সোনাগাজীতে সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে চুরি, বিদ্যুৎহীন হয়ে দুর্ভোগে শিক্ষার্থীরা

Sanchoy Biswas
ইলিয়াছ সুমন, ফেনী জেলা প্রতিনিধি
প্রকাশিত: ৮:২৪ অপরাহ্ন, ২৭ জুলাই ২০২৬ | আপডেট: ১০:২২ পূর্বাহ্ন, ১৫ সেপ্টেম্বর ২০২৬
ছবিঃ সংগৃহীত
ছবিঃ সংগৃহীত

ফেনীর সোনাগাজী উপজেলার সোনাপুর গ্রামের দাসপাড়ায় অবস্থিত বাংলাবাজার জয়নাল আবেদীন সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে চুরির ঘটনা ঘটেছে। রোববার (২৬ জুলাই) দিবাগত রাতে দুর্বৃত্তরা বিদ্যালয়ের টিনশেড ভবনের দরজার তালা ভেঙে ভেতরে প্রবেশ করে বৈদ্যুতিক তার, সুইচ বোর্ডসহ বিভিন্ন বৈদ্যুতিক সরঞ্জাম চুরি করে নিয়ে যায়। এতে বিদ্যালয়টি বিদ্যুৎহীন হয়ে পড়েছে এবং শিক্ষক-শিক্ষার্থীরা চরম ভোগান্তিতে পড়েছেন।

বিদ্যালয় সূত্রে জানা গেছে, চোরেরা প্রায় ৬০ গজ বৈদ্যুতিক তার, সুইচ বোর্ড ও অন্যান্য বৈদ্যুতিক সরঞ্জাম খুলে নিয়ে যায়। পাশাপাশি বিদ্যালয়ের বাউন্ডারি ওয়ালের গ্রিলও খুলে নিয়ে যাওয়ায় অবকাঠামোগত ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে।

আরও পড়ুন: কোটচাঁদপুরে প্রেসক্লাবের দুই প্রয়াত সাংবাদিকের স্মরণে দোয়া ও স্মরণ সভা অনুষ্ঠিত

স্থানীয়দের ধারণা, মাদকসেবী চোরচক্র নেশার টাকার জোগান দিতে এ চুরির ঘটনা ঘটিয়ে থাকতে পারে। তবে এ বিষয়ে পুলিশ তদন্ত করছে।

বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষিকা রোজিনা আক্তার বলেন, বিদ্যালয়ে পিয়ন বা নৈশপ্রহরী না থাকায় প্রতিষ্ঠানটি দীর্ঘদিন ধরে অরক্ষিত অবস্থায় রয়েছে। ফলে প্রায়ই ছোটখাটো চুরির ঘটনা ঘটে এবং বিদ্যালয়ের বিভিন্ন অবকাঠামো ক্ষতিগ্রস্ত হয়। সর্বশেষ চুরির ঘটনায় বিদ্যালয়ের পাঠদান কার্যক্রম ব্যাহত হওয়ার আশঙ্কা দেখা দিয়েছে।

আরও পড়ুন: কুবিতে ডেঙ্গু প্রতিরোধে ছাত্রদলের স্মারকলিপি

তিনি আরও জানান, বিষয়টি উপজেলা শিক্ষা কর্মকর্তাকে অবহিত করা হয়েছে। পাশাপাশি সোনাগাজী মডেল থানায় অভিযোগ দেওয়া হয়েছে। পুলিশ ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছে এবং তদন্ত শেষে জড়িতদের বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলে আশ্বাস দিয়েছে।

বিদ্যালয়ের প্রতিষ্ঠাতা জয়নাল আবেদীন বলেন, দরিদ্র ও হিন্দু-অধ্যুষিত এলাকায় শিক্ষার আলো ছড়িয়ে দিতে বিদ্যালয়টি প্রতিষ্ঠা করা হয়েছে। এটি শুধু একটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান নয়, এলাকার ভবিষ্যৎ প্রজন্ম গড়ে তোলার কেন্দ্র। তাই বিদ্যালয়ের নিরাপত্তা ও সার্বিক উন্নয়নে এলাকাবাসীসহ সংশ্লিষ্ট সকলের সহযোগিতা প্রয়োজন।

এদিকে বিদ্যালয় পরিদর্শনে দেখা গেছে, প্রতিষ্ঠানে বর্তমানে তিনটি শিক্ষক পদ শূন্য রয়েছে। এছাড়া কোনো পিয়ন বা নৈশপ্রহরী না থাকায় বিদ্যালয়ের নিরাপত্তা ব্যবস্থা দুর্বল হয়ে পড়েছে। স্থানীয়দের দাবি, দ্রুত শূন্য পদ পূরণ এবং একজন নৈশপ্রহরী নিয়োগের মাধ্যমে বিদ্যালয়ের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা হোক, যাতে ভবিষ্যতে এ ধরনের ঘটনার পুনরাবৃত্তি না ঘটে।