বিজয় এক্সপ্রেস ট্রেন থেকে রক্তাক্ত এক যাত্রীর মরদেহ উদ্ধার

Sanchoy Biswas
শামীম খান, গৌরীপুর (ময়মনসিংহ)
প্রকাশিত: ৮:০০ অপরাহ্ন, ১২ অক্টোবর ২০২৫ | আপডেট: ১:০২ পূর্বাহ্ন, ০১ ফেব্রুয়ারী ২০২৬
ছবিঃ সংগৃহীত
ছবিঃ সংগৃহীত

চট্টগ্রাম থেকে ছেড়ে আসা আন্তঃনগর বিজয় এক্সপ্রেস ট্রেন থেকে ময়মনসিংহের গৌরীপুর রেলওয়ে জংশনে রোববার (১২ অক্টোবর/২৫) রক্তাক্ত এক যাত্রীর লাশ উদ্ধার করেছে রেলওয়ে পুলিশ। লাশ উদ্ধারের বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন গৌরীপুর রেলওয়ে ফাঁড়ির ইনচার্জ (সাব-ইন্সপেক্টর) আবুল কালাম।

তিনি জানান, জামালপুরগামী আন্তঃনগর বিজয় এক্সপ্রেস ট্রেনটি গৌরীপুর জংশনে থামার পর ট্রেনের পাওয়ারকার (বৈদ্যুতিক রুম) কোচে একজন পড়ে আছে এমন খবর পেয়ে তাকে উদ্ধার করা হয়। নিহতের নাম হাজী আব্দুর রহমান, বয়স আনুমানিক ৬২। তিনি নেত্রকোনা জেলার মোহনগঞ্জ উপজেলার মেনদী গ্রামের ওয়াহেদ আলীর পুত্র।

আরও পড়ুন: লক্ষ্মীপুরে জমি নিয়ে বিরোধে প্রতিপক্ষের হামলায় আহত ১৩

উদ্ধারের পর তাকে হাসপাতালে পাঠানোর প্রস্তুতি নেয়া হয়েছিল। কিন্তু দেখা যায়, তিনি ট্রেনের ভিতরেই মারা গেছেন। তার লাশ ময়মনসিংহ রেলওয়ে থানায় নিয়ে যাওয়া হয়েছে। সেখানে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে। নিহতের ছেলে গাজীপুর থেকে ময়মনসিংহ আসছে।

প্রত্যক্ষদর্শী সূত্র জানায়, বিপদজ্জনক চিহ্নযুক্ত কোচের ভিতরে আব্দুর রহমানের লাশ পাওয়া গেছে। তার শরীরের ডান হাত ও পরিধান রক্তমাখা ছিল। ট্রেনের বগিতেও রক্ত জমাট হয়ে আছে। ট্রেনের জানালা ও কোচেও রক্তের দাগ রয়েছে। উদ্ধারকারী গৌরীপুর রেলওয়ে ফাঁড়ির কন্সটেবল মো. রফিকুল ইসলাম জানান, উদ্ধারকৃত যাত্রীর ডানহাতে রক্তের দাগ ছিল।

আরও পড়ুন: নরসিংদীতে বিপুল পরিমাণ ইয়াবা ও গাঁজা উদ্ধার, আটক ৩

ওই ট্রেনের যাত্রী আজিজুল হক জানান, ট্রেনটি খুব ভিড় ছিল না। বগিতে অনেক আসন খালি থাকলেও বিপদজ্জনক কোচে যাত্রী কিভাবে পৌঁছাল, তা অজানা।

গৌরীপুর রেলওয়ে ফাঁড়ির ইনচার্জ আবুল কালাম বলেন, ধারণা করা হচ্ছে ওই কক্ষটি গরম ছিল। ট্রেনের ঝাঁকায় ধাক্কা খেয়ে জানালার পাশে পড়ে গেলে মাথায় ও হাতে প্রচণ্ড আঘাত পেয়েছেন। কোচের ভিতরে প্রচণ্ড শব্দের কারণে কেউ টের পাননি। বিজয় এক্সপ্রেস ট্রেনের পাওয়ারকার কোচের দায়িত্বরত কর্মকর্তার বক্তব্য নেওয়ার সময় তিনি সটকে পড়েন।

গৌরীপুর জংশনের কেবিন মাস্টার আব্দুল কাদির জানান, চট্টগ্রাম থেকে ছেড়ে আসা বিজয় এক্সপ্রেস ট্রেনটি গৌরীপুর জংশনে ৪:৩০ মিনিটে প্রবেশ করে এবং জামালপুরের উদ্দেশ্যে ৪:৫৫ মিনিটে ছেড়ে যায়। জংশনের স্টেশন মাস্টার মো. সফিকুল ইসলাম বলেন, ট্রেনের ভিতরে লাশ পড়ে আছে এমন খবর পেয়ে পুলিশসহ সেখানে গিয়ে লাশ উদ্ধার করা হয়েছে। ধাক্কায় মৃত্যুর সম্ভাবনা রয়েছে; তদন্তে প্রকৃত ঘটনা জানা যাবে।