প্রধানমন্ত্রীর জাপান সফরে বাংলাদেশ সম্পর্ক নতুন দ্বার উন্মোচন
# প্রধানমন্ত্রীর জাপান সফরে বেসরকারি বিনিয়োগ বৃদ্ধির প্রত্যাশা
# অর্থনৈতিক অংশীদারত্ব চুক্তি, বিনিয়োগ ও কর্মসংস্থানে বাড়ছে সম্ভাবনা
আরও পড়ুন: বিআরটি বাতিলের সিদ্ধান্ত পুনর্বিবেচনার দাবি গাজীপুর সাংবাদিক ফোরামের
# অবকাঠামো, প্রযুক্তি ও জ্বালানি সহযোগিতা
# দক্ষ জনশক্তি ও কর্মসংস্থানের সুযোগ
আরও পড়ুন: ইশরাকের পদত্যাগপত্র গ্রহণ, প্রজ্ঞাপন জারি
# বিনিয়োগ ও শিল্পায়নে জাপানের ভূমিকা
# অর্থনৈতিক অংশীদারত্বে নতুন সম্ভাবনা
# ১ এপ্রিল থেকে বাংলাদেশি কর্মী নেওয়া শুরু করবে জাপান
দীর্ঘদিনের বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্ককে নতুন উচ্চতায় নিয়ে যাওয়ার প্রত্যাশায় এগিয়ে চলছে বাংলাদেশ ও জাপান। কূটনৈতিক সহযোগিতা, বাণিজ্য, বিনিয়োগ, অবকাঠামো উন্নয়ন, প্রযুক্তি হস্তান্তর ও দক্ষ জনশক্তি বিনিময়ের মতো গুরুত্বপূর্ণ ক্ষেত্রে দুই দেশের সম্পর্ক ক্রমেই বিস্তৃত হচ্ছে। বিশেষ করে ২০২৬ সালের ৬ ফেব্রুয়ারি দুই দেশের মধ্যে অর্থনৈতিক অংশীদারত্ব চুক্তি (ইপিএ) স্বাক্ষরের মধ্য দিয়ে দ্বিপক্ষীয় অর্থনৈতিক সম্পর্কের নতুন সম্ভাবনার দ্বার উন্মোচিত হয়েছে। এবার বাংলাদেশ ও জাপানের দ্বিপাক্ষিক সম্পর্কে নতুন দিগন্তের উন্মোচনের আশা করছেন সংশ্লিষ্টরা। দুই দেশের মধ্যকার এই ঐতিহাসিক বন্ধুত্ব ও কৌশলগত অংশীদারিত্ব বাণিজ্য, বিনিয়োগ এবং বিশেষ করে জনশক্তি রপ্তানির ক্ষেত্রে নতুন দ্বার উন্মোচন করেছে। এই নতুন আশাবাদের মূল ভিত্তি হলো দুই দেশের সাম্প্রতিক শীর্ষ অর্থনৈতিক ও শ্রম চুক্তি এবং উচ্চপর্যায়ের দ্বিপাক্ষিক সফর।
শুধু তাই নয়, বাংলাদেশ ২০২৬-২০৩১ মেয়াদে পরিবহন, জ্বালানি, সেমিকন্ডাক্টর, তথ্যপ্রযুক্তি, জলবায়ু সহনশীলতা এবং মাতারবাড়ী গভীর সমুদ্রবন্দরের বাণিজ্যিক অবকাঠামো উন্নয়নে জাপানের কাছে ১৪ বিলিয়ন মার্কিন ডলারের কৌশলগত বিনিয়োগ প্যাকেজ প্রস্তাব করতে যাচ্ছে জাপান।
জানা গেছে, ১৯৭২ সালে কূটনৈতিক সম্পর্ক প্রতিষ্ঠার পর থেকেই বাংলাদেশের উন্নয়ন সহযোগী হিসেবে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে আসছে জাপান। দীর্ঘ পাঁচ দশকের বেশি সময় ধরে দেশটি বাংলাদেশের অবকাঠামো, যোগাযোগ, বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও মানবসম্পদ উন্নয়নে সহযোগিতা দিয়ে আসছে। ২০২৩ সালে দুই দেশের সম্পর্ক ‘কৌশলগত অংশীদারত্বে’ উন্নীত হওয়ায় সহযোগিতার ক্ষেত্র আরও সম্প্রসারিত হয়। বাংলাদেশ-জাপান সম্পর্কের সাম্প্রতিক অগ্রগতির অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ দিক হলো অর্থনৈতিক অংশীদারত্ব চুক্তি বা ইপিএ।
