শ্রীপুরে নিখোঁজ তিন দিন পর শীতলক্ষ্যা নদীতে ভেসে উঠল গৃহবধূর মরদেহ

Sanchoy Biswas
মহিউদ্দিন আহমেদ, শ্রীপুর (গাজীপুর) প্রতিনিধি
প্রকাশিত: ৯:৪১ অপরাহ্ন, ২০ ফেব্রুয়ারী ২০২৬ | আপডেট: ১১:১৬ পূর্বাহ্ন, ১৫ সেপ্টেম্বর ২০২৬
ছবিঃ সংগৃহীত
ছবিঃ সংগৃহীত

গাজীপুরের শ্রীপুরে নিখোঁজ তিন দিন পর শীতলক্ষ্যা নদী থেকে এক গৃহবধূর মরদেহ উদ্ধার করেছে পুলিশ। নিহতের পরিবার বলছে, হত্যার পর নিখোঁজের নাটক সাজিয়েছে তার স্বামী।

আজ শুক্রবার (২০ ফেব্রুয়ারি) বিকেলে গোসিংগা ইউনিয়নের পেলাইদ গোদারাঘাট সংলগ্ন এলাকার শীতলক্ষ্যা নদী থেকে মোছা: বৃষ্টি আক্তার (১৮)-এর মরদেহ উদ্ধার করা হয়। সে উপজেলার বরমী ইউনিয়নের বরমা গ্রামের ওয়াজউদ্দিনের মেয়ে ও শ্রীপুর পৌর এলাকার ভাংনাহাটি কাইচ্চাগড় গ্রামের সম্রাটের স্ত্রী।

আরও পড়ুন: কোটচাঁদপুরে প্রেসক্লাবের দুই প্রয়াত সাংবাদিকের স্মরণে দোয়া ও স্মরণ সভা অনুষ্ঠিত

নিহতের স্বজনদের অভিযোগ, স্বামী সম্রাট পরিকল্পিতভাবে তাকে হত্যা করে লাশ গুম করে থানায় নিখোঁজের জিডি করে। ঘটনার দুই দিন পর শীতলক্ষ্যা নদী থেকে ভাসমান মরদেহ উদ্ধার করা হয়। মরদেহের মুখে আঘাতের চিহ্ন রয়েছে বলে দাবি করেন নিহতের বাবা।

নিহতের বাবা-মা জানান, গত দুই বছর আগে শ্রীপুর পৌর শহরের ভাংনাহাটি গ্রামে সম্রাটের সঙ্গে তার বিয়ে হয়। গত কয়েকদিন আগে তার মেয়ে সম্রাটের স্বজনরা মারধর করে। বুধবার সকালে সম্রাট ফোন করে জানায়, বৃষ্টিকে খুঁজে পাওয়া যাচ্ছে না। খবর পেয়ে তারা দ্রুত স্বামীর বাড়িতে যান। সেখানে গিয়ে জানতে পান, মঙ্গলবার রাত আটটার দিকে বৃষ্টি নিখোঁজ হয়েছে। আশপাশের বিভিন্ন এলাকায় আত্মীয়-স্বজনের বাড়িতে খোঁজাখুঁজি করেও সন্ধান পাননি। বুধবার বিকেলে সম্রাট শ্রীপুর থানায় স্ত্রী নিখোঁজের ঘটনায় সাধারণ ডায়েরি করেন। শুক্রবার সকাল এগারোটার দিকে জানতে পান, পেলাইদ গ্রামের পাশে শীতলক্ষ্যা নদীতে একটি মরদেহ ভাসছে। দ্রুত স্বজনরা ঘটনাস্থলে গিয়ে বৃষ্টির ভাসমান মরদেহ দেখতে পান।

আরও পড়ুন: কুবিতে ডেঙ্গু প্রতিরোধে ছাত্রদলের স্মারকলিপি

তারা আরও বলেন, সম্রাট বিভিন্ন সময় আমার মেয়েকে মারধর করত। মঙ্গলবার সকালেও মেরেছে। পরিকল্পিতভাবে সম্রাট আমার মেয়েকে হত্যা করে নিখোঁজের নাটক সাজিয়েছে। আমার অভিযোগ, সম্রাট আমার মেয়েকে হত্যা করে নদীতে লাশ ফেলে রাখে।

শ্রীপুর থানার উপ-পরিদর্শক (এসআই) মোঃ রেজাউল করিম জানান, নদীতে মরদেহ ভাসছে—এমন খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে গিয়ে শীতলক্ষ্যা নদী থেকে মরদেহ উদ্ধার করা হয়। পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশন (পিবিআই)-এর একটি দল ক্রাইম সিন সংগ্রহ করেছে। মরদেহ ময়নাতদন্তের জন্য গাজীপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হবে। পরবর্তী আইনগত ব্যবস্থা প্রক্রিয়াধীন রয়েছে।


ঘটনাস্থলের ছবি, ইনসেটে গৃহবধূ বৃষ্টি আক্তার