শাপলা চত্বরে ‘গণহত্যা’র দ্রুত বিচার দাবি করলো হেফাজত

Sanchoy Biswas
বাংলাবাজার রিপোর্ট
প্রকাশিত: ৭:৪৬ অপরাহ্ন, ০৫ মে ২০২৬ | আপডেট: ৭:৪৬ অপরাহ্ন, ০৫ মে ২০২৬
ছবিঃ সংগৃহীত
ছবিঃ সংগৃহীত

প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের কাছে ২০১৩ সালের ৫ মে ঢাকার মতিঝিল শাপলা চত্বরে সংঘটিত গণহত্যার বিচার নিশ্চিতের দাবি জানিয়েছেন হেফাজতে ইসলামের আমির আল্লামা মুহিব্বুল্লাহ বাবুনগরী ও মহাসচিব আল্লামা সাজেদুর রহমান। গতকাল মঙ্গলবার এক বিবৃতিতে তারা এই দাবি জানান।

বিবৃতিতে বলা হয়, ২০১৩ সালের ৫ মে শাপলা চত্বরে হেফাজতের লাখো জমায়েতের ওপর ফ্যাসিস্ট হাসিনা সরকারের পরিকল্পিত নৃশংস গণহত্যায় অগণিত ধর্মপ্রাণ মানুষ শহীদ হন। হাজার হাজার আলেম, হাফেজ ও নবীপ্রেমিক জনতা আহত ও পঙ্গুত্ব বরণ করেন। আমরা ৫ মের মহান শহীদদের স্মরণে সারা দেশে দোয়া ও আলোচনাসভার আয়োজন করার জন্য হেফাজতের নেতাকর্মীসহ সকলের প্রতি আহ্বান জানাচ্ছি। তারা আরও বলেন, ৫ মের গণহত্যার দায়ে পতিত ফ্যাসিস্ট হাসিনাসহ ৫৪ জনের বিরুদ্ধে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে হেফাজতে ইসলাম-এর পক্ষ থেকে করা মামলা বিচারাধীন রয়েছে। বর্তমান প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের কাছে আমাদের জোর দাবি, দেশে ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠার স্বার্থে শাপলার খুনিদের দৃষ্টান্তমূলক বিচার নিশ্চিত করুন।

আরও পড়ুন: শাপলা চত্বরের ঘটনায় নিরপেক্ষ তদন্ত কমিশন গঠনের দাবি জামায়াত আমিরের

তারা বলেন, ২০১৩ সালে ৫ মের গণহত্যার প্রতিবাদে সবাই মাঠে নামলে পরবর্তীতে চব্বিশের জুলাই ম্যাসাকার দেখতে হতো না। তৎকালীন রাজনৈতিক দলগুলোর ব্যর্থতা, ইসলামবিদ্বেষী সেক্যুলারদের উসকানি ও সুশীল সমাজের বড় অংশের নীরবতার মধ্য দিয়েই ফ্যাসিবাদের উত্থান ঘটতে পেরেছিল বলে আমরা মনে করি।

হেফাজত নেতৃবৃন্দ আরও বলেন, ২০১৩ সালে ইসলামবিদ্বেষী ও আধিপত্যবাদীদের প্রজেক্ট গণজাগরণ মঞ্চের বিরুদ্ধে শাপলার চেতনা রুখে না দাঁড়ালে অচিরেই বাংলাদেশের স্বাধীনতা ও সার্বভৌমত্ব লুণ্ঠিত হতো। প্রতিবাদী আলেম-ওলামা ও ইসলামপন্থীদেরকে ‘না-মানুষ’ বানানো ইসলামবিদ্বেষীদের বিরুদ্ধে শাপলার রক্তাক্ত চেতনা জাগ্রত রাখতে হবে। এ ছাড়া বর্তমান সরকার প্রত্যেক নাগরিকের মানবিক মর্যাদা, নিরাপত্তা ও ধর্মীয় অনুভূতি রক্ষায় ব্যর্থ হলে জনগণ তাদের প্রত্যাখ্যান করবে। এটি সরকারকে মাথায় রাখতে হবে।

আরও পড়ুন: সংরক্ষিত আসনে নুসরাত তাবাসসুমকে এমপি ঘোষণা করে গেজেট প্রকাশ

এদিকে, শাপলা চত্বরে সংঘটিত গণহত্যার দ্রুত, নিরপেক্ষ ও স্বচ্ছ বিচার নিশ্চিত করাসহ ৫ দফা দাবি জানিয়েছে বাংলাদেশ হেফাজতে ইসলামের লালবাগ জোন। একইদিন বিকেলে লালবাগের হাজী আব্দুল আলীম ঈদগাহ মাঠে (আজাদ মাঠ) হেফাজতে ইসলাম বাংলাদেশের লালবাগ জোন আয়োজিত শাপলা চত্বরে সংঘটিত গণহত্যার দ্রুত বিচার, আলেমদের বিরুদ্ধে দায়েরকৃত সকল মিথ্যা মামলা প্রত্যাহার এবং হেফাজত ঘোষিত ১৩ দফা বাস্তবায়নের দাবিতে সমাবেশে এসব দাবি জানান হেফাজতে ইসলাম লালবাগ জোনের সাধারণ সম্পাদক মাওলানা বশিরুল হাসান খাদেমানি।

লালবাগ জোনের অন্য ৪টি দাবি হচ্ছে— নিহতদের পরিবারকে উপযুক্ত ক্ষতিপূরণ এবং আহতদের পূর্ণ চিকিৎসা ও পুনর্বাসনের ব্যবস্থা করতে হবে; আলেম-ওলামাদের বিরুদ্ধে দায়েরকৃত সকল মিথ্যা ও হয়রানিমূলক মামলা অবিলম্বে প্রত্যাহার করতে হবে; শাপলা চত্বরে সংঘটিত ঘটনার প্রকৃত ইতিহাস জাতির সামনে তুলে ধরে তা জাতীয় শিক্ষাক্রমে অন্তর্ভুক্ত করতে হবে এবং ঘোষিত ১৩ দফা দাবি দ্রুত বাস্তবায়নের কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণ করতে হবে।

সমাবেশে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত থেকে হেফাজত ইসলাম বাংলাদেশের কেন্দ্রীয় নায়েবে আমীর আল্লামা আব্দুল হামিদ বলেন, ইমান আমাদের ছিল, আমাদের কাছে আবার ফেরত আসবে। যারা মাঝখানে আছে আল্লাহওয়ালাদের সাথে, দ্বীন সাথে থাকলে তাদের জন্য ভালো হবে। তা যদি না হয় আগে যা হয়েছে, তাই হবে। যে দুর্দশা আগে হয়েছে কেয়ামতের আগ পর্যন্ত এটাই হবে। হেফাজতে ইসলাম ছিল, আছে ও থাকবে।

তিনি বলেন, পারলে ভালো কাজ করব, মানুষের উপকার করব, দ্বীনি কাজ করব। না পারলে আমার দ্বারা যেন দ্বীনের কোনো ক্ষতি না হয়, তা থেকে দূরে থাকার চেষ্টা করবো।

হেফাজতে ইসলাম লালবাগ জোনের সভাপতি মাওলানা জুবায়ের আহমদের সভাপতিত্বে সমাবেশে আরও বক্তব্য রাখেন হেফাজত ইসলাম বাংলাদেশের যুগ্ম মহাসচিব মুফতি সাখাওয়াত হুসাইন রাজী, মুফতি ইমাদ উদ্দিন প্রমুখ।