নারায়ণগঞ্জ শহরের জলবায়ু অভিযোজনে কমিউনিটি-নেতৃত্বাধীন পরিকল্পনার ওপর গুরুত্বারোপ
জলবায়ু পরিবর্তনের ঝুঁকি মোকাবিলায় নারায়ণগঞ্জ শহরে কমিউনিটি-নেতৃত্বাধীন পরিকল্পনার গুরুত্ব তুলে ধরা হয়েছে একটি জাতীয় কর্মশালায়। প্র্যাকটিক্যাল অ্যাকশন ইন বাংলাদেশ, নারায়ণগঞ্জ সিটি কর্পোরেশন এবং গ্লোবাল সেন্টার অন অ্যাডাপ্টেশনের যৌথ উদ্যোগে এই কর্মশালার আয়োজন করা হয়।
“লার্নিং অ্যান্ড এক্সপেরিয়েন্স শেয়ারিং: পিপলস অ্যাডাপ্টেশন প্ল্যানস ফর ইনক্লুসিভ, ক্লাইমেট-রেজিলিয়েন্ট আরবান সার্ভিস ডেলিভারি ইন নারায়ণগঞ্জ সিটি কর্পোরেশন” শীর্ষক এই কর্মশালা রাজধানীর ইন্টারকন্টিনেন্টাল ঢাকায় অনুষ্ঠিত হয়। গ্লোবাল অ্যাফেয়ার্স কানাডার অর্থায়নে পরিচালিত প্রকল্পটির মূল লক্ষ্য ছিল শহরের নিম্ন-আয়ের মানুষের জলবায়ু সংক্রান্ত অগ্রাধিকারগুলোকে নগর পরিকল্পনায় অন্তর্ভুক্ত করা।
আরও পড়ুন: নরসিংদীতে আলোচিত কিশোর হত্যা মামলার রহস্য উদঘাটন, গ্রেফতার ১
কর্মশালায় প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন নারায়ণগঞ্জ সিটি কর্পোরেশনের প্রশাসক অ্যাডভোকেট মো. সাখাওয়াত হোসেন খান। বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য রাখেন প্র্যাকটিক্যাল অ্যাকশন ইন বাংলাদেশের কান্ট্রি ডিরেক্টর ইশরাত শবনম এবং নারায়ণগঞ্জ সিটি কর্পোরেশনের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা মো. নূর কুতুবুল আলম।
আলোচনায় বলা হয়, নারায়ণগঞ্জ শহর বর্তমানে তীব্র তাপদাহ, জলাবদ্ধতা এবং অনিয়মিত বৃষ্টিপাতসহ নানা ধরনের জলবায়ু ঝুঁকির মুখে রয়েছে। এসব চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় ‘পিপলস অ্যাডাপ্টেশন প্ল্যান’ প্রণয়ন করা হয়েছে, যার মাধ্যমে শহরের দরিদ্র জনগোষ্ঠীর প্রয়োজন ও অভিজ্ঞতা নগর উন্নয়ন পরিকল্পনায় অন্তর্ভুক্ত করা সম্ভব হবে।
আরও পড়ুন: লন্ডনে থেকেও মানবিক দায়বদ্ধতা: জাহাঙ্গীর ফিরোজের ঈদ সহায়তা
প্রশাসক অ্যাডভোকেট মো. সাখাওয়াত হোসেন খান বলেন, পিপলস অ্যাডাপ্টেশন প্ল্যান নারায়ণগঞ্জের জন্য একটি গুরুত্বপূর্ণ মাইলফলক। পিছিয়ে পড়া জনগোষ্ঠীর মতামত সরাসরি পরিকল্পনায় অন্তর্ভুক্ত করার মাধ্যমে একটি অন্তর্ভুক্তিমূলক ও জলবায়ু সহনশীল নগর গড়ে তোলার পথ তৈরি হবে।
