কিশোর গ্যাং ও মাদকের আতঙ্কে ভালুকা: এমপির হস্তক্ষেপ দাবি

Sadek Ali
সাজ্জাদুল আলম খান: ভালুকা প্রতিনিধি
প্রকাশিত: ১২:৫০ অপরাহ্ন, ১৫ ফেব্রুয়ারী ২০২৬ | আপডেট: ৩:২২ অপরাহ্ন, ১৫ ফেব্রুয়ারী ২০২৬
ছবিঃ সংগৃহীত
ছবিঃ সংগৃহীত

ময়মনসিংহের ভালুকায় কিশোর গ্যাং ও মাদকের বিস্তার নিয়ে বাড়ছে উদ্বেগ। স্থানীয়দের অভিযোগ, পৌর শহরজুড়ে সক্রিয় একাধিক কিশোর গ্যাংয়ের বেপরোয়া কর্মকাণ্ডে সাধারণ মানুষ আতঙ্কিত হয়ে পড়েছেন। চায়ের দোকান, গুরুত্বপূর্ণ সড়ক ও শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের সামনে নিয়মিত জটলা করে থাকে এসব দলের সদস্যরা। স্কুল-কলেজ ছুটির সময় শিক্ষার্থী ও অভিভাবকদের ভোগান্তি চরমে ওঠে।

সারোয়ার আহম্মদ অপু এক সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম বার্তায় মাননীয় সংসদ সদস্য ফখরুদ্দীন আহমেদ বাচ্চু-এর কাছে কিশোর গ্যাং ও মাদকমুক্ত ভালুকা গড়ার দাবি জানান। তিনি বলেন, এলাকাবাসী শান্তিপূর্ণ পরিবেশ চান। উঠতি বয়সী ছেলেরা মাদক ও সন্ত্রাসে জড়িয়ে পড়ছে-এ অবস্থা থেকে পরিত্রাণ দরকার।

আরও পড়ুন: সেলফি তুলতে গিয়ে ট্রেনে কাটা পড়ে যুবকের মৃত্যু

স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, এলাকাভিত্তিক ছোট-বড় গ্যাং গড়ে তুলে সংঘবদ্ধভাবে নানা অপরাধে জড়াচ্ছে কিশোররা। অভিযোগ রয়েছে, পৌর শহরজুড়ে অর্ধশতাধিক গ্যাংয়ের প্রায় শতাধিক কিশোরের দৌরাত্ম্যে নাজেহাল ব্যবসায়ী ও পথচারীরা। তরুণীদের উত্ত্যক্ত করা, চুরি-ছিনতাই, মাদক বহন ও বিক্রি, জমি দখল, চাঁদাবাজির সাথে সম্পৃক্ততার অভিযোগ উঠেছে।

গত ফেব্রুয়ারি ২০২৪-এ কিশোর গ্যাংয়ের হামলায় আহত হয় রাতুল পাঠান (১১) নামে এক শিক্ষার্থী। অভিযোগ অনুযায়ী, উপজেলা পরিষদের সামনে এক চা দোকানদারের ছেলে ফয়সাল আহমেদ জিহাদ বইমেলার উত্তর পাশে ডেকে নিয়ে রাতুলের কাছে টাকা দাবি করে। টাকা দিতে অস্বীকৃতি জানালে তার গলায় খুর দিয়ে আঘাত করা হয়। গুরুতর আহত অবস্থায় তাকে ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হলে গলায় ১৮টি সেলাই দিতে হয় বলে জানান তার বাবা এমদাদ পাঠান।

আরও পড়ুন: পরিত্যক্ত মুদি দোকানে মিললো তিন বালতি ককটেল

পৌর ব্যবসায়ী হাবিবুর রহমান বলেন, উঠতি বয়সী কিশোরদের বেপরোয়া মোটরসাইকেল চলাচলে সড়কে স্বাভাবিকভাবে হাঁটাচলাই কঠিন হয়ে পড়েছে। আরেক ব্যবসায়ী আশিকুর রহমানের ভাষ্য, ছোট ভাই বা ছেলের বয়সী ছেলেদের দলবদ্ধ আড্ডায় দোকানপাট চালানো দায় হয়ে গেছে।

এদিকে এলাকাবাসীর একাংশের অভিযোগ, রাজনৈতিক প্রশ্রয় ও প্রভাবের কারণেই এসব কিশোর গ্যাং নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে যাচ্ছে। পাশাপাশি পুলিশের বিরুদ্ধে অপরাধীদের প্রতি নরম অবস্থানের অভিযোগও উঠেছে। তাদের দাবি, প্রশাসনের কঠোর নজরদারি ও নিয়মিত অভিযান না হলে পরিস্থিতি আরও অবনতি ঘটতে পারে।

সাধারণ মানুষ এখন একটাই প্রত্যাশা করছেন-দ্রুত কার্যকর উদ্যোগ নিয়ে ভালুকাকে কিশোর গ্যাং ও মাদকের ভয়াল থাবা থেকে মুক্ত করা হোক। আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর তৎপরতা বৃদ্ধি, অভিভাবক সচেতনতা এবং রাজনৈতিক সদিচ্ছার সমন্বিত প্রয়াসেই কেবল ফিরতে পারে স্বস্তি।