১৫৩ রানের লিড বাংলাদেশের
অস্ট্রেলিয়ার ১৯৮ রানের জবাবে ব্যাট করতে নেমে দারুণ অবস্থান তৈরি করেও দিনের শেষভাগে দ্রুত তিন উইকেট হারিয়ে চাপে পড়েছিল বাংলাদেশ। তবে মেহেদী হাসান মিরাজ ও হাসান মাহমুদের দৃঢ় ব্যাটিংয়ে সেই চাপ সামলে দ্বিতীয় দিনের খেলা শেষ করেছে সফরকারীরা। দিন শেষে বাংলাদেশের সংগ্রহ ৬ উইকেটে ৩৫১ রান, অস্ট্রেলিয়ার চেয়ে লিড দাঁড়িয়েছে ১৫৩ রানে।
দিনের শুরুটা বাংলাদেশের জন্য ছিল আশাব্যঞ্জক। তানজিদ হাসান তামিম ও মুমিনুল হকের ব্যাটে দ্বিতীয় উইকেটে আসে ১০২ রানের জুটি। মুমিনুল ৪৯ রানে ফিরলেও তানজিদ ও নাজমুল হোসেন শান্তর ব্যাটিংয়ে বড় লিডের সম্ভাবনা তৈরি হয়।
আরও পড়ুন: তানজিদের ফিফটি, লাঞ্চে ১৮১ রানে বাংলাদেশ
তানজিদ ১৮৮ বলে দারুণ এক সেঞ্চুরি করেন। তার ইনিংস থামে বড় শট খেলতে গিয়ে। এরপর শান্তও ব্যাট হাতে দলের স্কোর এগিয়ে নিচ্ছিলেন। তবে ৮৪ রানে অধিনায়কের বিদায়ের পর বাংলাদেশের ইনিংসে আচমকা ধস নামে।
এক পর্যায়ে ৩ উইকেটে ২৯৭ রান করা বাংলাদেশ মাত্র ১১ রানের ব্যবধানে আরও তিনটি উইকেট হারায়। নতুন বল হাতে নিয়ে অস্ট্রেলিয়ার পেসাররা দ্রুত ম্যাচে ফিরে আসেন।
আরও পড়ুন: হাসান মাহমুদের ৬, দুইশর আগেই অস্ট্রেলিয়াকে অলআউট করল বাংলাদেশ
জশ হ্যাজলউডের বলে স্টিভ স্মিথের হাতে ক্যাচ দিয়ে ফেরেন শান্ত। ১২৬ বলের ইনিংসে তিনি করেন ৮৪ রান। এরপর লিটন দাস ও মুশফিকুর রহিমও বেশিক্ষণ টিকতে পারেননি।
মিচেল স্টার্কের বলে ড্রাইভ করতে গিয়ে লিটন দাস ক্যাচ দেন স্মিথের হাতে। পরে ৫৫ বলে ৩৬ রান করে প্যাট কামিন্সের বলে একই ফিল্ডারের হাতে ক্যাচ দিয়ে ফেরেন মুশফিক।
৩০৮ রানে ষষ্ঠ উইকেট হারানোর পর বাংলাদেশের ইনিংসের দায়িত্ব কাঁধে তুলে নেন মেহেদী হাসান মিরাজ ও হাসান মাহমুদ। দুজনের অবিচ্ছিন্ন জুটি এখন পর্যন্ত ৪৩ রান যোগ করেছে। প্রায় ২৫ ওভার ক্রিজে থেকে অস্ট্রেলিয়ার বোলারদের হতাশ করেছেন তারা।
দিন শেষে মিরাজ ৭৩ বলে ৩২ রান করে অপরাজিত আছেন। অন্য প্রান্তে হাসান মাহমুদের সংগ্রহ ৭৬ বলে ১৩ রান। তাদের দৃঢ়তায় বাংলাদেশ প্রথম ইনিংসে বড় লিডের আশা জিইয়ে রেখেছে।
তবে দিনের শেষদিকে মিরাজ অল্পের জন্য বেঁচে যান। মার্নাস লাবুশেনের বলে তার ব্যাটের ক্যাচ নিচু হয়ে আসলেও ক্যামেরন গ্রিন সেটি তালুবন্দি করতে পারেননি। ফলে ৩২ রানে জীবন পাওয়া মিরাজ তৃতীয় দিনেও ব্যাট করার সুযোগ পেয়েছেন।
অস্ট্রেলিয়ার প্রথম ইনিংসের ১৯৮ রানের বিপরীতে বাংলাদেশের লিড এখন ১৫৩ রান। তৃতীয় দিনে মিরাজ-হাসান জুটি কতদূর এগোতে পারে, সেটিই এখন বাংলাদেশের বড় প্রত্যাশা।





