নারায়ণগঞ্জের লাঙ্গলবন্দে শুরু হয়েছে অষ্টমী স্নানোৎসব, পুণ্যার্থীদের ঢল

Sanchoy Biswas
বাংলাবাজার রিপোর্ট
প্রকাশিত: ৪:৩৭ অপরাহ্ন, ২৬ মার্চ ২০২৬ | আপডেট: ৪:৩৭ অপরাহ্ন, ২৬ মার্চ ২০২৬
ছবিঃ সংগৃহীত
ছবিঃ সংগৃহীত

নারায়ণগঞ্জের বন্দর উপজেলার লাঙ্গলবন্দে হিন্দু সম্প্রদায়ের অন্যতম ধর্মীয় আয়োজন অষ্টমী স্নানোৎসব শুরু হয়েছে। পাপ মোচনের আশায় ব্রহ্মপুত্র নদে ডুব দিচ্ছেন দেশ-বিদেশ থেকে আসা লাখো পুণ্যার্থী।

তিথি অনুযায়ী বুধবার (২৫ মার্চ) বিকেল ৫টা ১৭ মিনিটে শুরু হওয়া এ স্নানোৎসব চলবে বৃহস্পতিবার (২৬ মার্চ) দুপুর ২টা ৫৯ মিনিট পর্যন্ত।

আরও পড়ুন: শ্রীপুরে মাদক সেবনে বাধা দেওয়ায় সন্ত্রাসী হামলার অভিযোগ, আহত- ৩ প্রতিবাদে মানববন্ধন

স্নানোৎসবকে কেন্দ্র করে লাঙ্গলবন্দের প্রায় তিন কিলোমিটার এলাকা জুড়ে নেওয়া হয়েছে কঠোর নিরাপত্তা ব্যবস্থা। আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে দুই শিফটে প্রায় ১১০০ পুলিশ সদস্য মোতায়েন করা হয়েছে। পাশাপাশি ট্রাফিক ব্যবস্থাপনায় নেওয়া হয়েছে বিশেষ পদক্ষেপ। ২৪টি স্নানঘাট ও আশপাশের এলাকা সিসিটিভির আওতায় আনা হয়েছে। সাদা পোশাকে গোয়েন্দা নজরদারি ও ওয়াচ টাওয়ার থেকে সার্বক্ষণিক পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করা হচ্ছে।

পুরাণ অনুযায়ী, ত্রেতা যুগে ঋষি জমদগ্নি ও রেণুকার পুত্র পরশুরাম মাতৃহত্যার দায়ে অভিশপ্ত হন। পরে তিনি হিমালয়ের মানস সরোবরে স্নান করে পাপমুক্ত হন। এরপর সেই পবিত্র জল মানবকল্যাণে লাঙ্গল দিয়ে চষে হিমালয় থেকে ব্রহ্মপুত্র নদ হিসেবে লাঙ্গলবন্দে নিয়ে আসেন বলে বিশ্বাস করা হয়। এখানেই তাঁর লাঙ্গল থেমে যায়, সেখান থেকেই জায়গাটির নাম হয় লাঙ্গলবন্দ।

আরও পড়ুন: বিতর্কিত বক্তব্যে পটুয়াখালীতে উত্তেজনা, সংবর্ধনা অনুষ্ঠানে হট্টগোল ও প্রতিবাদ

প্রতি বছর চৈত্র মাসের শুক্লাষ্টমী তিথিতে এই স্নানোৎসব অনুষ্ঠিত হয়। বাংলাদেশ ছাড়াও ভারত, শ্রীলংকা, নেপাল ও ভুটান থেকে পুণ্যার্থীরা এতে অংশ নেন। উৎসবকে ঘিরে এলাকায় বসেছে গ্রামীণ ঐতিহ্যের মেলা।

স্নান উদযাপন পরিষদের উপদেষ্টা ও বন্দর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা শিবানী সরকার জানান, পুণ্যার্থীদের সুবিধার্থে ২৪টি স্নানঘাট সংস্কার করা হয়েছে এবং নদীর কচুরিপানা অপসারণ করা হয়েছে। বিশুদ্ধ পানির জন্য ৪৭টি নলকূপ স্থাপন করা হয়েছে। এছাড়া নারীদের জন্য পৃথক পোশাক পরিবর্তন কক্ষ এবং ২০০টি অস্থায়ী শৌচাগার নির্মাণ করা হয়েছে।

জেলা পুলিশ সুপার মো. মিজানুর রহমান মুন্সি জানান, পুণ্যার্থীদের নিরাপত্তা নিশ্চিতে পুলিশ সদস্যদের পাশাপাশি আনসার ও নৌপুলিশ কাজ করছে। দুর্ঘটনা এড়াতে সর্বোচ্চ সতর্কতা নেওয়া হয়েছে।

জেলা প্রশাসক মো. রায়হান কবীর বলেন, পুণ্যার্থীদের জন্য সেবাকেন্দ্রে সরকারি বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে। ঈদকে সামনে রেখে মহাসড়কে বাড়তি চাপ মোকাবেলায় ট্রাফিক বিভাগের সঙ্গে সমন্বয় করা হচ্ছে। এছাড়া লাঙ্গলবন্দে সার্বক্ষণিক তদারকিতে একজন এডিসি নিয়োজিত রয়েছেন।

পুণ্যার্থীদের চিকিৎসা সেবার জন্য ১০ শয্যার একটি অস্থায়ী হাসপাতাল, মেডিকেল টিম, রোগী পরিবহনের জন্য রিকশা এবং ছয়টি অ্যাম্বুলেন্স প্রস্তুত রাখা হয়েছে।