ছাত্রদলকে নতুন করে সাজানোর উদ্যোগ

নতুন কমিটিতে জোরেসোরে ১২ নেতার নাম আলোচনায়

Sanchoy Biswas
বাংলাবাজার রিপোর্ট
প্রকাশিত: ৭:২৩ অপরাহ্ন, ০৪ এপ্রিল ২০২৬ | আপডেট: ৭:২৩ অপরাহ্ন, ০৪ এপ্রিল ২০২৬
ছবিঃ সংগৃহীত
ছবিঃ সংগৃহীত

বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল প্রতিষ্ঠার পর শহিদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমান বুঝতে পারেন যে ভবিষ্যতের বিএনপি নেতাদের জন্য একটি শক্তিশালী ছাত্র সংগঠনের প্রয়োজন। এরই প্রেক্ষিতে তিনি ১৯৭৯ সালের ১ জানুয়ারি জাতীয়তাবাদী ছাত্রদল প্রতিষ্ঠা করেন। বর্তমানে যারা বিএনপির রাজনীতির সাথে যুক্ত রয়েছেন, তাদের মধ্যে অনেকেই জাতীয়তাবাদী ছাত্রদলের সাথে যুক্ত ছিলেন।

দীর্ঘদিন পর সরকার গঠন করেছে বিএনপি। ফলে দলটির অন্যতম সহযোগী সংগঠন ছাত্রদল নেতাকর্মীদের মাঝে ফিরে এসেছে নতুন উদ্দীপনা। তবে, সাম্প্রতিক বিভিন্ন ছাত্র সংসদ নির্বাচনে আশানুরূপ ফল না পাওয়া এবং ২৬০ সদস্যের বড় কমিটিতে অভ্যন্তরীণ কোন্দল- এসব বিষয় নিয়ে সংগঠনের ভেতরেই সমালোচনা রয়েছে। তারই প্রেক্ষাপটে এবার ছাত্রদলকে নতুন করে সাজানোর উদ্যোগ নিয়েছে দলের হাইকমান্ড। সেই ধারাবাহিকতায় কেন্দ্রীয় নতুন কমিটি নিয়ে চলছে জোর গুঞ্জন।

আরও পড়ুন: ‘লাইট-ফ্যান ব্যবহারে নিয়ন্ত্রণে ছাত্রদল-যুবদল তদারকি করবে’ এমন বক্তব্য গুজব: রিজভী

বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি)-এর সহযোগী সংগঠন জাতীয়তাবাদী ছাত্রদলের বর্তমান কেন্দ্রীয় কমিটির মেয়াদ শেষ হয়েছে। ছাত্রদলের সর্বশেষ পাঁচটি কেন্দ্রীয় কমিটির মধ্যে চারটি প্রায় দুই বছরের মতো সময় দায়িত্ব পালন করেছে। তবে অতীতে রাজীব-আকরাম কমিটি প্রায় পাঁচ বছর দায়িত্বে ছিল, যা সাম্প্রতিক সময়ের মধ্যে সবচেয়ে দীর্ঘ মেয়াদি কমিটি হিসেবে ধরা হয়। সংগঠনের প্রচলিত নিয়ম অনুযায়ী কেন্দ্রীয় কমিটির মেয়াদ দুই বছর এবং বিশ্ববিদ্যালয় ও জেলা পর্যায়ের কমিটির মেয়াদ এক বছর ধরা হয়। কিন্তু বাস্তবে অনেক ক্ষেত্রেই এসব কমিটি নির্ধারিত সময়ের চেয়ে বেশি সময় দায়িত্বে থাকার নজির রয়েছে। ২৬০ সদস্যের পূর্ণাঙ্গ কেন্দ্রীয় কমিটি নিয়ে বিভিন্ন সময়ে সমালোচনাও হয়েছে। শীর্ষ নেতাদের ঘনিষ্ঠদের প্রাধান্য দেওয়া, অভ্যন্তরীণ দ্বন্দ্ব এবং বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্র সংসদ নির্বাচনে প্রত্যাশিত ফল না পাওয়ার বিষয়গুলো নিয়ে সংগঠনের ভেতরে আলোচনা ছিল। গত ১ মার্চ শেষ হয়েছে রাকিবুল ইসলাম রাকিবকে সভাপতি ও নাছির উদ্দীন নাছিরকে সাধারণ সম্পাদক করে গঠিত কমিটির দুই বছরের মেয়াদ। এর পর থেকেই সংগঠনটির ভেতরে নতুন নেতৃত্ব নিয়ে আলোচনা শুরু হয়েছে।

