বৈদেশিক ঋণের বোঝা ভবিষ্যৎ প্রজন্মকেও বহন করতে হবে: অতিরিক্ত প্রেস সচিব

Sadek Ali
বাংলাবাজার ডেস্ক
প্রকাশিত: ২:৪৬ অপরাহ্ন, ১৬ সেপ্টেম্বর ২০২৬ | আপডেট: ৩:৪৯ অপরাহ্ন, ১৬ সেপ্টেম্বর ২০২৬
ছবিঃ সংগৃহীত
ছবিঃ সংগৃহীত

লাখ লাখ কোটি টাকার বৈদেশিক ঋণের বোঝা নিয়ে বর্তমান সরকার দায়িত্ব নিয়েছে বলে জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রীর অতিরিক্ত প্রেস সচিব আতিকুর রহমান রুমন। তিনি বলেন, এই ঋণের দায় শুধু বর্তমান প্রজন্ম নয়, ভবিষ্যতে জন্ম নেওয়া শিশুকেও বহন করতে হবে। তাই দেশকে সুন্দর ও ‘ক্লিন বাংলাদেশ’ হিসেবে গড়ে তুলতে সরকারের পাশে থেকে সবাইকে একসঙ্গে কাজ করতে হবে।

বুধবার (১৬ সেপ্টেম্বর) রাজধানীর তেজগাঁওয়ে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ে সরকারের গত এক মাসের কার্যক্রম নিয়ে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে তিনি এসব কথা বলেন।

আরও পড়ুন: পাঠ্যবইয়ে যুক্ত হচ্ছে জিয়াউর রহমানের লেখা ‘স্বাধীনতা যুদ্ধের স্মৃতি’

আতিকুর রহমান রুমন বলেন, সরকার দায়িত্ব নেওয়ার কয়েক মাসের মধ্যেই সবকিছুর সমালোচনা না করে আগে ভাবা উচিত, আগের সরকার দেশের ওপর কতটা বৈদেশিক ঋণের বোঝা রেখে গেছে। এই ঋণের দায় ভবিষ্যৎ প্রজন্মকেও বহন করতে হবে। বিভিন্ন সমস্যা সমাধানে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান কাজ করে যাচ্ছেন উল্লেখ করে তিনি বলেন, এসব সমস্যা সমাধানে সরকারের আরও কিছুটা সময় প্রয়োজন।

গ্যাস ও বিদ্যুৎ সংকটের বিষয়ে রুমন বলেন, গ্যাসের চাপ কমে যাওয়ায় মানুষ সংকটে পড়েছিল এবং এর প্রভাব বিদ্যুৎ সরবরাহেও পড়েছিল। প্রধানমন্ত্রী বিষয়টি সমাধানে উদ্যোগ নিয়েছেন এবং প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার পরই এ বিষয়ে ঘোষণা দিয়েছেন।

আরও পড়ুন: আওয়ামী লীগের মিছিল কাণ্ডে ব্যর্থতায় গুলশানের ডিসি ও ওসি প্রত্যাহার

তিনি বলেন, প্রধানমন্ত্রী চাইলে গ্যাসের চাপ বাড়ার সঙ্গে সঙ্গেই ঘোষণা দিতে পারতেন। কিন্তু তিনি তা না করে পরদিন সন্ধ্যা পর্যন্ত সময় দিয়েছিলেন।

গ্যাস সরবরাহ পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণে মনিটরিং সেল গঠন করা হয়েছে বলেও জানান প্রধানমন্ত্রীর অতিরিক্ত প্রেস সচিব। তিনি বলেন, কোন এলাকায় কী পরিমাণ গ্যাসের চাপ রয়েছে এবং সাধারণ মানুষ কতটুকু গ্যাস পাচ্ছেন, তা নিয়মিত পর্যবেক্ষণ করা হচ্ছে।