প্র্যাকটিক্যাল অ্যাকশন ইন বাংলাদেশের কান্ট্রি ডিরেক্টর ইশরাত শবনম বলেন, জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাব সবচেয়ে বেশি পড়ে প্রান্তিক মানুষের ওপর। যখন মানুষ নিজেরাই তাদের অভিযোজন পরিকল্পনা তৈরি করে, তখন প্রকৃতি-ভিত্তিক সমাধানগুলো আরও কার্যকর ও টেকসই হয়।
গ্লোবাল সেন্টার অন অ্যাডাপ্টেশনের কান্ট্রি রিপ্রেজেন্টেটিভ রিতা লোহানি বলেন, স্থানীয় নেতৃত্বে অভিযোজন উদ্যোগই বৈশ্বিক জলবায়ু সহনশীলতার মূল ভিত্তি। নারায়ণগঞ্জ সিটি কর্পোরেশনের মাস্টারপ্ল্যানে জনগণের মতামত অন্তর্ভুক্ত করার এই উদ্যোগ দেশের অন্যান্য শিল্পনগরের জন্যও একটি গুরুত্বপূর্ণ দৃষ্টান্ত।
প্র্যাকটিক্যাল অ্যাকশনের ক্লাইমেট রেজিলিয়েন্স বিষয়ক থিম্যাটিক লিড তামান্না রহমান বলেন, শহরের অনানুষ্ঠানিক বসতিতে বসবাসকারী ঝুঁকিপূর্ণ জনগোষ্ঠীর কণ্ঠস্বর যেন পরিকল্পনায় প্রতিফলিত হয়, সেটিই ছিল এই উদ্যোগের মূল লক্ষ্য। পিপলস অ্যাডাপ্টেশন প্ল্যানের মাধ্যমে জলাবদ্ধতা ও তীব্র তাপপ্রবাহ মোকাবিলায় প্রকৃতি-ভিত্তিক কার্যকর সমাধান চিহ্নিত করা হয়েছে।
পিপলস অ্যাডাপ্টেশন প্ল্যান উন্নয়ন প্রক্রিয়ার বিশেষজ্ঞ ড. হাসীব মোহাম্মদ ইরফানুল্লাহ বলেন, এই পরিকল্পনা প্রণয়নের পদ্ধতি একটি নিচ থেকে ওপরে ওঠার অংশগ্রহণমূলক প্রক্রিয়া। বৈজ্ঞানিক জলবায়ু ঝুঁকি মূল্যায়নের সঙ্গে স্থানীয় মানুষের অভিজ্ঞতা যুক্ত করে একটি কার্যকর পথনকশা তৈরি করা হয়েছে।
গ্লোবাল সেন্টার অন অ্যাডাপ্টেশনের প্রোগ্রাম অফিসার রিয়াদাদ হোসেন বলেন, স্থানীয় নেতৃত্বই কার্যকর অভিযোজনের মূল চাবিকাঠি। নারায়ণগঞ্জের এই উদ্যোগ দেখিয়েছে কীভাবে নগর কর্তৃপক্ষ ও নাগরিকদের অংশগ্রহণে জলবায়ু সহনশীল পরিকল্পনা তৈরি করা সম্ভব।
কর্মশালায় পিপলস অ্যাডাপ্টেশন প্ল্যান তৈরির প্রক্রিয়ার ওপর একটি ভিডিও ডকুমেন্টারি প্রদর্শন করা হয় এবং মাঠ পর্যায়ের অংশগ্রহণকারীরা তাদের অভিজ্ঞতা তুলে ধরেন। সানজিদা কাইয়ুমের উপস্থাপনা ও পলাশ সরকারের সঞ্চালনায় আয়োজিত কর্মশালায় নারায়ণগঞ্জ সিটি কর্পোরেশনের বিভিন্ন কর্মকর্তা, স্থানীয় বাসিন্দা এবং উন্নয়ন সংস্থার প্রতিনিধিরা অংশ নেন।





