করা হয়।

চিরকুটে ২০ হাজার টাকা করে চাঁদা: 

নাটোরের লালপুরে একটি হিন্দুপাড়ার কয়েকটি পরিবারের কাছে চিরকুট পাঠিয়ে পরিবারপ্রতি ২০ হাজার টাকা করে চাঁদা দাবি এবং টাকা না দিলে হত্যার হুমকি দেওয়ার অভিযোগ পাওয়া যায়। ‘সেভেন স্টার’ নামে একটি কথিত দুর্বৃত্ত গোষ্ঠীর নাম ব্যবহার করে এসব চিরকুট দেওয়া হয়েছিল বলে সংবাদে উল্লেখ করা হয়। পুলিশ ঘটনাটি তদন্ত শুরু করেছে।

ব্যবসায়ী-কিশোর থেকে ঠিকাদার—কেউই বাদ যাচ্ছে না

পটুয়াখালীর বাউফলেও চাঁদা দিতে অস্বীকৃতি জানানোয় এক কিশোরকে মারধর ও টাকা ছিনিয়ে নেওয়ার অভিযোগ উঠেছে। এ ঘটনায় স্থানীয় রাজনৈতিক সংগঠনের এক নেতার বিরুদ্ধে অভিযোগ করা হয়েছে। অভিযোগটি তদন্তাধীন; সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে আদালতের চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত না হওয়া পর্যন্ত তাদের অপরাধী বলা যাচ্ছে না।

নোয়াখালীর কোম্পানীগঞ্জে জমি নিয়ে বিরোধের জেরে চাঁদা দাবি ও হত্যার হুমকির অভিযোগ তদন্তে গিয়ে পুলিশের পাঁচ সদস্য আহত হওয়ার ঘটনাও ঘটেছে। এ ঘটনায় সাতজনকে আটক করার কথা জানিয়েছে পুলিশ।

অভিযোগের ধরন বদলালেও কৌশল একই: 

সাম্প্রতিক ঘটনাগুলো বিশ্লেষণ করলে চাঁদাবাজির কয়েকটি সাধারণ কৌশল স্পষ্ট হয়ে ওঠে—প্রথমে ভয় দেখানো, এরপর নির্দিষ্ট অঙ্কের অর্থ দাবি; অর্থ না দিলে হামলা, মামলা, হত্যার হুমকি বা ব্যবসা বন্ধ করে দেওয়ার ভয় দেখানো। ডিজিটাল যোগাযোগের ক্ষেত্রে ই-মেইল, মোবাইল ফোন ও মোবাইল আর্থিক সেবার নম্বর ব্যবহার করা হচ্ছে। আবার সরাসরি চাঁদাবাজির ক্ষেত্রে রাজনৈতিক পরিচয়, আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর পরিচয় কিংবা স্থানীয় প্রভাবশালী ব্যক্তির নাম ব্যবহারের অভিযোগ রয়েছে।

দূতাবাসে ই-মেইলের মাধ্যমে চাঁদা দাবি এই প্রবণতার একটি নতুন মাত্রা। কারণ, এখানে সরাসরি কোনো ব্যক্তির কাছে গিয়ে অর্থ দাবি করা হয়নি; বরং আন্তর্জাতিক কূটনৈতিক স্থাপনা ও সরকারি প্রতিষ্ঠানকে লক্ষ্য করে ডিজিটাল যোগাযোগের মাধ্যমে চাপ সৃষ্টি করা হয়েছে।

অর্থ আদায়ের পাশাপাশি বড় উদ্দেশ্য আছে কি না

ডিবির বক্তব্য অনুযায়ী, দূতাবাসে পাঠানো হুমকির পেছনে শুধু চাঁদাবাজি নয়, অন্য উদ্দেশ্যও থাকতে পারে। বিশেষ করে বিদেশি কূটনীতিকদের মধ্যে আতঙ্ক সৃষ্টি করে বাংলাদেশের ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ন করার চেষ্টা হয়ে থাকলে এটি সাধারণ প্রতারণার চেয়ে ভিন্ন মাত্রার অপরাধ।