২০২৪ সালের মার্চে এ চুক্তি নিয়ে আলোচনা শুরু হয়। ধারাবাহিক আলোচনার পর ২০২৬ সালের ৬ ফেব্রুয়ারি টোকিওতে চুক্তিটি স্বাক্ষরিত হয়। বাংলাদেশের জন্য এটি প্রথম ইপিএ চুক্তি। চুক্তির আওতায় বিভিন্ন পণ্যের বাজারে প্রবেশাধিকার বাড়ানো এবং শুল্কসংক্রান্ত বাধা কমানোর সুযোগ তৈরি হয়েছে। ইস্পাত, গাড়ির যন্ত্রাংশ, বস্ত্র ও ইলেকট্রনিক উপাদানসহ বিভিন্ন পণ্যের ক্ষেত্রে শুল্ক প্রত্যাহারের ব্যবস্থা রয়েছে। পাশাপাশি বিনিয়োগ, সেবা বাণিজ্য, ই-কমার্স, মেধাস্বত্ব, শুল্ক পদ্ধতি ও বাণিজ্য সহজীকরণের মতো বিষয়েও নিয়মকানুন নির্ধারণ করা হয়েছে।
সংশ্লিষ্ট খাতের জন্য এই চুক্তি নতুন বাণিজ্যিক সুযোগ তৈরি করতে পারে। তবে এর সুফল কতটা কাজে লাগানো যাবে, তা নির্ভর করবে চুক্তির বাস্তবায়ন, উৎপাদন সক্ষমতা বৃদ্ধি এবং বাংলাদেশি উদ্যোক্তাদের বাজার প্রস্তুতির ওপর। বাংলাদেশের ক্রমবর্ধমান বাজার, ভৌগোলিক অবস্থান এবং উৎপাদন খাতের সম্ভাবনা জাপানি বিনিয়োগকারীদের জন্য গুরুত্বপূর্ণ বিবেচ্য বিষয়। অন্যদিকে, জাপানের উন্নত প্রযুক্তি, ব্যবস্থাপনা দক্ষতা ও শিল্প উৎপাদনের অভিজ্ঞতা বাংলাদেশের অর্থনীতিকে বহুমুখী করার ক্ষেত্রে সহায়ক হতে পারে। বিশেষ করে তৈরি পোশাক, হালকা প্রকৌশল, ইলেকট্রনিকস, অটোমোবাইল যন্ত্রাংশ, তথ্যপ্রযুক্তি,নবায়নযোগ্য জ্বালানি ও পরিবেশবান্ধব শিল্পে সহযোগিতা বাড়ানোর সুযোগ রয়েছে।
জাপানি বিনিয়োগ বাড়লে নতুন শিল্পপ্রতিষ্ঠান গড়ে ওঠা, কর্মসংস্থান সৃষ্টি এবং স্থানীয় উদ্যোক্তাদের প্রযুক্তিগত দক্ষতা উন্নয়নের সম্ভাবনাও বাড়বে। তবে বিনিয়োগ আকর্ষণে নীতির ধারাবাহিকতা, সহজ ব্যবসায়িক পরিবেশ, নির্ভরযোগ্য জ্বালানি সরবরাহ, দক্ষ জনশক্তি এবং প্রশাসনিক জটিলতা কমানো জরুরি। এসব ক্ষেত্রে অগ্রগতি হলে দুই দেশের অর্থনৈতিক অংশীদারত্ব আরও কার্যকর হতে পারে। জাপানে কর্মক্ষম জনগোষ্ঠীর ঘাটতি এবং বাংলাদেশের তরুণ জনশক্তির প্রাপ্যতা দুই দেশের সহযোগিতার আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ ক্ষেত্র। ভাষা শিক্ষা, কারিগরি প্রশিক্ষণ ও পেশাগত দক্ষতা উন্নয়নের মাধ্যমে বাংলাদেশি কর্মীদের জন্য জাপানের শ্রমবাজারে সুযোগ বাড়ানো সম্ভব। স্বাস্থ্যসেবা, নির্মাণ, উৎপাদনশিল্প, কৃষি ও বিভিন্ন কারিগরি পেশায় দক্ষ কর্মীদের সম্ভাবনা রয়েছে। তবে এ সুযোগ কাজে লাগাতে জাপানি ভাষায় দক্ষতা, আন্তর্জাতিক মানের প্রশিক্ষণ, স্বচ্ছ নিয়োগব্যবস্থা এবং কর্মীদের অধিকার ও নিরাপত্তা নিশ্চিত করা প্রয়োজন। শুধু কর্মী পাঠানোর সংখ্যা বাড়ানো নয়, বরং দক্ষ ও প্রশিক্ষিত জনশক্তি গড়ে তোলা এবং কর্মীদের অর্জিত অভিজ্ঞতা দেশে কাজে লাগানোর ব্যবস্থা করাও বাংলাদেশের জন্য গুরুত্বপূর্ণ।