এদিকে, বর্তমান কমিটির মেয়াদ শেষ হওয়ার সঙ্গে সঙ্গে নতুন নেতৃত্ব গঠনের দাবি জোরালো হয়েছে। ইতোমধ্যে যোগাযোগ ও সাংগঠনিক তৎপরতা বাড়িয়েছেন সম্ভাব্য প্রার্থীরা। দলীয় বিভিন্ন কর্মসূচি ও অনুষ্ঠানেও অংশ নিচ্ছেন সম্ভাব্য প্রার্থীরা। পাশাপাশি কর্মীদের সঙ্গে যোগাযোগ বাড়াতে বিভিন্ন সাংগঠনিক কার্যক্রমও পরিচালনা করছেন। সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমেও অনেকেই তাদের রাজনৈতিক কর্মকা-, আন্দোলন-সংগ্রাম এবং নির্যাতনের অভিজ্ঞতা তুলে ধরছেন।

আরও পড়ুন: স্থানীয় নির্বাচনে নেতৃত্ব দিতে চায় মূল ধারার বিএনপি

খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, নতুন কমিটির শীর্ষ পদে অন্তত ডজনখানেক নেতার নাম ঘুরে ফিরে আলোচনায় আসছে। এর মধ্যে বর্তমান কেন্দ্রীয় কমিটির কয়েকজন গুরুত্বপূর্ণ নেতা এবং সাবেক কিছু কেন্দ্রীয় নেতাও রয়েছেন। বিশেষ করে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়সহ দেশের বড় কয়েকটি বিশ্ববিদ্যালয়ে সক্রিয় থাকা নেতাদের মধ্য থেকে কয়েকজনের নাম বেশি শোনা যাচ্ছে। সভাপতি পদে আলোচনায় থাকা নেতাদের মধ্যে রয়েছেন, বর্তমান কেন্দ্রীয় ছাত্রদলের সহ সভাপতি কাজী জিয়া উদ্দীন বাসিত, সহ-সভাপতি মো খোরশেদ আলম সোহেল, সাংগঠনিক সম্পাদক মোঃ আমান উল্লাহ আমান, যুগ্ম-সম্পাদক মোস্তাফিজুর রহমান, যুগ্ম-সম্পাদক মুমিনুল ইসলাম জিসান, বেসরকারী বিশ্ববিদ্যালয় শাখার সাধারণ সম্পাদক মো: রাজীবুল ইসলাম তালুকদার (বিন্দু), ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্রদলের সভাপতি গণেশ চন্দ্র রায় সাহস। সাধারণ সম্পাদক পদে সম্ভাব্যদের তালিকায় রয়েছেন, কেন্দ্রীয় সংসদের যুগ্ম সম্পাদক তারেক হাসান মামুন, যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক রাজু আহমেদ, সাহিত্য ও প্রকাশনা সম্পাদক মিনহাজ আহমেদ প্রিন্স, যুগ্ম সম্পাদক গাজী সাদ্দাম হোসেন ও যুগ্ম-সম্পাদক ওমর ফারুক মামুন। এছাড়াও ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় শাখার সাধারণ সম্পাদক নাহিদুজ্জামান শিপন ও যুগ্ম-সম্পাদক শামীম আক্তার শুভও আলোচনায় রয়েছেন। বর্তমান কেন্দ্রীয় ছাত্রদলের সাংগঠনিক সম্পাদক মোঃ আমান উল্লাহ আমান বলেন, নতুন নেতৃত্বে তরুণ উদ্যম ও অভিজ্ঞতার সমন্বয় থাকলে সংগঠন আরও কার্যকরভাবে এগিয়ে যেতে পারবে। তাছাড়া ছাত্রদলের সাংগঠনিক অভিভাবক হিসেবে বিএনপির চেয়ারম্যান ও মাননীয় প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানই নতুন নেতৃত্বের বিষয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেবেন।

