‘গুপ্ত-সুপ্ত’ নিয়ে রাজনীতিতে নতুন সন্দেহ সংশয় বাড়ছে
নিষিদ্ধ রাজনৈতিক দলগুলোর আন্ডারগ্রাউন্ড রাজনীতি পুরোনো বিষয় হলেও দীর্ঘ স্বৈরশাসনের সময়ে এর ধরন বদলে ‘গুপ্ত-সুপ্ত’ নামে নতুন করে আলোচনায় এসেছে। শহর থেকে গ্রামগঞ্জের চায়ের টেবিল—সর্বত্রই ‘গুপ্ত-সুপ্ত’ নিয়ে আবারও শুরু হয়েছে নানা আলোচনা। এতে রাজনৈতিক দলগুলোর মধ্যে পারস্পরিক সম্পর্ক ও অভ্যন্তরীণ বিষয়ে সন্দেহ-সংশয় তৈরি হয়েছে। রাজনৈতিক অঙ্গনে এক দলের অনুসারীরা অন্য দলে লুকিয়ে থেকে গুরুত্বপূর্ণ তথ্য আদান-প্রদান করছেন—এমন অভিযোগ নিয়ে নতুন করে বিতর্ক জোরালো হয়েছে। আওয়ামী লীগ, বিএনপি, জাতীয় পার্টি, জামায়াত, জাসদসহ অন্যান্য রাজনৈতিক দলের মধ্যে কে কোন আদর্শে বিশ্বাসী, কার আনুগত্য কোথায়, কে অন্য দলের হয়ে গোপনে কাজ করছেন কিংবা কারা প্রক্সি সংগঠনের মাধ্যমে রাজনৈতিক কর্মকাণ্ড পরিচালনা করছেন—এসব প্রশ্ন ঘিরে চলছে পাল্টাপাল্টি অভিযোগ। তৃণমূল থেকে কেন্দ্রীয় পর্যায় পর্যন্ত নেতাকর্মীদের আলোচনায় বিষয়টি গুরুত্ব পাচ্ছে।
সম্প্রতি বিষয়টি নতুন করে আলোচনায় এসেছে। প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান আবারও অভিযোগ করেছেন, গুপ্ত রাজনীতির মাধ্যমে ষড়যন্ত্র হচ্ছে। গত ১ অক্টোবর ঢাকার বাইরে ফেনীতে এক জনসভায় তিনি বলেন, ‘তাদেরকে কখনো রাজপথে দেখেছেন? তারা রাজপথে ছিল না। এই তারা এবং ওরা, যারা পালিয়ে গেছে—স্বৈরাচার এবং গুপ্ত—তারা আবার একসঙ্গে হয়েছে।’ এমন বক্তব্য ঘিরে সরগরম হয়ে উঠেছে রাজনৈতিক অঙ্গন। বিশেষ করে বিএনপি ও জামায়াতে ইসলামীর নেতাদের পাল্টাপাল্টি বক্তব্যে বিষয়টি নতুন করে আলোচনায় এসেছে।
আরও পড়ুন: শিক্ষার্থীদের নৈতিকতা ও প্রযুক্তির সঠিক ব্যবহারে গুরুত্ব দিলেন ডোনার
সূত্রে জানা গেছে, রাজনীতিতে ‘গুপ্ত’ বলতে সাধারণত এমন রাজনৈতিক তৎপরতার অভিযোগ বোঝানো হয়, যেখানে কেউ নিজের প্রকৃত রাজনৈতিক আনুগত্য প্রকাশ না করে অন্য কোনো দল বা সংগঠনের ভেতরে সক্রিয় থাকেন। অভিযোগ রয়েছে, কোনো কোনো ক্ষেত্রে রাজনৈতিক পরিচয় আড়াল করে সাংগঠনিক প্রভাব বিস্তার, তথ্য সংগ্রহ কিংবা নির্দিষ্ট রাজনৈতিক লক্ষ্য বাস্তবায়নের চেষ্টা করা হয়। তবে এসব অভিযোগের ক্ষেত্রে ব্যক্তিবিশেষের সংশ্লিষ্টতা প্রমাণসাপেক্ষ।
২০২৪ সালের ৫ আগস্ট ছাত্র-জনতার অভ্যুত্থানে আওয়ামী লীগ সরকারের পতনের পর বিশেষ করে বিভিন্ন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে ছাত্রসংগঠনগুলোর নেতৃত্ব ও রাজনৈতিক পরিচয় নিয়ে বিতর্ক দেখা দেয়। কিছু নেতার অতীত রাজনৈতিক সম্পৃক্ততা এবং পরবর্তী সময়ে প্রকাশ্যে আসা পরিচয় নিয়ে প্রশ্ন ওঠে। সেই প্রেক্ষাপট থেকেই ‘গুপ্ত রাজনীতি’ শব্দবন্ধটি নতুন করে আলোচনায় আসে। সাম্প্রতিক সময়ে বিএনপির শীর্ষ পর্যায় থেকে গোপন রাজনৈতিক তৎপরতা ও ষড়যন্ত্রের অভিযোগ তোলা হয়েছে। অন্যদিকে জামায়াতে ইসলামীর নেতারা এসব অভিযোগের বিরোধিতা করেছেন।