বাংলাদেশের উন্নয়নযাত্রায় জাপানের অবকাঠামো সহযোগিতা দীর্ঘদিনের। যোগাযোগব্যবস্থা, নগর উন্নয়ন, বন্দর, বিদ্যুৎ ও জ্বালানি খাতে দুই দেশের সহযোগিতা অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ডের গতি বাড়াতে ভূমিকা রাখতে পারে। আগামী দিনে পরিবেশবান্ধব প্রযুক্তি, নবায়নযোগ্য জ্বালানি, জ্বালানি দক্ষতা, দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা এবং ডিজিটাল অর্থনীতিতে যৌথ উদ্যোগের সুযোগ রয়েছে। এসব খাতে জাপানের প্রযুক্তিগত অভিজ্ঞতা বাংলাদেশের উৎপাদনশীলতা বৃদ্ধি ও টেকসই উন্নয়নে সহায়ক হতে পারে। ২০২৬ সালের ১২ আগস্ট ঢাকায় অনুষ্ঠিত দুই দেশের সপ্তম পররাষ্ট্রসচিব পর্যায়ের বৈঠকেও বাণিজ্য ও বিনিয়োগ, জ্বালানি নিরাপত্তা, সবুজ জ্বালানি, অর্থনৈতিক অংশীদারত্ব চুক্তি, বিগ-বি উদ্যোগ এবং প্রতিরক্ষা সহযোগিতাসহ বিভিন্ন বিষয়ে আলোচনা হয়। এতে দ্বিপক্ষীয় সম্পর্কের বহুমাত্রিক অগ্রগতির বিষয়টি স্পষ্ট হয়েছে। বিশ্লেষণধর্মী দৃষ্টিতে বাংলাদেশ-জাপান সম্পর্কের সামনে যেমন সম্ভাবনা রয়েছে, তেমনি কিছু চ্যালেঞ্জও আছে।
আন্তর্জাতিক বাজারে প্রতিযোগিতা, উৎপাদন ব্যয়, দক্ষতার ঘাটতি, বিনিয়োগের অনিশ্চয়তা এবং বাণিজ্যিক মানদণ্ড পূরণের বিষয়গুলো বাংলাদেশের জন্য গুরুত্বপূর্ণ। ইপিএর সুযোগ কাজে লাগাতে রপ্তানি পণ্যে বৈচিত্র্য আনা, শিল্পের উৎপাদনশীলতা বাড়ানো, পণ্যের মান উন্নত করা এবং ক্ষুদ্র ও মাঝারি উদ্যোক্তাদের প্রস্তুত করা প্রয়োজন। একই সঙ্গে দুই দেশের ব্যবসায়ী সম্প্রদায়ের মধ্যে যোগাযোগ বৃদ্ধি, প্রযুক্তি বিনিময় এবং যৌথ বিনিয়োগের কার্যকর পরিবেশ নিশ্চিত করতে হবে। কূটনৈতিক সম্পর্কের ধারাবাহিকতা বজায় রাখার পাশাপাশি শিক্ষা, সংস্কৃতি, গবেষণা ও জনগণের মধ্যে যোগাযোগ বাড়ানোও জরুরি। পারস্পরিক আস্থা ও দীর্ঘমেয়াদি সহযোগিতার ভিত্তি শক্তিশালী হলে অর্থনৈতিক সম্পর্কের সুফল আরও বিস্তৃত হতে পারে।
প্রধানমন্ত্রীর জাপান সফর,বেসরকারি বিনিয়োগ বৃদ্ধির প্রত্যাশা: জাপানের প্রধানমন্ত্রী সানায়ে তাকাচির আমন্ত্রণে আগামী ২৬ থেকে ২৯ অক্টোবর চার দিনের সরকারি সফরে দেশটিতে যাচ্ছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। এই সফরের মধ্যদিয়ে দুদেশের বাণিজ্য, বেসরকারি বিনিয়োগ এবং কৌশলগত সম্পর্কের নতুন দ্বার উন্মোচন হবে বলে আশা করছে ঢাকা। মঙ্গলবার পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে আয়োজিত এক আনুষ্ঠানিক সংবাদ সম্মেলনে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের টোকিও সফরের বিস্তারিত তুলে ধরেন পররাষ্ট্রসচিব আসাদ আলম সিয়াম।