বেসরকারী বিশ্ববিদ্যালয় শাখার সাধারণ সম্পাদক মো: রাজীবুল ইসলাম তালুকদার (বিন্দু) বলেন, বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী ছাত্রদল, বাংলাদেশের স্বাধীনতা, গণতন্ত্র, জনগণ ও শিক্ষার্থীদের অধিকার আদায়ে আন্দোলনে অগ্রণী ভুমিকা পালন করেছে সবসময়। আগামীর ছাত্রদলের কমিটি হবে, আদর্শিক ও নৈতিক শিক্ষিত, সৎ, সাহসী, দক্ষ, মেধাবী, উদ্যমী নেতৃত্ব ও আধুনিক প্রযুক্তি-সচেতন এবং  দেশ জনগন ও শিক্ষার্থীদের পাশে থাকা নেতৃত্বেদের দিয়ে। এতে সংগঠন ঐক্যবদ্ধ শক্তিশালী হবে ও সাধারণ শিক্ষার্থীদের আস্থা অর্জন করতে পারবে। তিনি বলেন, বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী ছাত্রদলের এক মাত্র অভিভাবক জনাব তারেক রহমান, আগামীর ছাত্রদলের কমিটি অন্তর্ভুক্তিমূলক হবে বলে আমরা প্রত্যাশা করছি। বিভিন্ন ইউনিট, বিশ্ববিদ্যালয় ও অঞ্চলের প্রতিনিধিত্বের সমন্বয়ে হবে ইনশাআল্লাহ।

জাতীয়তাবাদি ছাত্রদলের কেন্দ্রীয় সংসদের বর্তমান যুগ্ম সম্পাদক তারেক হাসান মামুন বলেন, জাতীয়তাবাদী ছাত্রদলের সম্মানিত সাংগঠনিক অভিভাবক, মাননীয় প্রধানমন্ত্রী জনাব তারেক রহমানই অতীতের ন্যায় স্বচ্ছতা ও যোগ্যতার ভিত্তিতে নেতৃত্ব বাছাইয়ের চুড়ান্ত সিদ্ধান্ত নিবেন। স্বৈরাচারী আমলে আন্দোলন-সংগ্রামের সক্রিয় সংগঠক, ত্যাগী, নির্যাতিত, গঠনমূলক ছাত্রবান্ধব রাজনীতির প্রজ্ঞাসম্পন্ন এবং অপরাপর বন্ধুপ্রতিম প্রতিদ্বন্দ্বি সংগঠনগুলোকে সাংগঠনিক শক্তি দিয়ে রাজপথে এবং শিক্ষা ও শিক্ষার্থীবান্ধব কর্মসূচীর মাধ্যমে শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে মোকাবিলার মতো প্রজ্ঞা আছে এমন ব্যক্তিদের দিয়ে কমিটি গঠন করা হলে তৃণমূল নেতাকর্মীদের প্রত্যাশা পূরণ হবে। এছাড়াও ছাত্রসমাজের কাছে গ্রহণযোগ্যতা ও নতুন প্রজন্মের ভাবনা বোঝার সক্ষমতাকেও গুরুত্ব দেওয়ার বিষয় উল্লেখ করেছেন তারেক হাসান মামুন।