খরচ ৩.৪৬ বিলিয়ন পাউন্ড

প্রিমিয়ার লিগে দলবদলে নতুন রেকর্ড

Sadek Ali
ক্রীড়া ডেস্ক
প্রকাশিত: ৯:৪৭ পূর্বাহ্ন, ০৩ সেপ্টেম্বর ২০২৬ | আপডেট: ৯:৪৭ পূর্বাহ্ন, ০৩ সেপ্টেম্বর ২০২৬
ছবিঃ সংগৃহীত
ছবিঃ সংগৃহীত

ইংলিশ প্রিমিয়ার লিগের ক্লাবগুলো আবারও তাদের আর্থিক সক্ষমতার প্রমাণ দিয়েছে। ২০২৬-২৭ মৌসুমের গ্রীষ্মকালীন দলবদলে খেলোয়াড় কিনতে মোট ৩ দশমিক ৪৬ বিলিয়ন পাউন্ড খরচ করেছে লিগের ২০টি ক্লাব, যা গ্রীষ্মকালীন ট্রান্সফার উইন্ডোতে নতুন রেকর্ড।

মঙ্গলবার রাত ১১টায় ইংল্যান্ডের ক্লাবগুলোর জন্য দলবদলের সময়সীমা শেষ হলেও শেষ মুহূর্ত পর্যন্ত বড় অঙ্কের একাধিক চুক্তি সম্পন্ন হয়েছে। শুধু শেষ দিনেই খেলোয়াড় কিনতে ব্যয় হয়েছে প্রায় ৪৭৫ মিলিয়ন পাউন্ড। গত বছর শেষ দিনে খরচ হয়েছিল ৩৯১ মিলিয়ন পাউন্ড।

আরও পড়ুন: ৯১ বছরের ইতিহাস ভেঙে বার্সেলোনার নতুন রেকর্ড গড়লেন ইয়ামাল

এবার প্রিমিয়ার লিগের প্রায় ৩৮ শতাংশ দলবদল হয়েছে একই লিগের ক্লাবগুলোর মধ্যে। গত বছরের গ্রীষ্মকালীন দলবদলে এই হার ছিল ৩০ শতাংশ।

২০২৬-২৭ মৌসুমের দলবদলের উল্লেখযোগ্য দিকগুলো তুলে ধরেছে আল জাজিরা স্পোর্ট।

আরও পড়ুন: আর্জেন্টিনা জাতীয় দল থেকে লিওনেল মেসির অবসরের ঘোষণা

প্রিমিয়ার লিগে মোট কত খরচ হয়েছে

ইংল্যান্ডের শীর্ষ লিগের ক্লাবগুলো এবার খেলোয়াড় কেনায় মোট ৩ দশমিক ৪৬ বিলিয়ন পাউন্ড ব্যয় করেছে, যা প্রায় ৪ দশমিক ৬৭ বিলিয়ন মার্কিন ডলারের সমান।

গত মৌসুমে প্রথমবারের মতো প্রিমিয়ার লিগের ২০টি ক্লাবের সম্মিলিত খরচ ৩ বিলিয়ন পাউন্ড ছাড়িয়েছিল। এবার সেই রেকর্ড আরও বড় ব্যবধানে ছাড়িয়ে গেছে। পাঁচ বছর আগে গ্রীষ্মকালীন দলবদলে যেখানে খরচ হয়েছিল ১ দশমিক ১৩ বিলিয়ন পাউন্ড, এবার ব্যয় তার কয়েক গুণ বেশি।

সবচেয়ে বড় দলবদল কোনগুলো

সবচেয়ে বড় অঙ্কের চুক্তিটি করেছে ম্যানচেস্টার সিটি। চেলসি থেকে আর্জেন্টিনার মিডফিল্ডার এনজো ফার্নান্দেজকে দলে নিতে তারা খরচ করেছে ১২৫ মিলিয়ন পাউন্ড।

এই চুক্তির মাধ্যমে ফার্নান্দেজ এমন প্রথম খেলোয়াড় হয়েছেন, যাকে দুইবার ১০০ মিলিয়ন পাউন্ডের বেশি মূল্যে দলবদল করা হয়েছে। তার এই দলবদলের মূল্য গত গ্রীষ্মে নিউক্যাসল ইউনাইটেড থেকে লিভারপুলে আলেক্সান্ডার ইসাকের যোগ দেওয়ার সময় ব্যয় করা অর্থের সমান।

এর পরেই রয়েছে লিভারপুল। প্যারিস সেন্ট জার্মেইনের ফরাসি ফরোয়ার্ড ব্র্যাডলি বারকোলাকে দলে নিতে ১২৩ মিলিয়ন পাউন্ড খরচ করেছে তারা।

চেলসি ১১৭ মিলিয়ন পাউন্ডে অ্যাস্টন ভিলা থেকে ইংল্যান্ডের তারকা মরগান রজার্সকে স্ট্যামফোর্ড ব্রিজে এনেছে। আর নটিংহ্যাম ফরেস্টের মিডফিল্ডার এলিয়ট অ্যান্ডারসনকে দলে নিতে ম্যানচেস্টার সিটি ব্যয় করেছে ১১৬ মিলিয়ন পাউন্ড।

