আন্তর্জাতিক কোরআন প্রতিযোগিতায় বিজয়ী হাফেজদের সংবর্ধনা দিলেন প্রধানমন্ত্রী

Sadek Ali
বাংলাবাজার ডেস্ক
প্রকাশিত: ১:১৮ অপরাহ্ন, ১৭ সেপ্টেম্বর ২০২৬ | আপডেট: ৪:৫৪ অপরাহ্ন, ১৭ সেপ্টেম্বর ২০২৬
ছবিঃ সংগৃহীত
ছবিঃ সংগৃহীত

আন্তর্জাতিক পবিত্র কোরআন প্রতিযোগিতায় বাংলাদেশের হয়ে সাফল্য অর্জন করা চার হাফেজকে সংবর্ধনা দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। বিজয়ীদের অভিনন্দন জানিয়ে তিনি বলেছেন, দেশের সন্তানরা নিজেদের মেধা ও যোগ্যতার মাধ্যমে ভালো কোনো অর্জন করলে রাষ্ট্রীয়ভাবে তার স্বীকৃতি দেওয়ার চেষ্টা করবে সরকার।

সৌদি আরবে অনুষ্ঠিত ৪৬তম কিং আবদুল আজিজ আন্তর্জাতিক পবিত্র কোরআন প্রতিযোগিতায় পুরস্কার পাওয়া হাফেজদের সম্মানে বৃহস্পতিবার (১৭ সেপ্টেম্বর) বাংলাদেশ সচিবালয়ের মন্ত্রিপরিষদ বিভাগের সভাকক্ষে এ সংবর্ধনার আয়োজন করা হয়।

আরও পড়ুন: বন্ধ শিল্প-সেবা খাতে ঋণের সুদ সর্বোচ্চ ৭ শতাংশ

অনুষ্ঠানে প্রধানমন্ত্রী বলেন, আন্তর্জাতিক এই প্রতিযোগিতায় বাংলাদেশের হাফেজদের অর্জন শুধু ব্যক্তিগত সাফল্য নয়, বরং দেশের মুসলিম সম্প্রদায়ের জন্যও এটি গৌরবের বিষয়।

তিনি বলেন, ‘আপনারা যে পুরস্কারটা জিতে এসেছেন, এটা শুধু আপনাদেরই অর্জন না। আমি মনে করি, এটা বাংলাদেশের সকল মুসলমানের অর্জন।’

আরও পড়ুন: ঢাকায় শুরু হলো ১৩তম এশিয়ান ট্যুরিজম ফেয়ার ২০২৬

হাফেজদের দীর্ঘদিন পর উৎসাহ ও সম্মান জানানোর প্রসঙ্গে প্রধানমন্ত্রী বলেন, দেশের ভবিষ্যৎ প্রজন্মের সন্তানরা মেধা ও যোগ্যতার মাধ্যমে যেসব ভালো অর্জন করবে, সেগুলোর স্বীকৃতি দেওয়াকে সরকারের নীতির অংশ হিসেবে দেখা হচ্ছে।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘আপনারা প্রায় সবাই উল্লেখ করেছেন যে দীর্ঘদিন পর হাফেজদের উৎসাহিত করা হয়েছে, সম্মান জানানো হয়েছে। এটা বর্তমান সরকারের একটি নীতি যে দেশের সন্তান যারা আছে, যারা দেশের ভবিষ্যৎ; তারা তাদের যোগ্যতা দিয়ে, মেধা দিয়ে যা কিছু ভালো অর্জন করবে, সেটাকে সরকার চেষ্টা করবে রাষ্ট্রের অবস্থান থেকে স্বীকৃতি দেওয়ার জন্য।’

মেধাবীদের উৎসাহিত করার পাশাপাশি তাদের যথাযথ মূল্যায়নের ওপরও গুরুত্ব দেন সরকারপ্রধান। তিনি বলেন, মেধাবীদের উৎসাহ ও সঠিক মূল্যায়ন করা গেলে এর সুফল ভবিষ্যৎ প্রজন্মের পাশাপাশি পুরো দেশ ও দেশের মানুষ পাবে।

সরকার গঠনের পর থেকেই মেধা ও যোগ্যতার অধিকারীদের উৎসাহিত করার চেষ্টা চলছে উল্লেখ করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, এরই ধারাবাহিকতায় আন্তর্জাতিক কোরআন প্রতিযোগিতায় বিজয়ী হাফেজদের আমন্ত্রণ জানিয়ে সম্মানিত করা হয়েছে।