আরও পড়ুন: চাঁদাবাজি নির্মূলে শিগগিরই আসছে নতুন আইন: আইজিপি
রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের আলোচনায় উঠে এসেছে, ‘গুপ্ত’ তকমার ব্যবহার দলগুলোর অভ্যন্তরীণ সম্পর্কেও প্রভাব ফেলতে পারে। কোনো নেতার অতীত রাজনৈতিক পরিচয়, নতুন দলে যোগদান কিংবা ভিন্নমত প্রকাশকে সন্দেহের চোখে দেখা হলে দলের মধ্যে অবিশ্বাস বাড়ার আশঙ্কা থাকে। এ ধরনের পরিস্থিতিতে রাজনৈতিক কর্মীদের মধ্যে পারস্পরিক আস্থার সংকট তৈরি হতে পারে।
অতীতে নিষিদ্ধ রাজনৈতিক দল ও আন্ডারগ্রাউন্ড সংগঠনগুলো বিভিন্ন সময়ে গোপনে কার্যক্রম পরিচালনা করেছে। তবে বর্তমান আলোচনায় বিষয়টি ভিন্ন মাত্রা পেয়েছে। এখন অভিযোগের পরিধিতে রয়েছে অন্য দলের ভেতরে অবস্থান, রাজনৈতিক পরিচয় গোপন রাখা, সাংগঠনিক প্রভাব বিস্তার এবং প্রতিপক্ষের রাজনৈতিক কর্মকাণ্ডে পরোক্ষ ভূমিকা রাখার মতো বিষয়। তবে গোপন সাংগঠনিক কৌশল, রাজনৈতিক জোট বা মতাদর্শগত পরিবর্তন—সবকিছুকে একইভাবে ‘গুপ্ত রাজনীতি’ বলা যায় না।
কোনো অভিযোগের যথার্থতা নির্ধারণে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তির বক্তব্য, নথিপত্র ও যাচাইযোগ্য তথ্য গুরুত্বপূর্ণ। রাজনীতিতে মতপার্থক্য ও প্রতিদ্বন্দ্বিতা স্বাভাবিক। কিন্তু অভিযোগের রাজনীতি যখন প্রমাণের চেয়ে বেশি গুরুত্ব পায়, তখন জনপরিসরে বিভ্রান্তি তৈরি হতে পারে। একই সঙ্গে রাজনৈতিক দলগুলোর প্রকৃত কর্মসূচি, নীতিগত অবস্থান এবং জনগণের কাছে তাদের জবাবদিহির বিষয়গুলোও আড়ালে পড়ে যাওয়ার আশঙ্কা থাকে। তাই ‘গুপ্ত-সুপ্ত’ বিতর্কে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্ন হলো—কোন অভিযোগের পক্ষে কী প্রমাণ রয়েছে, রাজনৈতিক দলগুলো নিজেদের অবস্থান কতটা স্বচ্ছভাবে তুলে ধরছে এবং ভিন্নমতকে কীভাবে মোকাবিলা করছে।
সব মিলিয়ে, বাংলাদেশের রাজনীতিতে ‘গুপ্ত-সুপ্ত’ বিতর্ক কেবল কয়েকটি রাজনৈতিক দলের পারস্পরিক অভিযোগের বিষয় নয়; এটি রাজনৈতিক আস্থা, সাংগঠনিক স্বচ্ছতা ও জবাবদিহির প্রশ্নও সামনে নিয়ে এসেছে। অভিযোগের বদলে প্রমাণ, ব্যক্তিগত আক্রমণের বদলে নীতিগত বিতর্ক এবং সন্দেহের বদলে স্বচ্ছ রাজনৈতিক চর্চাই পারে এ ধরনের বিতর্কের প্রকৃত সত্য উন্মোচনে সহায়তা করতে।
বিএনপি চেয়ারম্যান তারেক রহমান বলেন, বরাবরই তো তারা একসঙ্গে ছিল। ১৯৯১ সালেও তারা একসঙ্গে ছিল, ১৯৮৬ সালেও একসঙ্গে ছিল। গত নির্বাচনের সময়ও তারা একসঙ্গেই ছিল, তলে-তলে কাজ করেছিল। এ জন্যই তাদের গুপ্ত বলা হয়।
