আয় কমেছে জামায়াতের
নির্বাচন কমিশনে (ইসি) জমা দেওয়া বার্ষিক আর্থিক বিবরণী অনুযায়ী, ২০২৫ সালে জামায়াতে ইসলামী আয় করেছে ২৩ কোটি ৬৮ লাখ ২৪ হাজার ১৩৯ টাকা। একই সময়ে দলটির ব্যয় হয়েছে ২৩ কোটি ৯১ লাখ ৮৬ হাজার ৯৩৪ টাকা। অর্থাৎ বছর শেষে আয়-ব্যয়ের হিসাবে দলটির ঘাটতি দাঁড়িয়েছে প্রায় ২৩ লাখ ৬৩ হাজার টাকা।
নির্বাচন কমিশনে নিবন্ধিত রাজনৈতিক দলগুলোর জন্য প্রতিবছর আগের পঞ্জিকাবর্ষের আয়-ব্যয়ের হিসাব জমা দেওয়া বাধ্যতামূলক। সেই নিয়ম অনুযায়ী দল দুটি তাদের ২০২৫ সালের আর্থিক বিবরণী ইসিতে জমা দিয়েছে।
আরও পড়ুন: জুলাই যোদ্ধাদের সঙ্গে বেইমানি করলে আল্লাহ ছেড়ে দেবেন না: ডা. শফিকুর রহমান
এক বছরে জামায়াতের আয় কমেছে ৫ কোটি:
ইসিতে জমা দেওয়া তথ্য বিশ্লেষণে দেখা যায়, ২০২৪ সালের তুলনায় ২০২৫ সালে জামায়াতে ইসলামীর আয় কমেছে প্রায় ৫ কোটি ২৮ লাখ ৭৬ হাজার টাকা।
আরও পড়ুন: বাহুবলে এনসিপির গাড়িবহর আটকাল পুলিশ, ১৪৪ ধারার কারণে হবিগঞ্জে প্রবেশে বাধা
২০২৪ সালে দলটি আয় দেখিয়েছিল ২৮ কোটি ৯৭ লাখ ২৯৯ টাকা। ওই বছর ব্যয় হয়েছিল ২৩ কোটি ৭৩ লাখ ৩৮ হাজার ১৭৭ টাকা। সে হিসাবে ২০২৪ সালে আয়-ব্যয়ের পর জামায়াতের উদ্বৃত্ত ছিল প্রায় ৫ কোটি ২৩ লাখ ৬২ হাজার টাকা।
তবে পরের বছর চিত্রটি বদলে যায়। ২০২৫ সালে আয় কমে ২৩ কোটি ৬৮ লাখ ২৪ হাজার ১৩৯ টাকায় নেমে এলেও ব্যয় বেড়ে দাঁড়িয়েছে ২৩ কোটি ৯১ লাখ ৮৬ হাজার ৯৩৪ টাকা। ফলে আয়কে ছাড়িয়ে গেছে ব্যয়।
অর্থাৎ ২০২৪ সালে যে দলটির আয় ব্যয়ের তুলনায় উল্লেখযোগ্যভাবে বেশি ছিল, ২০২৫ সালে এসে সেখানে উল্টো ব্যয়ের পরিমাণ আয়কে ছাড়িয়ে গেছে।
হাতে ও ব্যাংকে থাকা অর্থ
ইসিতে দেওয়া জামায়াতে ইসলামীর হিসাব অনুযায়ী, ২০২৫ সালের শুরুতে দলটির হাতে ছিল ১৫ কোটি ৭৩ লাখ টাকা। বছর শেষে আয়-ব্যয়ের হিসাব সমন্বয়ের পর নগদ অর্থ রয়েছে ৭ কোটি ৫১ লাখ ১৩ হাজার ৬৫ টাকা।
এ ছাড়া ব্যাংক হিসাবে জমা রয়েছে ৭ কোটি ৯৮ লাখ ৩১ হাজার ৩৬৩ টাকা। অর্থাৎ নগদ ও ব্যাংক মিলিয়ে দলটির কাছে থাকা অর্থের পরিমাণ প্রায় ১৫ কোটি ৪৯ লাখ টাকা।
