ধলাদিয়ায় ভুয়া সনদে ফার্মেসি পরিচালনার অভিযোগ, তদন্তে ঔষধ প্রশাসন
গাজীপুরের শ্রীপুর উপজেলার ধলাদিয়া বাজার এলাকায় ভুয়া নিবন্ধন ও জাল কাগজপত্রের মাধ্যমে একটি ফার্মেসি পরিচালনার অভিযোগ উঠেছে। “সেবা মেমোরিয়াল ফার্মেসি + ডাক্তার পয়েন্ট” নামে প্রতিষ্ঠানটির মালিক খোকন আহাম্মেদ নিজেকে ডিপ্লোমা ইন মেডিকেল ফ্যাকাল্টি (ডিএমএফ) পাস করা ফার্মাসিস্ট পরিচয় দিয়ে দীর্ঘদিন ধরে ব্যবসা পরিচালনা করে আসছিলেন বলে স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে।
অভিযোগ রয়েছে, তার প্রদর্শিত ডিএমএফ সনদ ও ফার্মেসির নিবন্ধনের বৈধতা নিয়ে সম্প্রতি প্রশ্ন ওঠে। বিষয়টি প্রকাশ্যে এলে এলাকায় চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয় এবং তা সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের নজরে আসে। অভিযোগের ভিত্তিতে ঔষধ প্রশাসন অধিদপ্তরের একটি টিম তদন্তে নেমেছে বলে জানা গেছে।
আরও পড়ুন: জাহাঙ্গীর ফিরোজের রাজনৈতিক দর্শন: সহনশীলতা ও গণতন্ত্র
দায়িত্বশীল সূত্র জানায়, প্রাথমিক যাচাইয়ে কিছু নথিপত্রে অসঙ্গতির ইঙ্গিত পাওয়া গেছে। কাগজপত্রের সত্যতা নিশ্চিত করতে সংশ্লিষ্ট দপ্তরে পাঠানো হয়েছে। অনিয়মের প্রমাণ মিললে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলে জানিয়েছেন কর্মকর্তারা।
এলাকাবাসীর দাবি, ব্যবহৃত নিবন্ধন নম্বর (ডি-১১৫০৮) যাচাই করে দেখা গেছে, সেটি তানজিনা আক্তার তানিয়া নামে এক নারীর নামে নিবন্ধিত। অভিযুক্ত ব্যক্তি ওই নিবন্ধন ব্যবহার করে ফার্মেসি পরিচালনা করছিলেন বলে অভিযোগ। স্থানীয়দের আশঙ্কা, অদক্ষ ব্যক্তি ওষুধ বিক্রি করলে রোগীরা ভুল ওষুধ বা মাত্রা পেতে পারেন, যা জনস্বাস্থ্যের জন্য গুরুতর ঝুঁকি সৃষ্টি করতে পারে।
আরও পড়ুন: কুড়িগ্রামে ১৬ শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে জাল সনদ ও আর্থিক লেনদেনের প্রমাণ, ফেরত চাওয়া প্রায় ৯০ কোটি টাকা
শ্রীপুর উপজেলা স্বাস্থ্য বিভাগের এক কর্মকর্তা বলেন, “বিষয়টি গুরুত্বসহকারে তদন্ত করা হচ্ছে। কাগজপত্রে অনিয়ম প্রমাণিত হলে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে।” তিনি জানান, তদন্তের স্বার্থে ফার্মেসিটির কার্যক্রম সাময়িকভাবে স্থগিত রাখা হয়েছে।
তদন্ত সংশ্লিষ্টরা জানিয়েছেন, এ ঘটনার সঙ্গে কোনো দালাল চক্র জড়িত রয়েছে কি না, সেটিও খতিয়ে দেখা হচ্ছে। অভিযোগ প্রমাণিত হলে সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
এ ঘটনাকে কেন্দ্র করে এলাকায় ব্যাপক আলোচনা শুরু হয়েছে। সচেতন মহলের মতে, প্রান্তিক এলাকায় স্বাস্থ্যসেবার মান নিশ্চিত করতে নিয়মিত তদারকি ও কঠোর নজরদারি জোরদার করা জরুরি।





