যাত্রাশিল্পীকে তুলে নিয়ে চুল কেটে মুখে কালি মেখে মারধর
নিজের ছেলেকে অপহরণের মামলা করায় যাত্রাশিল্পী রুপা আক্তারকে প্রকাশ্যে মারধর, চুল কেটে দেওয়া এবং মুখে কালি মেখে হেনস্তা করা হয়েছে বলে অভিযোগ উঠেছে। এই নৃশংস নির্যাতনের পর বৃহস্পতিবার রাতেই তিনি কোতোয়ালি থানায় মামলা করেন।
নির্যাতনের ছবি সামাজিক মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ার পর দেশজুড়ে ব্যাপক নিন্দা শুরু হয়। মানবাধিকার সংগঠন আইন ও সালিশ কেন্দ্র (আসক) ঘটনাটিকে নারীর মর্যাদা, নিরাপত্তা ও সংবিধানপ্রদত্ত অধিকার লঙ্ঘনের ঘটনা হিসেবে উল্লেখ করে অবিলম্বে নিরপেক্ষ তদন্ত ও দোষীদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানিয়েছে।
আরও পড়ুন: শ্যামনগরে যুবদল নেতার নেতৃত্বে প্রেসক্লাবে ঢুকে সভাপতির উপর হামলা
আসকের বিবৃতি অনুযায়ী, ১২ নভেম্বর কয়েকজন দুর্বৃত্ত রুপাকে প্রকাশ্যে মারধর করে, চুল কেটে এবং মুখে কালি মেখে অপমান করে। পরে তার সামনে টাকা ও মাদক রেখে ভিডিও ধারণ করে সামাজিক মাধ্যমে ছড়িয়ে দেওয়া হয়।
মামলার পর পুলিশ নগরীর জুবলীঘাট এলাকা থেকে শাহ আলম নামে একজনকে গ্রেপ্তার করে। তিনি মামলার ৩ নম্বর আসামি এবং চর কালীবাড়ি এলাকার রাশেদের ছেলে।
আরও পড়ুন: শ্রীপুরে চৌক্কার খাল পরিদর্শনে পানিসম্পদ মন্ত্রী এ্যানি, খালটির পুনরুজ্জীবনে ফিরিয়ে আনার প্রতিশ্রুতি
রুপা আক্তার ও তার পরিবার নগরীর পাটগুদাম ব্রিজমোড় এলাকায় ভাড়া থাকেন। তবে ১৫ বছর আগে তিনি বড় কালীবাড়ি লোকনাথ মন্দির এলাকার ব্রহ্মপুত্র নদপাড়ে ৩ লাখ টাকায় জমি কিনেছিলেন। গত বছর সেখানে ঘর তুলতে গেলে বাস্তুহারা সমবায় সমিতির সদস্য শাহ আলম তার কাছে চাঁদা দাবি করেন।
প্রথমে ১ লাখ টাকা দেওয়ার পরও তিনি আরও ১০ লাখ টাকা দাবি করেন। টাকা না পেয়ে গত বছর রুপার বাড়িতে হামলা হয়—এ ঘটনায় তিনি আদালতে মামলা করেন।
এরপর চলতি বছরের ৬ এপ্রিল রুপার অষ্টম শ্রেণিপড়ুয়া ছেলে রনি সুলতানকে অপহরণ করা হয়। এই ঘটনার মামলায় শাহ আলম গ্রেপ্তার হলেও পরে জামিনে মুক্তি পান।
গত বুধবার দুপুরে আগের ভাঙচুর মামলার তদন্তে পুলিশ ঘটনাস্থলে গেলে দুই পক্ষ উপস্থিত ছিলেন। পুলিশ চলে যাওয়ার পরই প্রতিপক্ষ রাস্তায় রুপাকে ধরে একটি কক্ষে নিয়ে মারধর, চুল কেটে দেওয়া ও মুখে কালি মেখে হেনস্তা করে।
তার স্বামী বিষয়টি ৯৯৯–এ কল করলে পুলিশ গিয়ে তাকে উদ্ধার করে।
রুপা বলেন, পুলিশ চলে যাওয়ার পরই আমাকে ধরে নিয়ে গিয়ে বেঁধে চুল কেটে মুখে কালি মেখে দেয়। আমি বিচার চাই।
তার অভিযোগ, কোতোয়ালি থানার ওসির সঙ্গে আসামিদের ঘনিষ্ঠতা রয়েছে।
তবে থানার ওসি শিবিরুল ইসলাম বলেন, মামলা তদন্ত করে পুলিশ চলে আসার পর ঘটনা ঘটেছে। আসামিদের ব্যক্তিগত সম্পর্ক থাকতে পারে, তবে আমরা মামলা হওয়ার পর গ্রেপ্তার করেছি। আদালত জামিন দিলে পুলিশের কিছু করার থাকে না।
মামলার তদন্ত কর্মকর্তা এসআই মাসুদ জামেলী জানান, উভয় পরিবারের বিরুদ্ধে আগেও মামলা ছিল এবং অপহরণ মামলার আসামিরা জামিনে ছিলেন। পুলিশ ঘটনাস্থল ছাড়ার পরই প্রতিপক্ষ হামলা চালায়।