এ কারণে তদন্তকারীরা শুধু ‘কে ই-মেইল পাঠিয়েছে’ তা খুঁজছেন না; বরং কারা এর সঙ্গে যুক্ত, অর্থ গ্রহণের জন্য ব্যবহৃত নম্বরগুলো কার, ই-মেইল কোথা থেকে পাঠানো হয়েছে, একই ব্যক্তি বা চক্র অন্য কোনো ঘটনা ঘটিয়েছে কি না এবং এর পেছনে দেশি-বিদেশি কোনো সংগঠিত নেটওয়ার্ক রয়েছে কি না—এসব বিষয়ও খতিয়ে দেখছেন।

কূটনৈতিক নিরাপত্তায় বাড়তি নজর: 

বিদেশি দূতাবাসে হুমকির ঘটনা স্বাভাবিকভাবেই কূটনৈতিক নিরাপত্তার সঙ্গে যুক্ত। যদিও পুলিশ প্রাথমিকভাবে এসব বার্তাকে আতঙ্কিত হওয়ার মতো বাস্তব নিরাপত্তা হুমকি হিসেবে দেখছে না, তবু দূতাবাসগুলোকে লক্ষ্য করে ধারাবাহিকভাবে একই ধরনের বার্তা পাঠানোর বিষয়টি উপেক্ষা করার সুযোগ নেই।

বিশেষজ্ঞদের মতে, এ ধরনের ঘটনায় দ্রুত তদন্ত করে প্রকৃত উৎস শনাক্ত করা জরুরি। কারণ, একটি ভুয়া হুমকিও যদি বারবার পাঠানো হয়, তাহলে তা কূটনৈতিক মিশনের নিরাপত্তা ব্যবস্থা, কর্মীদের মানসিক নিরাপত্তা এবং দেশের আন্তর্জাতিক ভাবমূর্তিতে নেতিবাচক প্রভাব ফেলতে পারে।

চাঁদাবাজি দমনে কঠোর নজরদারি জরুরি: 

দেশের বিভিন্ন প্রান্তে চাঁদাবাজির অভিযোগের ধরন এবং সাম্প্রতিক দূতাবাস-টার্গেটেড ই-মেইল—দুই ঘটনাকে একই সূত্রে দেখার সুযোগ নেই। তবে উভয় ক্ষেত্রেই ভয়ভীতি দেখিয়ে অর্থ আদায়ের প্রবণতা রয়েছে। কোথাও অভিযোগ প্রমাণিত হয়ে গ্রেপ্তার হয়েছে, কোথাও তদন্ত চলছে, আবার কোথাও অভিযোগের সত্যতা যাচাই করা হচ্ছে।

তাই চাঁদাবাজির অভিযোগে দ্রুত তদন্ত, ডিজিটাল প্রমাণ সংরক্ষণ, অর্থ লেনদেনের পথ অনুসরণ, ভুক্তভোগীর নিরাপত্তা নিশ্চিত এবং অভিযোগের সঙ্গে রাজনৈতিক বা প্রভাবশালী পরিচয় জড়িত থাকলেও নিরপেক্ষ তদন্ত—এই চারটি বিষয়কে গুরুত্ব দেওয়ার দাবি উঠছে।

দূতাবাসে পাঠানো হুমকির ই-মেইলের ক্ষেত্রে একই সঙ্গে কূটনৈতিক মিশনের নিরাপত্তা ও দেশের ভাবমূর্তি রক্ষার বিষয়টিও বিবেচনায় নিতে হচ্ছে। এখন তদন্তের প্রধান প্রশ্ন—এই ই-মেইল চক্রের প্রকৃত হোতা কারা এবং তাদের উদ্দেশ্য কেবল চাঁদা আদায়, নাকি এর আড়ালে আরও বড় কোনো পরিকল্পনা রয়েছে। সেই উত্তর মিলবে তদন্ত শেষ হওয়ার পরই।