সেপ্টেম্বরের শেষ ও অক্টোবরে ডেঙ্গুর প্রকোপ সর্বোচ্চ হতে পারে: স্বাস্থ্য প্রতিমন্ত্রী

Sadek Ali
বাংলাবাজার ডেস্ক
প্রকাশিত: ১২:১৮ অপরাহ্ন, ০৯ সেপ্টেম্বর ২০২৬ | আপডেট: ৩:১২ অপরাহ্ন, ০৯ সেপ্টেম্বর ২০২৬
ছবিঃ সংগৃহীত
ছবিঃ সংগৃহীত

দেশে ডেঙ্গু পরিস্থিতি আরও উদ্বেগজনক হয়ে উঠতে পারে বলে আশঙ্কা প্রকাশ করেছেন স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী ডা. এম এ মুহিত। তার ধারণা, সেপ্টেম্বরের শেষ সপ্তাহ থেকে অক্টোবরের শুরুর দিকে ডেঙ্গুর প্রকোপ সর্বোচ্চ পর্যায়ে পৌঁছাতে পারে। এরই মধ্যে গতকাল থেকে দেশজুড়ে ডেঙ্গু রোগীর সংখ্যা বাড়তে শুরু করেছে বলেও জানান তিনি।

বুধবার (৯ সেপ্টেম্বর) ঢাকা রিপোর্টার্স ইউনিটিতে আঁচল ফাউন্ডেশন ও হিউম্যান রাইটস ডেভেলপমেন্ট সেন্টার আয়োজিত এক সেমিনারে এসব কথা বলেন স্বাস্থ্য প্রতিমন্ত্রী।

আরও পড়ুন: আইনশৃঙ্খলা বাহিনীকে আরও কঠোর হওয়ার নির্দেশ প্রধানমন্ত্রীর

ডেঙ্গুর সম্ভাব্য পিক মোকাবিলায় সরকার তিন মাসের জনসচেতনতামূলক কর্মসূচি হাতে নিচ্ছে বলে জানান ডা. এম এ মুহিত। এই কার্যক্রমে স্বেচ্ছাসেবী সংগঠনের পাশাপাশি সাধারণ মানুষকেও যুক্ত করা হবে। এডিস মশার বিস্তার ঠেকাতে ঘরবাড়ি ও কর্মস্থল পরিষ্কার রাখার পাশাপাশি মশার প্রজননস্থল ধ্বংসে সবাইকে সক্রিয় হওয়ার আহ্বান জানান তিনি।

প্রতিমন্ত্রী বলেন, ডেঙ্গু নিয়ন্ত্রণে সিটি করপোরেশন, স্থানীয় সরকার এবং স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় একসঙ্গে কাজ করবে। পরিচ্ছন্নতা কার্যক্রমের পাশাপাশি জনসচেতনতা তৈরি ও এডিস মশার লার্ভা ধ্বংসে সমন্বিত উদ্যোগ নেওয়া হবে।

আরও পড়ুন: আইন অনুযায়ী যোগ্যরাই স্থানীয় নির্বাচনে অংশ নিতে পারবেন: সিইসি

সরকারের ডেঙ্গু মোকাবিলার মূল লক্ষ্য আক্রান্তের সংখ্যা এবং মৃত্যুহার—দুটিই কমিয়ে আনা বলে উল্লেখ করেন স্বাস্থ্য প্রতিমন্ত্রী। চিকিৎসকদের প্রস্তুত করতেও কাজ চলছে জানিয়ে তিনি বলেন, ইতোমধ্যে প্রায় ৩ হাজার চিকিৎসককে ডেঙ্গু ব্যবস্থাপনার ওপর রিফ্রেশার প্রশিক্ষণ দেওয়া হয়েছে। জেলা ও উপজেলা পর্যায়েও এই প্রশিক্ষণ কার্যক্রম চলবে।

ডেঙ্গুর প্রকোপ বাড়ার সম্ভাবনা সামনে রেখে হাসপাতালগুলোর প্রস্তুতিও নেওয়া হয়েছে। রোগীর চাপ বাড়লে যাতে শয্যা, স্যালাইন কিংবা পরীক্ষার কিটের ঘাটতি না হয়, সে জন্য আগাম ব্যবস্থা রাখা হয়েছে বলে জানান তিনি। বর্তমান রোগীর তুলনায় পর্যাপ্ত ডেঙ্গু পরীক্ষার কিট ও স্যালাইন মজুত রয়েছে। সরকারি হাসপাতালগুলোতে ডেঙ্গু রোগীদের জন্য নির্ধারিত শয্যাও চালু করা হয়েছে।

রোগীর সংখ্যা আরও বেড়ে গেলে প্রয়োজন অনুযায়ী হাসপাতালের অন্যান্য শয্যা পুনর্বিন্যাস করে ডেঙ্গু চিকিৎসায় ব্যবহার করা হবে বলেও জানান ডা. এম এ মুহিত।

এদিকে ডেঙ্গুর সম্ভাব্য পিক সময়ে বেসরকারি হাসপাতালগুলোকেও প্রস্তুত থাকার আহ্বান জানিয়েছেন স্বাস্থ্য প্রতিমন্ত্রী। প্রয়োজন হলে এসব হাসপাতালকে ডেঙ্গু রোগীদের চিকিৎসায় এগিয়ে আসতে হবে। একই সঙ্গে রোগীর স্বজনদের ওপর বাড়তি আর্থিক চাপ তৈরি করে অযৌক্তিকভাবে চিকিৎসা ব্যয় বাড়ানো যাবে না। বেসরকারি হাসপাতালগুলোতে ডেঙ্গু রোগীদের জন্য নির্ধারিত শয্যা রাখারও আহ্বান জানান তিনি।