ফুটপাতে চাঁদা তোলা নিয়ে ছাত্রদল-যুবদল সংঘর্ষ, নিউমার্কেট রণক্ষেত্র

Sadek Ali
বাংলাবাজার ডেস্ক
প্রকাশিত: ৮:৩৪ পূর্বাহ্ন, ১২ অগাস্ট ২০২৬ | আপডেট: ৫:১৫ অপরাহ্ন, ১২ অগাস্ট ২০২৬
ছবিঃ সংগৃহীত
ছবিঃ সংগৃহীত

ফুটপাতে চাঁদাবাজি ও আধিপত্য বিস্তারকে কেন্দ্র করে রাজধানীর নিউ মার্কেট এলাকায় ঢাকা কলেজের শিক্ষার্থী, ছাত্রদল ও যুবদলের মধ্যে দফায় দফায় সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে। মঙ্গলবার সন্ধ্যায় নিউ মার্কেট থানাধীন বলাকা সিনেমা হলের সামনে এ ঘটনার সূত্রপাত বলে জানিয়েছেন স্থানীয়রা।

প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, সন্ধ্যায় যুবদলের নেতাকর্মীরা ফুটপাতে চাঁদা তুলতে এলে ঢাকা কলেজ ছাত্রদল ও শিক্ষার্থীরা এতে বাধা দেন। এ সময় যুবদলের নেতাকর্মীরা তাদের মারধর করলে তারা হলে ফিরে যান। পরে ঢাকা কলেজের ছাত্রদল নেতাকর্মী ও শিক্ষার্থীরা এসে আবারও সংঘর্ষে জড়ান। খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে পরিস্থিতি শান্ত করার চেষ্টা করে।

আরও পড়ুন: যে কারণে হারুনকে সরানোর নির্দেশ দিয়েছিলেন শেখ হাসিনা

প্রত্যক্ষদর্শী সূত্র আরও জানায়, মারামারির খবর পেয়ে রাতে নিউ মার্কেট থানা যুবদলের সদস্যসচিব কে এম চঞ্চলের নেতৃত্বে ১৮ নম্বর ওয়ার্ড যুবদলের আহ্বায়ক ইফতেখার, সদস্যসচিব শাহাদাত, মোবাইল সোহেল, চায়না সুমন, আজিমসহ অর্ধশতাধিক নেতাকর্মী ঢাকা কলেজ ছাত্রদলের কয়েকজনের ওপর হামলা করেন। তারা দেশীয় অস্ত্র, লাঠি ও ছুরি দিয়ে আঘাত করেন। এতে ঢাকা কলেজের কয়েকজন শিক্ষার্থী গুরুতর আহত হন।

পরবর্তীতে ঢাকা কলেজের শিক্ষার্থীদের ওপর হামলার খবর ছড়িয়ে পড়লে শিক্ষার্থীরা প্রিয়াঙ্গন মার্কেটসংলগ্ন বসুন্ধরা গলিতে গেলে হামলাকারীদের ওপর পাল্টা হামলা করে এলাকায় ব্যাপক ভাঙচুর চালায়। এ সময় ওই এলাকায় আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে।

আরও পড়ুন: বিএনপির রাজনীতির উজ্জ্বল নক্ষত্র রিজভীই হচ্ছেন ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব

যুবদলের হামলায় আহতরা হলেন ঢাকা কলেজ ছাত্রদলের যুগ্ম আহ্বায়ক প্রিন্স খন্দকার, মো. সুমন সিকদার, আহ্বায়ক সদস্য মো. সাগর খান, মো. সায়মন ইসলাম, ছাত্রদল সদস্য মুসফিকুর রহিম, শাকিব হাসান, ইমরান হোসেন ও ২৩-২৪ সেশনের শিক্ষার্থী জিহাদুল ইসলাম। তাদের ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল ও স্থানীয় হাসপাতালে চিকিৎসা দেওয়া হয়েছে।

স্থানীয় সূত্র জানায়, ২০২৪ সালের ৫ আগস্টের পর নিউ মার্কেট থানা যুবদলের সদস্যসচিব কে এম চঞ্চল বেপরোয়া হয়ে ওঠেন। এলিফ্যান্ট রোডে মাল্টিপ্ল্যান মার্কেটের দখল নেওয়ার সময় কুপিয়ে হত্যাচেষ্টা মামলার ৪ নম্বর আসামি তিনি।

ডিএমপির তেজগাঁও বিভাগের উপ-কমিশনার শেখ জাহিদুল ইসলাম বলেন, সন্ধ্যার পর থেকে যুবদল ও ঢাকা কলেজ ছাত্রদলের মধ্যে দফায় দফায় সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে। এ ঘটনায় উভয় পক্ষের লোকজন আহত হয়েছেন। রাত সাড়ে ১১টা পর্যন্ত পরিস্থিতি পুলিশের নিয়ন্ত্রণে রয়েছে। পুলিশ বিষয়টি তদন্ত করে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করবে।