আইজিপির বাড়িতেই চুরি: নিরাপত্তার ‘দুর্গে’ নিঃশব্দে ঢুকে তামার তার উধাও

Any Akter
বাগেরহাট প্রতিনিধি
প্রকাশিত: ৭:০০ অপরাহ্ন, ১৭ মার্চ ২০২৬ | আপডেট: ৭:০০ অপরাহ্ন, ১৭ মার্চ ২০২৬
ছবিঃ সংগৃহীত
ছবিঃ সংগৃহীত

#ঝড়-বৃষ্টি, বিদ্যুৎহীনতা আর সিসিটিভির চোখ ফাঁকি—সব মিলিয়ে পরিকল্পিত অপারেশন 

#প্রশ্নে নিরাপত্তা ব্যবস্থার কার্যকারিতা

আরও পড়ুন: হাতিয়ার উপজেলা নির্বাহী অফিসার ওএসডি

যে ব্যবস্থার ওপর ভর করে দেশের নাগরিকরা নিজেদের নিরাপত্তা কল্পনা করেন, সেই ব্যবস্থার শীর্ষে থাকা ব্যক্তির বাড়িই যদি চোরের টার্গেটে পরিণত হয়—তবে ঘটনাটি নিছক চুরি নয়, বরং এক ধরনের নীরব বার্তা। বাংলাদেশ পুলিশের মহাপরিদর্শক (আইজিপি) আলী হোসেন ফকির–এর পৈতৃক বাড়িতে সংঘটিত সাম্প্রতিক চুরির ঘটনাটি তাই শুধু একটি অপরাধ নয়, নিরাপত্তা বাস্তবতার এক অস্বস্তিকর প্রতিচ্ছবি হয়ে উঠেছে।

বাগেরহাটের আমলাপাড়া এলাকায় অবস্থিত আইজিপির পৈতৃক বাড়িতে সোমবার (১৬ মার্চ) গভীর রাতে ঘটে এ দুঃসাহসিক চুরি। প্রকৃতির সহায়তা যেন আগেভাগেই নিশ্চিত করে রেখেছিল দুর্বৃত্তরা—ঝোড়ো বৃষ্টি, চারপাশে নিস্তব্ধতা, আর হঠাৎ বিদ্যুৎ বিচ্ছিন্নতা। ঠিক সেই সময়েই বাড়ির সীমানা পেরিয়ে ভেতরে ঢুকে পড়ে চোরচক্র।

আরও পড়ুন: আশুলিয়ায় ময়লার ব্যবসা দখলে তৎপর যুবদল নেতা ইদ্রিস

তাদের লক্ষ্যবস্তু ছিল সরাসরি বিদ্যুতের সংযোগ ব্যবস্থা। মূল লাইন থেকে মিটার পর্যন্ত সংযুক্ত তামার তার কেটে নেয় তারা, পরিমাণ প্রায় দুই কয়েল। আনুমানিক মূল্য প্রায় ৬০ হাজার টাকা। পুরো কাজটি সম্পন্ন হয় এমন নিপুণতায়, যেন এটি কোনো হঠাৎ সিদ্ধান্ত নয়—বরং পূর্বপরিকল্পিত একটি অপারেশন।

পরিবারের সদস্যরা জানান, বিদ্যুৎ চলে যাওয়ার সঙ্গে সঙ্গেই চারপাশ অন্ধকারে ঢেকে যায়। সেই অন্ধকারই হয়ে ওঠে চোরদের সবচেয়ে বড় সহায়ক। বাড়িতে স্থাপিত সিসিটিভি ক্যামেরা—যা সাধারণত নিরাপত্তার নিশ্চয়তা হিসেবে বিবেচিত—সেটিও এখানে কার্যত নীরব দর্শক। কৌশলে নজর এড়িয়ে চোরেরা নির্বিঘ্নে এলাকা ত্যাগ করে।

মঙ্গলবার (১৭ মার্চ) সকালে বিষয়টি প্রকাশ্যে এলে এলাকায় ব্যাপক চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়। ঘটনাস্থল পরিদর্শন করে তদন্ত শুরু করে পুলিশ। ইতোমধ্যে এক ভাঙারি দোকানিকে সন্দেহভাজন হিসেবে আটক করে জিজ্ঞাসাবাদ করা হচ্ছে। ধারণা করা হচ্ছে, চুরি হওয়া তামার তার স্থানীয় পর্যায়েই বিক্রির চেষ্টা হতে পারে।

বাগেরহাটের পুলিশ সুপার মো. হাসান চৌধুরী জানিয়েছেন, ঘটনাটিকে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিয়ে দেখা হচ্ছে। অপরাধীদের শনাক্তে একাধিক টিম কাজ করছে এবং দ্রুত ব্যবস্থা নেওয়ার আশ্বাসও দিয়েছেন তিনি। 

যে দেশে সাধারণ মানুষ নিজেদের ঘরের নিরাপত্তা নিয়ে প্রতিনিয়ত শঙ্কিত, সেখানে রাষ্ট্রের নিরাপত্তা ব্যবস্থার সর্বোচ্চ অভিভাবকের বাড়িতেই যদি এমন নির্বিঘ্ন ‘অপারেশন’ সম্ভব হয়—তবে সেটি নিছক সাহসী চুরির ঘটনা নয়, বরং নিরাপত্তা কাঠামোর কার্যকারিতা নিয়ে এক অপ্রিয় প্রশ্নচিহ্ন।

সিসিটিভি ছিল, সীমানা প্রাচীর ছিল, পরিচিত এলাকা ছিল—কিন্তু তবুও চোরেরা এলো, কাজ সারল, চলে গেল। যেন তারা জানত—কখন আলো নিভবে, কখন চোখ বন্ধ থাকবে, আর কখন কেউ দেখবে না।

নিরাপত্তা ব্যবস্থার এই ‘নিখুঁত নীরবতা’ই এখন সবচেয়ে জোরালো শব্দ হয়ে ফিরে আসছে।