সবচেয়ে বেশি অর্থ খরচ করেছে কোন ক্লাব

এনজো ফার্নান্দেজকে দলে নেওয়ার মধ্য দিয়ে ম্যানচেস্টার সিটির এবারের মোট দলবদল ব্যয় দাঁড়িয়েছে ৪৫৮ মিলিয়ন পাউন্ড। নতুন কোচ এনজো মারেস্কার অধীনে প্রথমবারের মতো দল সাজাতে এত বিপুল অর্থ খরচ করেছে ক্লাবটি।

ম্যানচেস্টার সিটির এই ব্যয় প্রিমিয়ার লিগে এক মৌসুমের গ্রীষ্মকালীন দলবদলে নতুন রেকর্ড। এর আগে গত বছর লিভারপুল খেলোয়াড় কেনায় ৪১৫ মিলিয়ন পাউন্ড খরচ করে রেকর্ডটি গড়েছিল।

নতুন কোচ জাবি আলোনসোর অধীনে দল শক্তিশালী করতে চেলসি খরচ করেছে ৩৪৯ মিলিয়ন পাউন্ড।

অন্যদিকে টানা দুই মৌসুম অবনমনের কাছাকাছি থেকে ঘুরে দাঁড়ানোর লক্ষ্যে টটেনহ্যাম ব্যয় করেছে ৩০৩ মিলিয়ন পাউন্ড।

প্রিমিয়ার লিগে সদ্য উন্নীত ইপসউইচ, কভেন্ট্রি সিটি ও হাল সিটি—এই তিন ক্লাব সম্মিলিতভাবে ৪০০ মিলিয়ন পাউন্ডের বেশি খরচ করেছে শীর্ষ লিগে নিজেদের টিকিয়ে রাখার প্রস্তুতিতে।

সান্ডারল্যান্ড ২১ বছর বয়সী বেলজিয়ান উইঙ্গার মালিক ফোফানাকে অলিম্পিক লিওঁ থেকে দলে ভিড়িয়েছে। ক্রিস্টাল প্যালেসকে পেছনে ফেলে তাকে আনতে প্রায় ৩০ মিলিয়ন পাউন্ড খরচ করেছে ক্লাবটি।

এদিকে নিউক্যাসল ইউনাইটেড থেকে সান্দ্রো টোনালিকে দলে নিয়ে নিজেদের ক্লাব ট্রান্সফার রেকর্ডও ভেঙেছে টটেনহ্যাম হটস্পার। চুক্তির মূল্য বিভিন্ন শর্ত পূরণ হলে ১০০ মিলিয়ন পাউন্ড পর্যন্ত পৌঁছাতে পারে।

আলভারেজ, বালোগুন ও লামিনে কামারার দলবদল হলো না কেন

দলবদলের শেষ দিনে বেশ কয়েকটি আলোচিত চুক্তি শেষ পর্যন্ত সম্পন্ন হয়নি।

ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যমের খবর অনুযায়ী, যুক্তরাষ্ট্রের ফরোয়ার্ড ফোলারিন বালোগুনকে দলে নেওয়ার জন্য এভারটনের চেষ্টা ব্যর্থ হয়েছে। শেষ মুহূর্তে খেলোয়াড় নিজেই চুক্তিটি এগিয়ে নিতে রাজি হননি বলে জানা গেছে।

সেনেগালের মিডফিল্ডার লামিনে কামারাও মোনাকোতেই থেকে গেছেন। চেলসিতে তার যোগ দেওয়ার সম্ভাবনা তৈরি হয়েছিল এবং চুক্তির মূল্য ছিল প্রায় ৪৭ দশমিক ১ মিলিয়ন পাউন্ড। তবে শেষ পর্যন্ত সেই দলবদল হয়নি।

এদিকে বার্সেলোনায় খেলার জুলিয়ান আলভারেজের স্বপ্নও এবার পূরণ হয়নি। বার্সেলোনা ও আর্সেনালের আগ্রহ থাকা সত্ত্বেও অ্যাটলেটিকো মাদ্রিদ তাকে ছাড়েনি।

অ্যাটলেটিকোর প্রধান নির্বাহী মিগেল অ্যাঞ্জেল গিল মারিন গত সপ্তাহেই বার্সেলোনার বিষয়ে নিজেদের অবস্থান স্পষ্ট করেছিলেন। তিনি জানিয়েছিলেন, আলভারেজকে বার্সেলোনার কাছে বিক্রি করা হবে না।

পরে অ্যাটলেটিকোর পরিচালনা পর্ষদের এক বিবৃতিতে বলা হয়, আলভারেজের দলবদল নিয়ে বার্সেলোনার সঙ্গে কোনো আলোচনা হয়নি এবং ভবিষ্যতেও হবে না।

তবে পেশাদার, নৈতিক ও সম্মানজনকভাবে পরিচালিত হলে সাধারণ দলবদল বাজারের আলোচনায় অ্যাটলেটিকো অংশ নিতে প্রস্তুত বলেও বিবৃতিতে জানানো হয়েছে।