পররাষ্ট্রসচিব জানান, বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইনসের একটি বিশেষ ফ্লাইটে প্রধানমন্ত্রী ও তার সফরসঙ্গীরা জাপানের উদ্দেশে রওনা হবেন। তার এই সফরে সহধর্মিণী জুবাইদা রহমানও সঙ্গে থাকবেন। আগামী ২৭ অক্টোবর জাপানের প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ে দুই দেশের সরকারপ্রধানের মধ্যে দ্বিপক্ষীয় শীর্ষ বৈঠক অনুষ্ঠিত হবে। বৈঠক শেষে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সম্মানে আয়োজিত বিশেষ নৈশভোজে অংশ নেবেন তিনি। আসাদ আলম সিয়াম বলেন, বাংলাদেশ ও জাপানের মধ্যে ২০২৬ সালের ফেব্রুয়ারিতে ঐতিহাসিক অর্থনৈতিক অংশীদারিত্ব চুক্তি (ইপিএ) স্বাক্ষরের পর দ্বিপক্ষীয় সহযোগিতার পরিধি অনেক বৃদ্ধি পেয়েছে। প্রধানমন্ত্রীর এই সফরে সম্পর্কের নতুন দিগন্ত উন্মোচিত হবে এবং বাংলাদেশে জাপানি বেসরকারি বিনিয়োগ উল্লেখযোগ্য হারে বাড়বে বলে আমরা প্রত্যাশা করছি।
পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় সূত্রে জানা গেছে, তারেক রহমান ও সানায়ে তাকাচির শীর্ষ আলোচনায় ঋণের সুদের হার কমানোসহ পারস্পরিক যৌথ প্রকল্পগুলোর বাস্তবায়ন ব্যয় কমানোর বিষয়ে জাপানের কাছে নীতিগত আহ্বান জানাবে ঢাকা। এ ছাড়া মেগা প্রকল্প, বিশেষ করে মেট্রোরেলের সম্প্রসারণ ও পরিচালনা এবং তথ্যপ্রযুক্তি ও মানবসম্পদ উন্নয়নে জাপানের বড় ধরনের সহযোগিতা চাওয়া হবে। সফরকালে দুই দেশের মধ্যে কয়েকটি স্মারক ও চুক্তি স্বাক্ষরের প্রস্তুতি চলছে উল্লেখ করে পররাষ্ট্রসচিব বলেন, বর্তমানে প্রায় ৮টি সমঝোতা স্মারক (এমওইউ) স্বাক্ষরের বিষয়ে আলোচনা চূড়ান্ত পর্যায়ে রয়েছে। আশা করা হচ্ছে, সফরকালে এর মধ্যে অন্তত ৩ থেকে ৪টি স্মারক আনুষ্ঠানিকভাবে স্বাক্ষরিত হতে পারে।
এ ছাড়া বৈঠক শেষে একটি যৌথ ঘোষণাপত্র (জয়েন্ট স্টেটমেন্ট) প্রকাশের বিষয় নিয়েও দুই দেশের প্রতিনিধিরা কাজ করছেন। সফরে পররাষ্ট্রমন্ত্রী খলিলুর রহমান প্রধানমন্ত্রীর সফরসঙ্গী হবেন কি না–এমন প্রশ্নে পররাষ্ট্রসচিব জানান,পররাষ্ট্র মন্ত্রীর পূর্বনির্ধারিত সূচির সঙ্গে সময়সূচি মিললে তিনি অবশ্যই জাপান সফরে প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে থাকবেন। সংবাদ সম্মেলনে আরও জানানো হয়, দুই দেশের মধ্যে স্বাক্ষরিত দ্বিপক্ষীয় অগ্রাধিকারমূলক বাণিজ্য চুক্তি (পিটিএ) পর্যালোচনার জন্য জাপানের সংসদে ওঠার কথা রয়েছে। উভয় দেশের অভ্যন্তরীণ আইনি ও প্রশাসনিক প্রক্রিয়া সম্পন্ন হওয়ার পরপরই চুক্তিটি পূর্ণাঙ্গভাবে কার্যকর করা হবে।