রুমন বলেন, প্রধানমন্ত্রী সমস্যা সমাধানে কাজ করছেন। এ অবস্থায় জনগণেরও উচিত সরকারকে সহযোগিতা করা। সবাই একসঙ্গে সহযোগিতা করলে একটি সুন্দর, সুসজ্জিত ও সফল বাংলাদেশ গড়ে তোলা সম্ভব।

মন্দির নিয়ে বিভ্রান্তিকর প্রচারের অভিযোগ

সংবাদমাধ্যম ও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে সরকারের বিরুদ্ধে বিভ্রান্তিকর তথ্য ছড়ানোর অভিযোগও করেন আতিকুর রহমান রুমন।

সম্প্রতি একটি পুরোনো মন্দির সংস্কারের জন্য ভেঙে ফেলার বিষয়টি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ভিন্নভাবে উপস্থাপন করা হয়েছে বলে অভিযোগ করেন তিনি। রুমনের দাবি, পরে খোঁজ নিয়ে জানা যায়, দীর্ঘদিনের পুরোনো মন্দিরটি যেকোনো সময় দুর্ঘটনার কারণ হতে পারে। এ কারণে সংস্কারের উদ্দেশ্যেই সেটি ভাঙা হচ্ছিল।

তিনি বলেন, কিছু সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমকর্মী বিষয়টি এমনভাবে প্রচার করেছেন, যেন সরকারই মন্দিরটি ভেঙে ফেলছে।

রুমন আরও বলেন, বাংলাদেশেও কিছু সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ও সংবাদমাধ্যমে বিভিন্ন তথ্য জোড়াতালি দিয়ে উপস্থাপন করে সরকারকে বিব্রত করার চেষ্টা করা হচ্ছে। তবে এ অভিযোগে তিনি সব সাংবাদিককে দায়ী করছেন না। নিজেও সাংবাদিকতার সঙ্গে দীর্ঘদিন যুক্ত থাকার কথা উল্লেখ করে তিনি বলেন, ১৯৯৩ সাল থেকে তিনি এই পেশার সঙ্গে আছেন।

সংবাদপত্রের স্বাধীনতার প্রসঙ্গ

প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান সংবাদপত্রের স্বাধীনতায় বিশ্বাস করেন বলেও উল্লেখ করেন আতিকুর রহমান রুমন। তিনি বলেন, প্রধানমন্ত্রী হওয়ার দুই দিন আগ পর্যন্ত তারেক রহমান একটি জাতীয় দৈনিকের মালিক ও প্রকাশক ছিলেন।

রুমনের দাবি, বিগত সরকার তারেক রহমানের দেশত্যাগের ছয় মাস আগে বিভিন্ন কারণ দেখিয়ে ওই পত্রিকাটি বন্ধ করে দিয়েছিল। এতে পত্রিকাটির অনেক সাংবাদিক, কর্মকর্তা ও কর্মচারী বেকার হয়ে পড়েছিলেন।

তারেক রহমানের গবেষণামূলক কাজের প্রসঙ্গও সংবাদ সম্মেলনে তুলে ধরেন রুমন। তিনি বলেন, প্রায় ১৭-১৮ বছর আগে বনানীর একটি কার্যালয়ে তারেক রহমান গবেষণামূলক কাজ করতেন। সেখানে বাংলাদেশের বিভিন্ন এলাকার কৃষি, ফসল, মাছ চাষ ও পরিত্যক্ত পুকুরসহ বিভিন্ন বিষয়ে তথ্য সংগ্রহ করা হতো।

ওই সময়ের ফাইলগুলো এখনো প্রধানমন্ত্রীর কাছে সংরক্ষিত রয়েছে বলেও দাবি করেন তিনি।

সবশেষে সবাইকে সরকারের সঙ্গে সহযোগিতার আহ্বান জানিয়ে আতিকুর রহমান রুমন বলেন, দেশের উন্নয়নে সবাইকে কাঁধে কাঁধ মিলিয়ে কাজ করতে হবে এবং ‘ক্লিন বাংলাদেশ’ গড়ে তুলতে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানকে যে যার অবস্থান থেকে সহযোগিতা করতে হবে।