জামায়াতকে ইঙ্গিত করে দেওয়া তারেক রহমানের এমন বক্তব্যের প্রতিক্রিয়া আসে দুই দিন পর জামায়াতের সেক্রেটারি জেনারেল মিয়া গোলাম পরওয়ারের বক্তব্যে। ঢাকায় বায়তুল মোকাররমের সামনে এক সমাবেশে তিনি বলেন, ‘বিশাল বিশাল প্রতিবাদ-বিক্ষোভ হয়েছে। বিএনপি আসার কথা থাকলেও আসেনি, জামায়াত-শিবির লড়াই করে জীবন দিয়েছে। আপনি সেই জামায়াত-শিবিরকে আজ গুপ্ত বলেন। আপনার লজ্জা পাওয়া উচিত।’
তবে গুপ্ত রাজনীতি প্রসঙ্গ দুই দলের শীর্ষস্থানীয় নেতাদের বক্তব্যেই সীমাবদ্ধ থাকেনি। অন্য অনেক নেতা এবং বিশেষত দলের কর্মীরাও এই বিতর্কে যোগ দেন। সর্বশেষ গত ১৫ অক্টোবর সরকারের প্রতিমন্ত্রী ও গণঅধিকার পরিষদের শীর্ষ নেতা নুরুল হক নুর অভিযোগ করেন, জামায়াত বিভিন্ন প্রক্সি সংগঠন তৈরি করে রাজনীতিতে ব্যবহার করছে। তাঁর অভিযোগ, ‘জুলাইয়ের নামে বিভিন্ন দোকান খোলা, সাইনবোর্ড খোলা—এগুলোর আশি শতাংশই জামায়াত-শিবিরের।’
কিন্তু প্রশ্ন হচ্ছে, এই যে বেনামি রাজনীতিকে ‘গুপ্ত রাজনীতি’ বলা হচ্ছে, রাজনীতিতে এই শব্দটি এল কীভাবে? আর রাজনীতিতে ‘গুপ্ত’ আখ্যা দেওয়ার এই প্রবণতা কি দলগুলোর মধ্যে বিভাজন, অবিশ্বাস ও সন্দেহ বাড়াচ্ছে?
কেউ যখন পরিচয় গোপন করে ভিন্ন আদর্শ বা চিন্তার কোনো দলে অনুপ্রবেশ করে রাজনৈতিক তৎপরতা চালান এবং পরে সুবিধাজনক সময়ে ওই দল থেকে বেরিয়ে নিজের পছন্দের আদর্শের দলের হয়ে প্রকাশ্যে আসেন—সাম্প্রতিক সময়ে এ ধরনের কিছু উদাহরণ নিয়ে আলোচনা ও বিতর্ক হয়েছে। আর এই আলোচনাতেই সামনে এসেছে গুপ্ত রাজনীতির প্রসঙ্গ।
দেশে গুপ্ত রাজনীতি নিয়ে প্রথম জোরালো আলোচনা শুরু হয় মূলত ২০২৪ সালে। ওই বছরের ৫ আগস্ট ছাত্র-জনতার গণঅভ্যুত্থানে শেখ হাসিনা সরকারের পতনের পর বিশেষত ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে একের পর এক প্রকাশ্যে আসতে থাকেন ইসলামী ছাত্রশিবিরের নেতারা। তখন অভিযোগ ওঠে, এসব নেতার কেউ কেউ এর আগে গোপনে ছাত্রলীগের রাজনীতির সঙ্গে যুক্ত ছিলেন। যদিও অভিযোগটি মিথ্যা বলে খণ্ডন করেছে শিবির।
সেই সময় গুপ্ত রাজনীতি নিয়ে ছাত্রশিবিরের বিরুদ্ধে অভিযোগগুলো তোলা হয় মূলত বিএনপির ছাত্রসংগঠন ছাত্রদলের পক্ষ থেকে। ছাত্রদলের কেন্দ্রীয় সভাপতি রাকিবুল ইসলাম রাকিব বলেন, ‘তাদেরকে তো চেনাই যাচ্ছে না। তাদের পলিটিক্সে কারা, কী করছে, সেটাও বোঝা যাচ্ছে না। তাদের কমিটিগুলোও তারা প্রকাশ করে না।’
