এআই দিয়ে সাইবার হামলার ঝুঁকি বাড়ছে, দ্রুত প্রতিরোধের আহ্বান

Any Akter
প্রযুক্তি ডেস্ক
প্রকাশিত: ৬:৩৫ অপরাহ্ন, ২৯ অগাস্ট ২০২৬ | আপডেট: ৫:৫০ পূর্বাহ্ন, ৩০ অগাস্ট ২০২৬
ছবিঃ সংগৃহীত
ছবিঃ সংগৃহীত

কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার (এআই) ব্যবহার যত বাড়ছে, ততই বাড়ছে সাইবার হামলার ঝুঁকি। ভবিষ্যতে এআই ব্যবহার করে আরও দ্রুত, স্বয়ংক্রিয় ও জটিল সাইবার হামলা চালানো সম্ভব হতে পারে। এমন পরিস্থিতিতে সাইবার নিরাপত্তা জোরদারে এখনই কার্যকর উদ্যোগ নেওয়ার আহ্বান জানিয়েছে বিশ্বের প্রায় ১০০টি প্রতিষ্ঠান।

গুগল, মাইক্রোসফট, অ্যানথ্রপিক ও ওপেনএআইসহ বিভিন্ন প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠান এ বিষয়ে প্রকাশিত একটি খোলা চিঠিতে স্বাক্ষর করেছে। ব্যাংক, অর্থপ্রযুক্তি প্রতিষ্ঠান এবং গুরুত্বপূর্ণ অবকাঠামোর সঙ্গে যুক্ত প্রতিষ্ঠানও এতে রয়েছে।

আরও পড়ুন: দু’দিন পর বিরল আংশিক চন্দ্রগ্রহণ, দেখা যাবে তিন মহাদেশ থেকে

চিঠিতে বলা হয়েছে, এআই ব্যবহার করে পরিচালিত সাইবার হামলা আগামী কয়েক মাসের মধ্যেই আরও ব্যাপক ও জটিল হয়ে উঠতে পারে। কিন্তু এসব হামলা মোকাবিলায় বর্তমান নিরাপত্তাব্যবস্থা যথেষ্ট নয় বলে উদ্বেগ প্রকাশ করেছে প্রতিষ্ঠানগুলো।

খোলা চিঠিতে বলা হয়েছে, সাইবার প্রতিরক্ষা শক্তিশালী করার জন্য হাতে সময় খুব কম। বিশেষ করে হাসপাতাল, পানি সরবরাহ ব্যবস্থা এবং অন্যান্য গুরুত্বপূর্ণ অবকাঠামোর নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বেগ রয়েছে।

আরও পড়ুন: অনলাইনে পণ্যে নকলের সমাহার!

প্রতিষ্ঠানগুলোর দাবি, এসব খাতে সাইবার নিরাপত্তার জন্য দীর্ঘদিন ধরে প্রয়োজনীয় অর্থ ও জনবল বরাদ্দ করা হয়নি। ফলে এআইয়ের সক্ষমতা দ্রুত বাড়তে থাকলে এসব অবকাঠামো বড় ধরনের ঝুঁকির মুখে পড়তে পারে।

চিঠিতে সরকারগুলোর প্রতি প্রতিরক্ষামূলক কাজে সক্ষম এআই প্রযুক্তি সরবরাহ এবং নিয়মিত নিরাপত্তা পরীক্ষা চালানোর আহ্বান জানানো হয়েছে। একই সঙ্গে প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠানগুলোকে অর্থ, প্রশিক্ষণ ও কারিগরি সহায়তা দেওয়ার কথা বলা হয়েছে।

সম্প্রতি একের পর এক সাইবার হামলার ঘটনা এ উদ্বেগ আরও বাড়িয়েছে। যুক্তরাষ্ট্রের বিচার বিভাগের তথ্যমতে, চীনভিত্তিক হ্যাকাররা মার্কিন সিনেট, নাসা, কেন্দ্রীয় ব্যাংক ও বিচার বিভাগের ব্যবস্থায় অনুপ্রবেশ করেছে।

এদিকে এআই ব্যবহার করে নিরাপত্তাব্যবস্থা এড়িয়ে যাওয়ার সক্ষমতার ঘটনাও সামনে এসেছে। ওপেনএআই, অ্যানথ্রপিক ও মেটার তৈরি বিভিন্ন এআই ব্যবস্থার ক্ষেত্রে এমন আচরণের তথ্য প্রকাশ পেয়েছে।

