আরিফা জেসমিনকে সংরক্ষিত নারী আসনের এমপি হিসেবে চায় এলাকাবাসী

Sanchoy Biswas
বাংলাবাজার রিপোর্ট
প্রকাশিত: ৯:১৫ অপরাহ্ন, ২৩ ফেব্রুয়ারী ২০২৬ | আপডেট: ৪:১৫ পূর্বাহ্ন, ২৪ ফেব্রুয়ারী ২০২৬
ছবিঃ সংগৃহীত
ছবিঃ সংগৃহীত

ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে বিপুল সংখ্যাগরিষ্ঠতা নিয়ে জয়ী হয়ে সরকার গঠন করেছে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি)। প্রথমে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান শপথ গ্রহণ করেন। পরে মন্ত্রী ও প্রতিমন্ত্রীরা শপথ নেন। এরই ধারাবাহিকতায় এখন আলোচনায় সংরক্ষিত নারী আসন। কে হচ্ছেন সংরক্ষিত নারী সংসদ সদস্য? তবে অনেক নারী নেত্রী সাধারণ আসনে এবার বিএনপি থেকে মনোনয়ন পাওয়ার চেষ্টা করে ব্যর্থ হয়েছেন। তাদের মধ্যে অনেকেই এবার সংরক্ষিত নারী আসনে সংসদ সদস্য হবেন বলে জানা গেছে।

এরই ধারাবাহিকতায় বিএনপির জাতীয় নির্বাহী কমিটির সদস্য ও জাতীয়তাবাদী মহিলা দলের সাংগঠনিক সম্পাদক (ময়মনসিংহ বিভাগ), বাংলাদেশ সুপ্রিম কোর্টের এডভোকেট, সাবেক সহ-সভাপতি, জাতীয়তাবাদী আইনজীবী ফোরাম বাংলাদেশ সুপ্রিম কোর্ট ইউনিট, সাবেক সহ-সভাপতি, জেলা বিএনপি নেত্রকোনা, সাবেক যুগ্ম আহ্বায়ক, জেলা বিএনপি নেত্রকোনা, সাবেক মহিলা বিষয়ক সম্পাদক, জেলা বিএনপি নেত্রকোনা, সাবেক আহ্বায়ক, জাতীয়তাবাদী মহিলা দল, নেত্রকোনা জেলা, সাবেক সভাপতি, জাতীয়তাবাদী মহিলা দল, নেত্রকোনা জেলা, নেত্রকোনা জেলা বারের সাবেক সাধারণ সম্পাদক, নেত্রকোনা জেলা প্রেসক্লাবের সম্মানিত সদস্য, একাধারে সাবেক সদস্য সচিব আহ্বায়ক কমিটি, নেত্রকোনা জেলা আইনজীবী সমিতি, নেত্রকোনা, সাবেক চেয়ারম্যান, জাতীয় মহিলা সংস্থা, নেত্রকোনা, প্রতিষ্ঠাতা সভাপতি রাবেয়া আফজাল শিশু নিবাস, নেত্রকোনা, সাবেক ইসি মেম্বার, সাবেক সেক্রেটারি, লেডিস ক্লাব, নেত্রকোনা, সাবেক ইসি মেম্বার, উইমেন্স লইয়ার্স নেটওয়ার্ক বাংলাদেশ, সাবেক ইসি মেম্বার পিপলস হেলথ মুভমেন্ট (পিএইচএম), বাংলাদেশ, মেম্বার, বাংলাদেশ মহিলা আইনজীবী সমিতি— আরিফা জেসমিন নাহীনকে সংরক্ষিত নারী আসনের এমপি হিসেবে দেখতে চায় এলাকাবাসী।

আরও পড়ুন: উলিপুর উপজেলার পান্ডুল ইউনিয়নে অবৈধভাবে খাস জমি থেকে মাটি উত্তোলন

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে ল-এ অনার্স ও এলএলএম ডিগ্রি অর্জন এবং ৪০ বছরের আইনপেশায় থাকা আরিফা জেসমিন নাহীন রাজপথের ত্যাগী ও পরীক্ষিত নেত্রী হিসেবে পরিচিত মুখ। ইতোমধ্যে দক্ষ সংগঠক হিসেবে স্বাক্ষর রেখেছেন। জিয়া পরিবারের বিশ্বস্ত সেনানী হিসেবে পরীক্ষিত। গত ১৭ বছরে বিএনপির চরম দুর্দিনে দলকে আঁকড়ে ধরে ছিলেন। রাজপথে থেকেই দলের ঘোষিত সব ধরনের কর্মসূচি বাস্তবায়ন করেছেন। সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়ার মুক্তি আন্দোলনের অগ্রণী সৈনিক ছিলেন আরিফা জেসমিন নাহীন। তিনি ও তার পরিবার আওয়ামী দোসরদের রোষানলের শিকার হয়েছেন কয়েকবার। এমনকি আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীরা তার নেত্রকোনার বাড়ি ১৬ বার ভেঙে দিয়েছে। তবুও থেমে থাকেননি। হামলা-মামলা ও নির্যাতন উপেক্ষা করে বিএনপি নেতাকর্মীদের ঐক্যবদ্ধ করে দলের জন্য কাজ করেছেন।