এ ছাড়া গুপ্ত রাজনীতির মাধ্যমে ছাত্রশিবির কৌশলে ক্যাম্পাসগুলোতে আধিপত্য তৈরির চেষ্টা করেছে—এমন দাবিও করেন রাকিব। তিনি বলেন, ‘তারা তো প্রকাশ্যে নেই। তাদের কাউকে তারা ডিবেটিং সোসাইটিতে পাঠায়, কাউকে তারা সাংবাদিক সমিতিতে পাঠায়। এভাবে তারা সামাজিক-সাংস্কৃতিক সংগঠনগুলোতে আধিপত্য বা দখল তৈরি করে। এসব প্রতিষ্ঠানে দলীয় পদ-পদবি থাকলে নেতৃত্বে আসা যায় না। ফলে ছাত্রদলের নেতারা সেখানে যেতে না পারলেও শিবির পারে। কারণ, তারা তো গুপ্ত আছে। এই গুপ্ত অবস্থান থেকে তারা ক্যাম্পাসে যেকোনো ধরনের মব তৈরি করে ফেলতে পারে।’
তবে আওয়ামী লীগের টানা তিন মেয়াদের শাসনামলে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়সহ শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলোতে সেভাবে প্রকাশ্যে কার্যক্রম পরিচালনা করতে পারেনি ছাত্রদল। একই সময়ে ছাত্রশিবিরও ছিল একরকম নিষিদ্ধ। অভিযোগ রয়েছে, ছাত্রদলের প্রকাশ্য কমিটি থাকলেও বিশ্ববিদ্যালয়গুলোতে শিবির প্রকাশ্যে কমিটি দেয়নি। এমনকি ৫ আগস্ট-পরবর্তী উন্মুক্ত রাজনীতিতেও দলটি পূর্ণাঙ্গ কমিটি প্রকাশ্যে আনছে না। যদিও শিবির এসব অভিযোগ নাকচ করেছে।
ছাত্রশিবিরের কেন্দ্রীয় প্রচার সম্পাদক এস এম ফরহাদ বলেন, ‘ছাত্রদল তো তিন-চার বছরে মনে হয় ৩০ থেকে ৪০টি কমিটি দিতে পেরেছে সারা দেশে। এটাকে তারা মনে করে যে বিশাল ব্যাপার। অথচ আমরা প্রতি বছর জানুয়ারিতে আমাদের ১৩২টি শাখায় কমিটি করি। প্রতিটি কমিটি আপনি শিবিরের ওয়েবসাইটে পাবেন। আমাদের ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের কমিটিও আপনি পাবেন। কিন্তু এরপরও ছাত্রদল বলবে যে গুপ্ত।’
বিশ্ববিদ্যালয়গুলোতে ছাত্রশিবিরের সব ইউনিটের পূর্ণাঙ্গ কমিটি কেন ঘোষণা করা হয় না—এমন প্রশ্নে এস এম ফরহাদ বলেন, ‘সবখানেই কমিটি দেওয়া হয়। এখন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে হলে রাজনীতি থাকবে কি না, সেটা নিয়ে বিতর্ক আছে। শিক্ষার্থীরা এর বিরুদ্ধে। ফলে এই বিতর্কের সুরাহা আগে হতে হবে। শিক্ষার্থীরা যদি প্রশাসনকে এ বিষয়ে মতামত জানায়, তাহলে আমরা হলগুলোতেও কমিটি দেব। আর যেসব বিশ্ববিদ্যালয়ে এই সমস্যা নেই, সেখানে আমরা হল পর্যায়েও কমিটি দিয়েছি।’
এ ছাড়া ছাত্রশিবির দাবি করছে, তাদের কমিটি ছোট হয়। ঢালাওভাবে দুই-তিনশ সদস্য বা তার বেশি লোক নিয়ে তারা কমিটি করে না। কিন্তু ছাত্রদল বলছে, শিবিরের এই ছোট কমিটির বাইরে যারা থাকেন, তাঁদের অনেকেই পরিচয় লুকিয়ে গোপন রাজনীতি করেন। এমনকি অতীতে ছাত্রলীগে ছিলেন—এমন ব্যক্তিরাও পরে ছাত্রশিবিরের নেতা হিসেবে আবির্ভূত হয়েছেন।
ছাত্রদলের সভাপতি রাকিবুল ইসলাম রাকিব বলেন, ‘যারা আগে ছাত্রলীগের পতাকাতলে বিতর্কিত ভূমিকায় ছিল, ৫ আগস্টের পরে আমরা দেখেছি, ইসলামী ছাত্রশিবিরের পতাকাতলে তারা আশ্রয় নিয়েছে।’ তবে শিবিরের প্রচার সম্পাদক এস এম ফরহাদ ছাত্রলীগের সঙ্গে সংশ্লিষ্টতার অভিযোগ অস্বীকার করেছেন।