আগের বছরের তুলনায় বছর শেষে দলটির হাতে থাকা অর্থের পরিমাণ কমেছে বলেও আর্থিক বিবরণী থেকে দেখা যায়।
দলগুলোর আর্থিক স্বচ্ছতার বিষয়টি গুরুত্বপূর্ণ:
নির্বাচন কমিশনে রাজনৈতিক দলগুলোর আয়-ব্যয়ের হিসাব জমা দেওয়ার বিধান মূলত দলগুলোর আর্থিক কর্মকাণ্ডে স্বচ্ছতা ও জবাবদিহি নিশ্চিত করার একটি প্রাতিষ্ঠানিক প্রক্রিয়া। বিশেষ করে নির্বাচনী রাজনীতি ও দলীয় কর্মকাণ্ডে অর্থের ভূমিকা বিবেচনায় রাজনৈতিক দলগুলোর অর্থের উৎস এবং ব্যয়ের খাত জনস্বার্থের গুরুত্বপূর্ণ বিষয়।
জামায়াতে ইসলামী ও বিএনপির জমা দেওয়া হিসাবেও গত দুই বছরে আয়-ব্যয়ের ধরনে পরিবর্তন দেখা যাচ্ছে। একদিকে জামায়াতের আয় কমার পাশাপাশি ব্যয় বেড়েছে; অন্যদিকে বিএনপির আয়-ব্যয়ের ব্যবধান থেকে উদ্বৃত্ত তৈরি হয়েছে।
তবে দলগুলোর আর্থিক বিবরণীতে কোন খাত থেকে কত আয় হয়েছে এবং কোন কোন খাতে কত ব্যয় হয়েছে—তার বিস্তারিত বিশ্লেষণই দলগুলোর আর্থিক কর্মকাণ্ডের প্রকৃত চিত্র বোঝার ক্ষেত্রে বেশি গুরুত্বপূর্ণ। ইসিতে জমা দেওয়া হিসাব সেই জবাবদিহির কাঠামোর অংশ হিসেবে রাজনৈতিক দলগুলোর আর্থিক কার্যক্রম সম্পর্কে একটি প্রাতিষ্ঠানিক ধারণা দেয়।
৩১ জুলাইয়ের মধ্যে হিসাব দেওয়ার বিধান:
নির্বাচন কমিশনে নিবন্ধিত রাজনৈতিক দলগুলোকে প্রতিবছর ৩১ জুলাইয়ের মধ্যে আগের পঞ্জিকাবর্ষের আয়-ব্যয়ের হিসাব জমা দিতে হয়। দলগুলোর জমা দেওয়া হিসাব পরবর্তী সময়ে কমিশনের নথিতে সংরক্ষিত থাকে এবং রাজনৈতিক দলের আর্থিক কর্মকাণ্ডের আনুষ্ঠানিক হিসাব হিসেবে বিবেচিত হয়।
এরই ধারাবাহিকতায় ২০২৫ সালের আয়-ব্যয়ের হিসাব জমা দিয়েছে জামায়াতে ইসলামী ও বিএনপি। দুই দলের হিসাবের তুলনা করলে দেখা যায়, একই সময়ে উভয় দলের আয় ২০২৫ সালে ২২-২৪ কোটি টাকার মধ্যে থাকলেও ব্যয়ের ক্ষেত্রে উল্লেখযোগ্য পার্থক্য রয়েছে। জামায়াতের ব্যয় আয়কে ছাড়িয়ে গেলেও বিএনপির ক্ষেত্রে আয় ব্যয়ের তুলনায় প্রায় ৭ কোটি টাকা বেশি হয়েছে।
রাজনৈতিক দলগুলোর আর্থিক হিসাব প্রকাশ ও তা নিয়ে জনপরিসরে আলোচনা গণতান্ত্রিক ব্যবস্থায় দলীয় জবাবদিহি ও আর্থিক স্বচ্ছতা বাড়ানোর ক্ষেত্রেও গুরুত্বপূর্ণ বলে মনে করেন সংশ্লিষ্টরা।





