তাগিরা অভিমানী হয় তবে দলের সঙ্গে বেইমানি করে না

Sanchoy Biswas
মমিনুল ইসলাম সাংবাদিক
প্রকাশিত: ৯:৫৮ অপরাহ্ন, ১৫ জুন ২০২৬ | আপডেট: ১১:১২ অপরাহ্ন, ১৫ জুন ২০২৬
ছবিঃ সংগৃহীত
ছবিঃ সংগৃহীত

বিএনপি-র তৃণমূল ও দলের দুঃসময়ের কান্ডারিদের মনের সুপ্ত অভিমান, ত্যাগ এবং নেতৃত্বের প্রতি তাদের আকুল আবেদন ফুটিয়ে তুলতে একটি দীর্ঘ ও আবেগঘন কাব্যিক পত্র নিচে তুলে ধরা হলো।

​আপনার অনুরোধ অনুযায়ী, বর্তমান ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান জনাব তারেক রহমানকে উদ্দেশ্য করে কবিতার ছন্দে এবং কাব্যিক গদ্যের মিশ্রণে এই দীর্ঘ "কাব্য-পত্র"টি রচিত হলো।

আরও পড়ুন: শেকড় থেকে শেখর: ছেঁড়া কাঁথার স্বপ্ন, জাহাজের খবর এবং উন্নয়নের মহাকাব্য

​হে দূর আকাশের কান্ডারি: ত্যাগী বনাম নব্যদের আখ্যান

​হে তারেক রহমান,

আরও পড়ুন: আন্তর্জাতিক জাতিসংঘ শান্তিরক্ষী দিবস: বিশ্বশান্তির পথে আত্মত্যাগের অনন্য দৃষ্টান্ত

দলের দূরবর্তী কান্ডারি, তরুণের আশা,

আজ এই কাব্যে শুনুন কিছু বঞ্চিতের ভাষা।

যারা ঝড়ে-তুফানে ধরেছিল এই পালের হাল,

তারা আজ কেন একা, কেন মলিন তাদের কপাল?

​ত্যাগের মহিমা ও নব্যদের দাপট

​যেদিন আকাশে ছিল কালো মেঘের ঘনঘটা,

চারিদিকে জ্বলছিল শুধু হিংসার অগ্নিছটা।

সেদিন যারা পিঠ পাতেনি, বুক করেছিল চিত,

তাদের রক্তে-ঘামে লেখা দলের জয়নতি-সংগীত।

​অথচ আজ বসন্তের কোকিলেরা ডাকে ডালে ডালে,

নতুন সেজেছে যারা, তারা ভাসে সুখের ভেলাতে।

নতুন জামা গায়ে দিয়ে, মুখে চাটুকারিতার বাণী,

তারাই আজ মঞ্চে বসে, তারাই পায় সম্মানখানি।

​বাস্তবতার নির্মম সত্য:

"ত্যাগীরা কখনো হতে পারে না বেঈমান,

বুক ফেটে যায় তবু তারা ধরে রাখে সম্মান।

অভিমানী বুকে তারা নীরবে অশ্রু ঝরায়,

নব্যরা যখন দলের বড় বড় পদ বাগায়।"

​নব্যদের উল্লাস, ত্যাগীদের দীর্ঘশ্বাস

​যারা কালও ছিল অন্য দলে, কিংবা ঘরের কোণে,

আজ তারা বড় নেতা, ভিড় জমায় আপনার মনে।

তারা চেনে শুধু আলো, চেনে শুধু ক্ষমতার স্বাদ,

দুঃসময় এলে পরে ওরাই প্রথমে করবে বিসংবাদ।

​আর যারা মার খেল, ঘর ছাড়ল, হারাল সর্বস্ব,

আজ তারা চেনা চত্বরেও যেন ভীষণ পরস্ব!

তাদের পকেটে টাকা নেই, নেই কোনো বড় গাড়ি,

তাই বলে কি তাদের সাথে আজ নেতৃত্বের আড়ি?নব্যদের চরিত্র: আজ আছে, কাল নেই—স্বার্থের টানে ফেরে।ত্যাগীদের চরিত্র: আজীবন আছে, মরণেও রবে—দলের পতাকা ধরে।

​তারেক রহমানের প্রতি আকুল আবেদন

​হে নেতা, লন্ডন থেকে দেখুন একটুখানি চেয়ে,

কারা আজ রাজপথে লড়ছে রক্ত দিয়ে?

চাটুকারদের মিষ্টি কথায় ভুলবেন না যেন আর,

তারাই একদিন এনেছিল দলের অন্ধকার।

​অভিমানী কর্মী যারা, ঘরে বসে কাঁদে একা,

তাদের একটু খোঁজ নিন, দিন একটুখানি দেখা।

তারা পদ চায় না, তারা চায় শুধু একটু মূল্যায়ন,

জিয়ার আদর্শে যারা সঁপেছে তাদের এ জীবন।

​বেইমানি নয়,  শুধুই অভিমান

​ইতিহাস সাক্ষী আছে, এই ধরণীর বুকে,

ত্যাগীরা মরে গেলেও, কখনো হাসে না শত্রুর মুখে।

তারা হয়তো অভিমানে দূরে সরে রয়,

কিন্তু দলের ক্ষতি হোক, তা কখনো নাহি চায়।

​নব্যরা আজ ভালো আছে, করছে টাকার খেলা,

আর ত্যাগী কর্মীরা সইছে শুধু অবহেলার মেলা।

এই বৈষম্য যদি না হয় দ্রুত অবসান,

তবে কীভাবে বাঁচবে দলের গৌরব আর সম্মান?

​কাব্যের শেষ আকুতি

​হে তরুণ নেতা, হে তারেক রহমান,

শুনুন এই তৃনমূলের আকুল আহ্বান।

নতুনদের সুযোগ দিন, তাতে ক্ষতি নাই,

কিন্তু পুরানোদের বুকে যেন একটুখানি স্থান পাই।

​নব্যরা সাজুক আজ আনন্দের সাজে,

কিন্তু ত্যাগীদের ফিরিয়ে আনুন মূল কাজের মাঝে।

কারণ ঝড়ের রাতে ওরাই আবার বুক পেতে দেবে,

নব্যরা তো প্রথম সুযোগেই সুড়ঙ্গ বেয়ে পালাবে।

​শেষ কথা:

ত্যাগী কর্মীরা ভালো নেই আজ, বুকে তাদের ক্ষোভের আগুন,

হে কান্ডারি, আপনিই পারেন ফিরিয়ে আনতে তাদের ফাগুন।

অভিমান ভেঙে তাদের ডেকে নিন আপনার পাশে,

তবেই ধানের শীষ আবার হাসবে বিজয়ের উল্লাসে।

লেখক: মমিনুল ইসলাম, সাংবাদিক।