দলের দুর্যোগে ভ্যানগার্ড হিসেবে ছিলেন আরিফা জেসমিন নাহীন। বিএনপি চেয়ারম্যান বেগম খালেদা জিয়ার ক্যান্টনমেন্টের বাড়ি থেকে উচ্ছেদের সময় আইনজীবী হিসেবে উপস্থিত হয়ে গেটের দিকে প্রবেশ করেন। এ সময় পুলিশ তার ওপর আক্রমণ করে। মাথায় প্রচণ্ড আঘাত পান। সেই ব্যথা আজও শরীরে বহন করছেন আরিফা জেসমিন নাহীন। এখানেও তাকে আটকে রাখা যায়নি। বেগম খালেদা জিয়ার ক্যান্টনমেন্টের বাড়ি থেকে উচ্ছেদের পর বিএনপির ঢাকা হরতালে পুলিশ কর্তৃক লাঠিচার্জ ও গুলিবর্ষণ করা হয়। ওইদিন কর্মসূচিতে পুলিশের লাঠির আঘাতে মাথায় আবারও আঘাত পান।

আরও পড়ুন: প্রশাসক হিসেবে শওকত হোসেন সরকার নিয়োগ, মহানগর বিএনপিতে আনন্দ উৎসব

২০১১ সালের ১৪ জানুয়ারি ৩৬ ঘণ্টার হরতালের সময় পল্টন থানায় গ্রেফতার ও পুলিশি নির্যাতনের শিকার হন তিনি। ২০১৩ সালের ২৯ ডিসেম্বর ‘মার্চ ফর ডেমোক্রেসি’ কর্মসূচিতে জাতীয় প্রেসক্লাবের সামনে থেকে গ্রেফতার ও পুলিশ কর্তৃক শারীরিক নির্যাতন ও হামলার শিকার হন। শাহবাগ থানা বেআইনিভাবে ২৯ ও ৩০ ডিসেম্বর দুই দিনই তাকে আটক রাখে। ২০১৫ সালের ৫ জানুয়ারি বিএনপির কেন্দ্রীয় কার্যালয়ের গেটের সামনে থেকে পুলিশ কর্তৃক নির্যাতন ও গ্রেফতারের শিকার হন।

বেগম খালেদা জিয়াকে অবরুদ্ধ করে রেখে ৫ জানুয়ারি সকাল ৯টা ৩০ মিনিটে অফিসের নিচে গেটের তালা ভেঙে গ্রেফতার ও শারীরিকভাবে নির্যাতন করা হয়। এতেও হামলার শিকার হন তিনি। ২০১৫ সালের ৩১ জানুয়ারি ২০ দলীয় জোটের ডাকা অবরোধ কর্মসূচি চলাকালীন বিদ্যুৎ সংযোগ কেটে দিয়ে পুলিশ কর্তৃক নির্যাতন করা হয়। পরে নয়াপল্টন বিএনপি কেন্দ্রীয় কার্যালয়ের সামনে থেকে পুলিশ কর্তৃক নির্যাতন ও গ্রেফতার করা হয়। এ ঘটনাতেও হামলার শিকার হন তিনি।

২০১৮ সালের ৮ ফেব্রুয়ারি বিএনপি চেয়ারম্যান খালেদা জিয়াকে কারাগারে নেওয়া হয়। পরদিন ৯ ফেব্রুয়ারি জাতীয় উদ্যান রোডের বাসভবনে বেগম খালেদা জিয়ার পোশাক ও ফলমূল নিয়ে যান আরিফা জেসমিন। এরপর ১০ ফেব্রুয়ারি বেগম খালেদা জিয়ার মুক্তির দাবিতে আন্দোলনরত অবস্থায় নেত্রকোনার রাজপথ থেকে গ্রেফতার করে গাড়িতে তুলে জেলে প্রেরণ করা হয় আরিফা জেসমিনকে। পরবর্তীতে আরও ৮টি মামলা দিয়ে গ্রেফতার করা হয়। এমনকি তার স্বামীসহ পরিবারের অন্য সদস্যদের বিরুদ্ধেও মিথ্যা মামলা দিয়ে হয়রানি করা হয়।

২০২৪ সালের জুলাই বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়, হাইকোর্ট, শহীদ মিনার ও শাহবাগের রাজপথে মিছিল-মিটিংয়ে সক্রিয় অংশগ্রহণ করেন আরিফা জেসমিন। দলের পাশাপাশি বিভিন্ন সামাজিক কর্মকাণ্ডেও নিজেকে সম্পৃক্ত রেখেছেন তিনি। দায়িত্ব পালন করেছেন বিভিন্ন সামাজিক ও সাংস্কৃতিক সংগঠনে।

এ বিষয়ে জানতে চাইলে এডভোকেট আরিফা জেসমিন নাহীন বলেন, “আমার ঠিকানা বিএনপি ও জিয়া পরিবার। আমি সব সময় দলের জন্য কাজ করেছি। রাজপথে থেকেই কর্মসূচি বাস্তবায়ন করেছি। সেই দল এখন ক্ষমতায়। বিএনপির চেয়ারম্যান তারেক রহমানের নেতৃত্বে চলছে দেশ। আমার বিভাগের নেতাকর্মী ও সাধারণ মানুষও চায় আমাকে সংরক্ষিত আসনের এমপি হিসেবে। তাই আমিও চাই আমাকে এমপি হিসেবে মনোনয়ন দিলে আমাদের প্রিয় নেতা, সরকারপ্রধান তারেক রহমানের পরিকল্পনা বাস্তবায়নে কাজ করব।”