রূপগঞ্জে বুদ্ধিপ্রতিবন্ধী তরুণীকে সংঘবদ্ধ ধর্ষণের অভিযোগ, ১১ দিন পর মামলা

Sanchoy Biswas
শ্রী দিপু চন্দ্র গোপ, রূপগঞ্জ (নারায়ণগঞ্জ) প্রতিনিধি
প্রকাশিত: ৪:১৪ অপরাহ্ন, ২৭ ফেব্রুয়ারী ২০২৬ | আপডেট: ৩:৪৬ পূর্বাহ্ন, ২৮ ফেব্রুয়ারী ২০২৬
ছবিঃ সংগৃহীত
ছবিঃ সংগৃহীত

নারায়ণগঞ্জের রূপগঞ্জ উপজেলায় বুদ্ধিপ্রতিবন্ধী এক তরুণীকে সংঘবদ্ধভাবে ধর্ষণের অভিযোগে ঘটনার ১১ দিন পর থানায় মামলা দায়ের করেছেন ভুক্তভোগীর বাবা।

মঙ্গলবার (২৪ ফেব্রুয়ারি) সন্ধ্যায় তিনি বাদী হয়ে রূপগঞ্জ থানায় মামলাটি করেন। মামলায় একই এলাকার ছানোয়ার (৬৫) ও নুরুল (৬৭)-এর বিরুদ্ধে ধর্ষণের অভিযোগ আনা হয়েছে। পাশাপাশি নয়ন (৪৮) ও ফালান (৫০)সহ স্থানীয় আরও কয়েকজনকে ঘটনায় সহায়তাকারী হিসেবে অভিযুক্ত করা হয়েছে।

আরও পড়ুন: স্থানীয় সরকার নির্বাচন যথাসময়ে হবে এবং গণতন্ত্রকে প্রাতিষ্ঠানিক রূপ দিতে প্রয়োজনীয় কাজ করা হবে: মির্জা ফখরুল

মামলার এজাহার সূত্রে জানা গেছে, গত ১৪ ফেব্রুয়ারি বিকেলে কাঞ্চন পৌরসভার নরাবোরটেক এলাকার ওই তরুণী বাড়ির পাশের কাঠবাগান-সংলগ্ন পথ দিয়ে যাচ্ছিলেন। এ সময় একই এলাকার ছানোয়ার তাকে ডেকে ঘরে নিয়ে যান। পরে নুরুলের সহায়তায় প্রথমে ছানোয়ার এবং পরবর্তীতে নুরুল ওই তরুণীকে ধর্ষণ করেন। এ ঘটনার সময় আশপাশে থাকা কয়েকজন ব্যক্তি অভিযুক্তদের সহায়তা করেন বলেও মামলায় উল্লেখ করা হয়েছে।

ভুক্তভোগীর অভিযোগ, ঘটনার পর কাউকে কিছু জানালে তাকে হত্যা করা হবে—এমন ভয় দেখিয়ে অভিযুক্তরা তাকে ছেড়ে দেন। আতঙ্ক ও লজ্জার কারণে সে সময় পরিবারকেও কিছু জানাতে পারেননি তিনি। তবে ঘটনার দুই দিন পর থেকেই তার শারীরিক অবস্থার অবনতি হতে থাকে।

আরও পড়ুন: নান্দাইলের বাহাদুরপুর হাউজ লোকে-লোকারণ্য, নেতাকর্মীদের মাঝে উচ্ছ্বাস

পরিবার পরে তাকে রূপগঞ্জ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে গেলে প্রাথমিক পরীক্ষা–নিরীক্ষা শেষে চিকিৎসকেরা পরিবারকে জানান, ওই তরুণী ধর্ষণের শিকার হয়েছেন।

মামলার বাদী ও ভুক্তভোগীর বাবা বলেন, আমি আমার মেয়ের ওপর ঘটে যাওয়া এই নৃশংস ঘটনার দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি চাই। ঘটনার পর থেকে কিছু অসাধু ব্যক্তি আমাদের ওপর চাপ সৃষ্টি করছে—টাকার বিনিময়ে বিষয়টি মীমাংসা করে নেওয়ার জন্য। এতে ন্যায়বিচার বাধাগ্রস্ত হওয়ার আশঙ্কা করছি। একই সঙ্গে আমরা পরিবার নিয়ে চরম নিরাপত্তাহীনতার মধ্যে দিন কাটাচ্ছি।

এ বিষয়ে নারায়ণগঞ্জ জেলা পুলিশের জ্যেষ্ঠ সহকারী পুলিশ সুপার (গ সার্কেল) মেহেদী ইসলাম বলেন, মামলার এজাহারভুক্ত আসামিদের গ্রেপ্তারে একাধিক টিম মাঠে কাজ করছে। তিনি জানান, “অভিযুক্তদের অবস্থান শনাক্ত করে দ্রুত গ্রেপ্তারের জন্য অভিযান অব্যাহত রয়েছে।”