সংবর্ধনা অনুষ্ঠানে পুরস্কার বিজয়ী হাফেজদের মাদ্রাসার শিক্ষকরা বিভিন্ন সমস্যার কথা প্রধানমন্ত্রীর কাছে তুলে ধরেন। বিষয়গুলো সংশ্লিষ্ট মন্ত্রীর সঙ্গে আলোচনা করে সমাধানের উদ্যোগ নেওয়ার আশ্বাস দেন তিনি।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘আপনারা কিছু সমস্যার কথা বলেছেন। এটার সমাধানের কোনো পথ আমাদের কাছে আছে কি না বা থাকলে সেটা কী, যদি সম্ভব হয়, ইনশা আল্লাহ আমরা সেটা দেখব। যতটুকু সম্ভব, আমাদের পক্ষে যতটুকু সম্ভব, আমরা ইনশা আল্লাহ সেটা দেখার অবশ্যই চেষ্টা করব।’

ভবিষ্যতে আন্তর্জাতিক কোরআন প্রতিযোগিতাসহ এ ধরনের আয়োজনে বাংলাদেশের প্রতিযোগীদের অংশগ্রহণে সরকারি সহযোগিতারও আশ্বাস দেন প্রধানমন্ত্রী। তিনি বলেন, সামনে আরও প্রতিযোগিতা হলে অংশগ্রহণের জন্য সরকারের সহযোগিতা প্রয়োজন হলে নিয়ম অনুযায়ী বিষয়টি জানাতে হবে। সরকারের পক্ষ থেকে যতটুকু সম্ভব, সেই সহযোগিতা দেওয়ার ব্যবস্থা করা হবে।

তিনি বলেন, ‘আমরা চাই আমাদের ছেলেমেয়েরা এরকম আন্তর্জাতিক প্রতিযোগিতাতে অংশগ্রহণ করুক এবং অংশগ্রহণ করার মাধ্যমে তাদের নিজেদের জন্য, দেশের জন্য, দেশের মানুষের জন্য তারা সম্মান এবং গৌরব নিয়ে আসুক।’

দেশে শান্তি প্রতিষ্ঠা ও পরিবর্তনের লক্ষ্যে সবাইকে একসঙ্গে কাজ করার আহ্বান জানান প্রধানমন্ত্রী। তিনি বলেন, কাজের ধরন ভিন্ন হলেও সবার লক্ষ্য হওয়া উচিত দেশের মানুষের জন্য শান্তিপূর্ণ পরিবেশ নিশ্চিত করা।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘আমাদের হয়তো কাজের ধরনটা কিছুটা ভিন্ন হতে পারে। কিন্তু লক্ষ্য একই। সেটা হচ্ছে দেশের মধ্যে শান্তি স্থাপন করা, যাতে সকলে মিলে আমরা ভালো থাকতে পারি, শান্তিতে থাকতে পারি। মানুষ যাতে মানুষের মতো করে বেঁচে থাকতে পারে। সেটাই আমাদের চেষ্টা, সেটাই আমাদের উদ্যোগ।’

দেশ ও দেশের মানুষের জন্য কাজ করতে সরকারের প্রতি সবার সহযোগিতা ও দোয়া কামনা করেন তিনি।

তিনি বলেন, ‘আমরা দেশের জন্য, দেশের মানুষের জন্য কাজ করতে চাই। সকলকে নিয়ে আমরা একসঙ্গে চলতে চাই। সকলকে নিয়ে আমরা দেশের জন্য ভালো কিছু পরিবর্তন আনতে চাই।’

অনুষ্ঠানে প্রধানমন্ত্রী বিজয়ী হাফেজদের বই উপহার দেন। এর আগে সৌদি আরবের প্রতিযোগিতায় যেসব সূরা তিলাওয়াত করে তারা পুরস্কার অর্জন করেছেন, সেসব সূরার আয়াত তাদের কণ্ঠে শোনেন প্রধানমন্ত্রী।

সৌদি আরবে অনুষ্ঠিত ৪৬তম কিং আবদুল আজিজ আন্তর্জাতিক পবিত্র কোরআন প্রতিযোগিতায় বিশ্বের ১৩৩টি দেশের প্রতিযোগী অংশ নেন। এতে বাংলাদেশের হাফেজ মোহাম্মদ জাকারিয়া ১৫ পারা হিফজ, তাজবীদ ও সুন্দর তিলাওয়াত বিভাগে প্রথম স্থান অর্জন করেন।

অন্যদিকে, হাফেজ শেখ মোহাম্মদ মাহমুদুল হাসান আশরাফী ৩০ পারা হিফজ, তাজবীদ ও সুন্দর তিলাওয়াত বিভাগে তৃতীয় স্থান অর্জন করেন। হাফেজা রাবেতা বিনতে রমজান ১৫ পারা বিভাগে এবং হাফেজা মুসফিরা বিনতে মাহমুদ ৩০ পারা হিফজ, তাজবীদ ও সুন্দর তিলাওয়াত বিভাগে তৃতীয় হন।

অনুষ্ঠানে ধর্মমন্ত্রী শাহ মোফাজ্জাল হোসাইন কায়কোবাদ, প্রতিমন্ত্রী শামীম কায়সার, মন্ত্রিপরিষদ সচিব নাসিমুল গনি এবং প্রধানমন্ত্রীর মুখ্য সচিব এ বি এম আব্দুস সাত্তারসহ সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।