এনসিটি ইস্যুতে চট্টগ্রাম বন্দরে শ্রমিক অসন্তোষ, কর্মবিরতির ঘোষণা
চট্টগ্রাম বন্দরের নিউমুরিং কনটেইনার টার্মিনাল (এনসিটি) বিদেশি প্রতিষ্ঠানের কাছে হস্তান্তরের সরকারি সিদ্ধান্ত ঘিরে বন্দরজুড়ে তীব্র শ্রমিক অসন্তোষ তৈরি হয়েছে। এ পরিস্থিতিতে শ্রমিকদের আন্দোলন ঠেকাতে কঠোর অবস্থান নিয়েছে চট্টগ্রাম বন্দর কর্তৃপক্ষ। ফলে বন্দর কর্তৃপক্ষ ও শ্রমিক-কর্মচারীরা এখন মুখোমুখি অবস্থানে রয়েছে।
সরকারি সিদ্ধান্ত বাতিলের দাবিতে আজ শনিবার এবং আগামীকাল রবিবার প্রতিদিন আট ঘণ্টা করে কর্মবিরতির কর্মসূচি ঘোষণা করেছে শ্রমিক সংগঠনগুলো। আন্দোলন দমনে বন্দর কর্তৃপক্ষ বৃহস্পতিবার একটি কড়া নোটিশ জারি করে শ্রমিকদের ‘হুঁশিয়ারি’ দিয়েছে।
আরও পড়ুন: শ্যামপুরে ৩৯ শতাংশ জমি জালিয়াতির অভিযোগ
বন্দরের পরিচালক (প্রশাসন) স্বাক্ষরিত নোটিশে বলা হয়েছে, এনসিটি প্রকল্পসংক্রান্ত একটি রিট মামলায় হাইকোর্টের রায়কে কেন্দ্র করে বন্দর ভবন ও আশপাশ এলাকায় কিছু কর্মকর্তা-কর্মচারী মিছিল, সমাবেশ ও মহড়ায় অংশ নিয়ে আদালতের রায়ের বিরুদ্ধে বিরূপ মন্তব্য করেছেন। পাশাপাশি দলবদ্ধভাবে বিশৃঙ্খল পরিস্থিতি তৈরি, সরকারি সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে আন্দোলন এবং গণমাধ্যমে বক্তব্য দেওয়ার অভিযোগও আনা হয়েছে।
নোটিশে এসব কর্মকাণ্ডকে আইনশৃঙ্খলা বিঘ্নকারী অপরাধ (দ্রুত বিচার) আইন-২০০২, চট্টগ্রাম বন্দর কর্মচারী চাকরি প্রণিধানমালা-১৯৯১, সরকারি কর্মচারী (আচরণ) বিধিমালা-১৯৭৯ এবং সরকারি কর্মচারী (নিয়মিত উপস্থিতি) বিধিমালা-২০১৯ অনুযায়ী গুরুতর পেশাগত অসদাচরণ হিসেবে উল্লেখ করা হয়। এতে বলা হয়, এসব কার্যক্রমের মাধ্যমে বন্দর কার্যক্রম ব্যাহত হচ্ছে এবং তা রাষ্ট্রীয় স্বার্থবিরোধী।
আরও পড়ুন: ৯ মাস বন্ধ থাকবে সেন্ট মার্টিন, ব্যবসায়ী-শ্রমজীবীদের উদ্বেগ
নোটিশে আরও জানানো হয়, আগেও সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তা-কর্মচারীদের সতর্ক করা হয়েছিল। ভবিষ্যতে এ ধরনের কর্মকাণ্ডে জড়িত হলে সংশ্লিষ্ট আইন ও বিধি অনুযায়ী শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলেও সতর্ক করা হয়েছে।
উল্লেখ্য, কোনো দরপত্র ছাড়াই এনসিটি টার্মিনাল বিদেশি কোম্পানির কাছে হস্তান্তরের সিদ্ধান্তের বিরোধিতা করে দীর্ঘদিন ধরে আন্দোলন করে আসছেন বন্দর শ্রমিক-কর্মচারীরা। এর আগেও বন্দর এলাকায় একাধিকবার মিছিল ও সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়েছে। অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের শেষ সময়ে এসে এই চুক্তি বাস্তবায়নের উদ্যোগ নেওয়ায় শ্রমিকদের মধ্যে ক্ষোভ আরও তীব্র হয়েছে।
শ্রমিক সংগঠনগুলো জানিয়েছে, বন্দর কর্তৃপক্ষের নোটিশ ও নিরাপত্তা জোরদারের মধ্যেও পূর্বঘোষিত কর্মসূচি প্রত্যাহার করা হবে না।
স্কপ চট্টগ্রাম ও চট্টগ্রাম বিভাগীয় শ্রমিক দলের জেনারেল সেক্রেটারি নুরুল্লা বাহার বলেন, শনিবার ও রবিবার ঘোষিত কর্মবিরতি ও ধর্মঘট কর্মসূচি বহাল থাকবে।
চট্টগ্রাম বন্দর শ্রমিক দলের সভাপতি ইব্রাহিম হোসেন খোকন বলেন, সরকার পক্ষ থেকে এখনো কোনো আলোচনা বা ব্যাখ্যা দেওয়া হয়নি। বরং বন্দর এলাকায় সেনা, বিজিবি ও পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে, যা আলোচনার পরিবেশ নষ্ট করছে। তাই আন্দোলন চালিয়ে যাওয়ার সিদ্ধান্তে তারা অনড়।





