দিনাজপুরে স্বেচ্ছাশ্রমে খাল পুনঃখনন কর্মসূচিতে প্রধানমন্ত্রী
দিনাজপুরের কাহারোল উপজেলার বলরামপুর এলাকায় ঐতিহাসিক খাল পুনঃখনন কর্মসূচিতে অংশ নিয়ে বাবার পথ অনুসরণ করেছেন বলে মন্তব্য করেছেন স্থানীয়রা। প্রায় পাঁচ দশক আগে রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান স্বেচ্ছাশ্রমে খাল খনন কর্মসূচিতে অংশ নিয়ে নিজ হাতে কোদাল দিয়ে মাটি কাটার যে উদ্যোগ নিয়েছিলেন, তারই ধারাবাহিকতায় প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান একই ধরনের কর্মসূচিতে অংশ নেওয়ায় এলাকাবাসীর মধ্যে ব্যাপক উৎসাহ দেখা গেছে।
বলরামপুর গ্রামের ৭৪ বছর বয়সী বাসিন্দা কুলসুম বেগম বলেন, শহীদ জিয়াউর রহমান মানুষজনকে নিয়ে স্বেচ্ছাশ্রমে খাল খননের কর্মসূচিতে অংশ নিতেন। এখন তার ছেলে তারেক রহমানও বাবার মতো মানুষের সঙ্গে নিয়ে খাল পুনঃখননের উদ্যোগ নিয়েছেন।
আরও পড়ুন: নান্দাইলের জুলাই যোদ্ধা শহীদ জুবাইদের পরিবারের হাতে প্রধানমন্ত্রীর উপহার পৌঁছে দিলেন ছাত্রদল
বলরামপুরের সাহাপাড়া খাল দীর্ঘদিন ধরে অবহেলায় পড়ে রয়েছে। খালটির অনেক অংশে পানি শুকিয়ে গিয়ে উঁচু-নিচু মাটির স্তূপ তৈরি হয়েছে। বর্ষা মৌসুমে স্বাভাবিক পানি প্রবাহ না থাকায় এলাকায় প্রায়ই জলাবদ্ধতার সৃষ্টি হয়।
স্থানীয় গৃহবধূ শিউলী খাতুন বলেন, খালটি ভরাট হয়ে যাওয়ায় গ্রামের মানুষ দীর্ঘদিন ধরে নানা সমস্যার মুখে পড়ছেন। তিনি আশা প্রকাশ করেন, পুনঃখনন কাজ সম্পন্ন হলে এলাকার মানুষের দুর্ভোগ অনেকটাই কমবে।
আরও পড়ুন: ভারত সব দলকে পকেটে ঢুকিয়েছে, একটি দলকে পারেনি: জামায়াত আমির
দিনাজপুরের পশ্চিমাঞ্চলের রামচন্দ্রপুর ইউনিয়নে অবস্থিত প্রায় ১২ কিলোমিটার দীর্ঘ সাড়াপাড়া খালটি জেলার প্রধান নদী পুনর্ভবা নদীর সঙ্গে যুক্ত। ভারতের পশ্চিমবঙ্গ থেকে আসা পুনর্ভবা নদীর জলস্রোত ঠাকুরগাঁও হয়ে দিনাজপুরে প্রবেশ করে পরে পঞ্চগড়ের মহানন্দা নদীতে গিয়ে মিশেছে।
প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান এলাকায় আসার খবর ছড়িয়ে পড়লে আশপাশের গ্রামগুলোতে উৎসবমুখর পরিবেশ তৈরি হয়। শিশু-কিশোর থেকে শুরু করে নারী-পুরুষ অনেকেই রাস্তার পাশে দাঁড়িয়ে তাকে স্বাগত জানান এবং হাত নেড়ে শুভেচ্ছা জানান।
স্থানীয় মাধ্যমিক স্কুলের শিক্ষার্থী আল আমিন বলেন, সাহাপাড়া খালটি পুনঃখনন হলে জলাবদ্ধতা কমবে এবং খালে পানি ধরে রাখা সম্ভব হলে মাছ চাষের সুযোগ সৃষ্টি হবে। পাশাপাশি খালের দুই পাড়ে গাছ লাগালে পরিবেশও সবুজ হয়ে উঠবে।
খাল খনন কাজে অংশ নিতে আসা স্থানীয় বাসিন্দা অনিত বলেন, এলাকার মানুষ স্বেচ্ছাশ্রমে খাল কাটতে একত্রিত হয়েছেন। তিনি বলেন, “আজ আমাদের জন্য আনন্দের দিন। আমরা নিজেরাই খাল খননের কাজে অংশ নিচ্ছি। এটাই আমাদের গর্ব।”
স্থানীয়দের আশা, খাল পুনঃখনন কার্যক্রম বাস্তবায়িত হলে এলাকার জলাবদ্ধতা কমবে এবং কৃষি ও পরিবেশের জন্য নতুন সম্ভাবনা তৈরি হবে।