জুলাইয়ে ওপেনএআইয়ের কয়েক শ এআই এজেন্টের একটি পরীক্ষায় দেখা যায়, তারা নিজেদের মধ্যে যোগাযোগের জন্য গোপন বার্তা আদান-প্রদানের ব্যবস্থা তৈরি করতে পারে। পরে তারা সমন্বিতভাবে হাগিং ফেসের ব্যবস্থায় হামলা চালাতে সক্ষম হয়। ঘটনাটিকে বিশ্বের প্রথম এআই-চালিত সাইবার হামলা হিসেবে বর্ণনা করা হয়েছে।

হাগিং ফেসও নতুন খোলা চিঠিতে স্বাক্ষর করেছে। প্রতিষ্ঠানটি ওই ঘটনার তদন্তে চীনের জেডএআইয়ের তৈরি একটি এআই ব্যবস্থার সহায়তা নিয়েছিল বলে জানানো হয়েছে।

যুক্তরাষ্ট্রের অন্তত সাতটি পানি ও পয়োনিষ্কাশন প্রতিষ্ঠান সম্প্রতি সাইবার হামলার শিকার হয়েছে। এসব ঘটনার পর দেশটির কেন্দ্রীয় তদন্ত সংস্থা এ খাতের প্রতিষ্ঠানগুলোকে নিরাপত্তাব্যবস্থা জোরদারের আহ্বান জানিয়েছে।

তবে গুরুত্বপূর্ণ অবকাঠামোর নিরাপত্তায় একটি বড় সমস্যা হলো, সবচেয়ে শক্তিশালী এআই ব্যবস্থাগুলো সবার জন্য সহজলভ্য নয়। ফলে যেসব প্রতিষ্ঠানের পর্যাপ্ত অর্থ ও জনবল নেই, তাদের কাছে উন্নত প্রতিরক্ষামূলক প্রযুক্তি পৌঁছে দেওয়ার ওপরও গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে খোলা চিঠিতে।

এআই প্রযুক্তির ঝুঁকি নিয়ে দীর্ঘদিন ধরে সতর্ক করে আসছেন গবেষক ও প্রযুক্তি বিশেষজ্ঞরা। কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা নিয়ে কাজ করা গবেষক অ্যান্ড্রু ইউন আশঙ্কা প্রকাশ করেছেন, সামনে এআই ব্যবহার করে সাইবার হামলার নজিরবিহীন ঢেউ আসতে পারে।

তার মতে, শুধু প্রতিরক্ষা জোরদারের কথা বললেই হবে না। যেসব প্রতিষ্ঠান এআইয়ের সক্ষমতা বাড়াচ্ছে, তাদের নিজেদের ঘোষিত প্রতিশ্রুতি অনুযায়ী নিরাপত্তায় বড় অঙ্কের অর্থ বিনিয়োগ করতে হবে।

অন্যদিকে যুক্তরাষ্ট্রে এআই ব্যবস্থার নিয়ন্ত্রণ নিয়েও আলোচনা চলছে। দেশটির কয়েকজন সিনেটর ‘কিল সুইচ আইন’ নামে একটি প্রস্তাব দিয়েছেন। এর মাধ্যমে ঝুঁকিপূর্ণ এআই ব্যবস্থা বন্ধ করার ক্ষমতা কর্তৃপক্ষকে দেওয়ার কথা বলা হয়েছে।

নোবেল পুরস্কারজয়ী প্রযুক্তিবিদ জিওফ্রি হিন্টনও এআইয়ের ভবিষ্যৎ নিয়ে সতর্ক করেছেন। তার মতে, এআই কোনো পর্যায়ে মানুষের চেয়ে বেশি বুদ্ধিমান হয়ে উঠলে এবং এর সম্ভাব্য ঝুঁকি মোকাবিলার উপায় খুঁজে পাওয়া না গেলে ভবিষ্যৎ অত্যন্ত উদ্বেগজনক হতে পারে।

প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠানগুলোর খোলা চিঠির মূল বার্তা হলো—এআইয়ের সক্ষমতা আরও বাড়ার আগেই সাইবার নিরাপত্তাব্যবস্থা শক্তিশালী করতে হবে। কারণ হামলার প্রযুক্তি দ্রুত এগিয়ে যাওয়ার সঙ্গে প্রতিরক্ষার প্রস্তুতিও সমানতালে না বাড়লে গুরুত্বপূর্ণ অবকাঠামো ও সাধারণ মানুষের জন্য বড় ধরনের ঝুঁকি তৈরি হতে পারে।