চুয়াডাঙ্গায় জ্বালানি তেলের সংকট, চালকদের ভোগান্তি
চুয়াডাঙ্গা জেলাজুড়ে জ্বালানি তেলের তীব্র সংকট দেখা দিয়েছে। জেলার অধিকাংশ পাম্পে পেট্রল ও ডিজেল না থাকায় চালকদের খালি হাতে ফিরে যেতে হচ্ছে। হঠাৎ করে তেলের সরবরাহ কমে যাওয়ায় পরিবহন খাতসহ সাধারণ মানুষের দৈনন্দিন জীবনযাত্রায় চরম ভোগান্তি তৈরি হয়েছে।
মঙ্গলবার (১৭ মার্চ) সকাল থেকে জেলার বিভিন্ন পেট্রল পাম্পে গিয়ে দেখা যায়, মোটরসাইকেল চালক, অন্যান্য যানবাহনের চালক দীর্ঘ সময় অপেক্ষা করেও তেল পাচ্ছেন না। অনেকেই পাম্পে এসে জানতে পারছেন যে সেখানে পেট্রল বা ডিজেল মজুত নেই। ফলে বাধ্য হয়ে তাদের খালি হাতে ফিরে যেতে হচ্ছে।
আরও পড়ুন: হাতিয়ার উপজেলা নির্বাহী অফিসার ওএসডি
পাম্প মালিকরা বলছেন, আন্তর্জাতিক বাজারে অস্থিরতা এবং সরবরাহ ঘাটতির কারণেই এই পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়েছে।
জানা যায়, সম্প্রতি মধ্যপ্রাচ্যে চলমান যুদ্ধ পরিস্থিতির কারণে বিশ্ববাজারে জ্বালানি তেলের সরবরাহ চেইন মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্থ হয়েছে। এর সরাসরি প্রভাব পড়েছে বাংলাদেশের জ্বালানি খাতে। চুয়াডাঙ্গা জেলার পাম্পগুলোতে গত কয়েকদিন ধরে চাহিদামত তেলের বরাদ্দ মিলছে না। তেলবাহী লরিগুলো ডিপো থেকে সীমিত পরিমান তেল নিয়ে ফিরছে যা বরাদ্দের তুলনায় অত্যন্ত সামান্য।
আরও পড়ুন: আইজিপির বাড়িতেই চুরি: নিরাপত্তার ‘দুর্গে’ নিঃশব্দে ঢুকে তামার তার উধাও
এদিকে দেখা যায়, অধিকাংশ পাম্পের সামনে তেল নেই লেখা সংবলিত বোর্ড ঝুলিয়ে রাখা হয়েছে। যে কয়েকটি পাম্পে তেল অবশিষ্ট আছে, সেখানেও জনপ্রতি সর্বোচ্চ ২শ থেকে ৫শ টাকার বেশি তেল দেয়া হচ্ছে না।
মোটরসাইকেল চালকরা বলছেন, সকাল থেকে কয়েকটি পাম্পে ঘুরেও তেল পাননি। অনেকে তেলের আশায় পাম্পগুলোতে মোটরসাইকেল ও ট্রাক চালকরা ভিড় করছেন। ঘণ্টার পর ঘণ্টা দাঁড়িয়ে থেকেও অনেকে তেল না পেয়ে ফিরে যাচ্ছেন। অনেকে আবার তেলশূন্য বাইক রাস্তায় রেখে বোতল হাতে পাম্পে ছুটে আসছেন তেল পাবার আশায়। কিন্তু পাম্পে এসে দেখতে পাচ্ছেন ভিন্ন চিত্র, লম্বা লাইনে সারিবদ্ধ ভাবে দাঁড়িয়ে আছেন ক্রেতারা। কিছু কিছু জায়গায় তেল পাওয়া গেলেও সেখানে দেখা গেছে আইন-শৃঙ্খলা বাহিনী দ্বারা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণ করে তেল বিক্রয় করা হচ্ছে।
চুয়াডাঙ্গা মূলত কৃষিপ্রধান অঞ্চল। সেচ মৌসুম চলাকালে ডিজেলের চাহিদা বাড়ে। তেল না পাওয়ায় সেচ পাম্পগুলো বন্ধ হওয়ার উপক্রম হয়েছে, যা বোরো আবাদে বড় ধরনের নেতিবাচক প্রভাব ফেলতে পারে বলে আশঙ্কা করছেন কৃষকরা।
চুয়াডাঙ্গার মেসার্স মোজাম্মেল হক পেট্রোল পাম্পের ক্যাশিয়ার মামুন হোসেন জানান, সোমবার ৩ হাজার লিটার পেট্রল ও ৩ হাজার লিটার অকটেন এবং সাড়ে ৪ হাজার লিটার ডিজেল তেল এসেছিলো। রাত থেকে বিক্রয় শুরু হয়ে বেলা আড়াইটার মধ্যে সব শেষ। দিনরাত সবসময় ক্রেতাদের উপস্থিতি ছিল ব্যাপক। ডিপো থেকে তেল না আসলে আমরা দেব কিভাবে।
তেল নিতে আসা মোটরসাইকেল আরোহী করিম বলেন, শহরের পেট্রল পাম্পগুলোতে ২০০, আবার কোনোটিতে ১০০ টাকার তেল দিচ্ছে। আবার কোনো কোনো পাম্পে তেল বিক্রি বন্ধ আছে। এই সমস্যার দ্রুত সমাধান হওয়া উচিত।
চুয়াডাঙ্গার হাইওয়ে ফিলিং স্টেশনের ম্যানেজার জাকিরুল ইসলাম বলেন, পাম্পের বর্তমানে পেট্রল ও অকটেন তেল নেই। সোমবার আড়াই হাজার লিটার পেট্রল ও ৬ হাজার লিটার ডিজেল এসেছিলো। রাত দুইটা থেকে বেলা সাড়ে ১২ টার মধ্যে বিক্রি শেষ। রাতে ৯ হাজার লিটার ডিজেল, ৩ হাজার লিটার পেট্র্রল ও ৩ হাজার লিটার অকটেন তেল আসবে। তাছাড়া ক্রেতাদের অধিক চাহিদার কারণে জ্বালানি তেলের সংকট দেখা দিয়েছে।
চুয়াডাঙ্গা টার্মিনালে মামুন ফিলিং স্টেশন গিয়ে দেখা যায়, সোমবার বিকাল বেলায় ক্রেতা সাধারণের মাঝে পেট্র্রল তেল বিক্রয় করা হয়। তেলের সংকট থাকায় ক্রেতাদেরকে ২শ থেকে ৫শ টাকার তেল দেওয়া হয়।
তেল পাম্পে নিয়োজিত আইন-শৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্য এএসআই বাবুল হোসেন বলেন, মেসার্স মামুন ফিলিং স্টেশনে জ্বালানি তেল বিক্রি করা হচ্ছে। সকল ক্রেতারা সুশৃংঙ্খলভাবে এসে লাইনে দাঁড়িয়ে তেল নিচ্ছেন। এখানে যেকোনো ধরনের অপ্রীতিকর পরিস্থিতি এড়াতে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর তৎপরতা জোরদার করা হয়েছে।