১ এপ্রিল থেকে বাংলাদেশি কর্মী নেওয়া শুরু করবে জাপান: বাংলাদেশ ও জাপানের মধ্যকার দ্বিপাক্ষিক সম্পর্কের ক্ষেত্রে এক নতুন দিগন্ত উন্মোচিত হয়েছে। প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয় এবং জাপান সরকারের প্রায় এক বছরের দীর্ঘ প্রচেষ্টার ফলস্বরূপ গত ১৭ অক্টোবর উভয় দেশের মধ্যে কর্মসংস্থান সংক্রান্ত একটি নতুন চুক্তি ‘ইএসডিপি-এমওসি’ (মেমোরেন্ডাম অব কো-অপারেশন অন এমপ্লয়মেন্ট স্কিলস ডেভেলপমেন্ট) চূড়ান্তভাবে সই হয়েছে।
গত রোববার প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয়ের জনসংযোগ কর্মকর্তা মো. শরীফুল ইসলামের সই করা বিজ্ঞপ্তিতে এসব কথা বলা হয়। প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয়ের সচিব বাংলাদেশের পক্ষে এবং জাপানের বিচার মন্ত্রণালয়, পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়, স্বাস্থ্য, শ্রম ও কল্যাণ মন্ত্রণালয় এবং ন্যাশনাল পুলিশ এজেন্সির প্রতিনিধিরা জাপানের পক্ষে চুক্তিতে স্বাক্ষর করেন। সোমবার মন্ত্রণালয়ের এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এসব তথ্য জানানো হয়। চুক্তির প্রাথমিক মেয়াদ পাঁচ বছর। মেয়াদ শেষে এটি স্বয়ংক্রিয়ভাবে আরও পাঁচ বছরের জন্য বৃদ্ধি পাবে। ফলে চুক্তিটির সামগ্রিক মেয়াদ হবে ১০ বছর।
চুক্তির আওতায় বাংলাদেশি কর্মীদের সুরক্ষা নিশ্চিত করা, কর্মী পাঠানো ও গ্রহণের ক্ষেত্রে দুই দেশের মধ্যে সহযোগিতা জোরদার এবং কর্মসংস্থানের মাধ্যমে দক্ষতা উন্নয়নের সুযোগ তৈরি হবে। প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থানমন্ত্রী আরিফুল হক চৌধুরী চুক্তি স্বাক্ষর অনুষ্ঠানে বলেন, এ চুক্তির মাধ্যমে বাংলাদেশি কর্মীদের সর্বোচ্চ সুরক্ষা নিশ্চিত করার পাশাপাশি তাদের দক্ষতা উন্নয়ন, উচ্চ বেতন ও জাপানে দীর্ঘ মেয়াদে বসবাসের সুযোগ তৈরি হবে।
তিনি বলেন, চুক্তির আওতায় বাংলাদেশি কর্মীরা জাপানের স্থানীয় শ্রমিকদের সমতুল্য আইনি সুরক্ষা পাবেন এবং কর্মক্ষেত্রে নারী-পুরুষের সমান সুযোগ নিশ্চিত করা হবে। বিশেষ করে, গর্ভাবস্থা বা সন্তান জন্মদানের কারণে নারী বিদেশি কর্মীদের চাকরিচ্যুত করা বা তাদের সঙ্গে বৈষম্যমূলক আচরণ করা যাবে না। এ কারণে জোরপূর্বক দেশে ফেরত পাঠানোর কোনো বাধ্যতামূলক বিধানও চুক্তিতে রাখা হয়নি।
বিজ্ঞপ্তিতে আরও বলা হয়, প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের আসন্ন জাপান সফরের সময় চুক্তির কপি আনুষ্ঠানিকভাবে দুই পক্ষের মধ্যে হস্তান্তর করা হবে। চুক্তি বাস্তবায়নের মাধ্যমে বাংলাদেশ ও জাপানের মাধ্যকার বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্ক আরও জোরদার হওয়ার পাশাপাশি বাংলাদেশের দক্ষ মানবসম্পদ উন্নয়নের সুযোগ সম্প্রসারিত হবে বলে আশা প্রকাশ করেছে মন্ত্রণালয়।