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক ও রাজনীতি বিশ্লেষক জোবাইদা নাসরিন বলেন, ‘অতীতে বাংলাদেশে গুপ্ত রাজনীতি যেটা হয়েছে, সেটা মূলত নিষিদ্ধ দলগুলো করেছে। বাংলাদেশে বা উপমহাদেশে এই গুপ্ত রাজনীতির ধরন অনেক আগে থেকেই ছিল। যেমন পাকিস্তান আমলে আন্ডারগ্রাউন্ড দলগুলো, বিশেষ করে বিভিন্ন সময়ে যেসব দলকে নিষিদ্ধ করা হয়েছিল—যেমন কমিউনিস্ট পার্টির মতো বিভিন্ন বাম দল। যখন কোনো দল নিষিদ্ধ হয়, তখন তারা গুপ্তভাবে বা আড়ালে কার্যক্রম পরিচালনা করত। তখন এটাকে বলা হতো আন্ডারগ্রাউন্ড।’ তবে গত বিশ বছরে আন্ডারগ্রাউন্ড রাজনীতির ধরন পরিবর্তিত হয়েছে বলে মনে করেন জোবাইদা নাসরিন।
বিএনপি চেয়ারম্যানের উপদেষ্টা জয়নুল আবদীন ফারুক বলেন, ‘তারা সংস্কার নিয়ে কথা বলে। আমরা তো সংস্কারের বিরুদ্ধে না। কিন্তু তারা গুপ্তভাবে কিছুটা ষড়যন্ত্র করছে। এই সংস্কার নিয়ে বিভ্রান্ত করার চেষ্টা করছে যে, আমরা সংস্কার করব না। আপনারা (জামায়াত) আগে দেখেন আমরা কী করি! না দেখেই ফেলে দেওয়ার কথা বলছেন, গুপ্তভাবে ষড়যন্ত্র করছেন, লং মার্চ করছেন। আমরা যদি অন্যায় করি, আমাদের সাজা দেবে জনগণ। কিন্তু কোনো মুভমেন্ট করে, গুপ্ত ষড়যন্ত্র করে এটা পারবেন না।’
তবে জামায়াত কোনো রকম গোপন ষড়যন্ত্র বা গুপ্ত রাজনীতির পৃষ্ঠপোষকতার অভিযোগ নাকচ করছে। জানতে চাইলে জামায়াতে ইসলামীর সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল এহসানুল মাহবুব জুবায়ের গুপ্ত রাজনীতি নিয়ে জামায়াতের বিরুদ্ধে তারেক রহমান ও বিএনপির বক্তব্যের সমালোচনা করেন।
বিশ্লেষকদের মতে, এ ধরনের আলোচনার ক্ষেত্রে তথ্যের সত্যতা যাচাই অত্যন্ত জরুরি। অসম্পূর্ণ তথ্য, গুজব কিংবা অনুমাননির্ভর বক্তব্য অনেক সময় বিভ্রান্তি তৈরি করে। তাই কোনো বিষয় নিয়ে সিদ্ধান্তে পৌঁছানোর আগে নির্ভরযোগ্য সূত্র, প্রামাণ্য নথি এবং সংশ্লিষ্ট পক্ষের বক্তব্য বিবেচনায় নেওয়া প্রয়োজন।
‘গুপ্ত-সুপ্ত’ নিয়ে নতুন করে আলোচনা তৈরির পেছনে কী কারণ রয়েছে, কারা এর সঙ্গে সংশ্লিষ্ট এবং এর বাস্তব তাৎপর্য কী—এসব প্রশ্নের উত্তর পেতে প্রয়োজন আরও অনুসন্ধান ও তথ্যভিত্তিক বিশ্লেষণ। সব মিলিয়ে, আড়ালে থাকা বিষয়কে সামনে আনার ক্ষেত্রে জনস্বার্থ, বস্তুনিষ্ঠতা ও দায়িত্বশীল সাংবাদিকতার গুরুত্ব আবারও সামনে এসেছে। তবে আলোচনার কেন্দ্রে থাকা নির্দিষ্ট ঘটনা বা ব্যক্তির বিষয়ে সুনির্দিষ্ট তথ্য পাওয়া গেলে প্রতিবেদনটি আরও তথ্যসমৃদ্ধ ও প্রাসঙ্গিক করে তোলা সম্ভব।





