ইরানে ভূপাতিত মার্কিন যুদ্ধবিমানের দ্বিতীয় ক্রুও উদ্ধার

Sanchoy Biswas
বিবিসি বাংলা
প্রকাশিত: ৬:৫৮ অপরাহ্ন, ০৫ এপ্রিল ২০২৬ | আপডেট: ১১:০৬ অপরাহ্ন, ০৫ এপ্রিল ২০২৬
ছবিঃ সংগৃহীত
ছবিঃ সংগৃহীত

ইরানে গুলিতে ভূপাতিত মার্কিন এফ-১৫ যুদ্ধবিমানের দ্বিতীয় যে ক্রু'কে গত দু'দিন খুঁজে পাওয়া যাচ্ছিলো না, তাকে উদ্ধার করা হয়েছে বলে রোববার জানিয়েছে যুক্তরাষ্ট্র।

উদ্ধার হওয়া মার্কিন ক্রু 'নিরাপদ ও সুস্থ' আছেন বলে জানিয়েছেন দেশটির প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প।

আরও পড়ুন: মার্কিন পাইলটকে ইরান থেকে নিরাপদে উদ্ধার করেছেন যুক্তরাষ্ট্র

গত শুক্রবার গুলিতে ইরানের দক্ষিণাঞ্চলের একটি পাহাড়ি এলাকায় যুদ্ধবিমানটি ভূপাতিত হয়। ইরানের দাবি, নিজেদের আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা ব্যবহার করে তারা অত্যাধুনিক মার্কিন যুদ্ধবিমানটিকে ভূপাতিত করতে সক্ষম হয়েছে।

বিধ্বস্ত হওয়ার সময় বিমানটিতে একজন পাইলট ও একজন ক্রু ছিলেন। ঘটনার পরপরই তাদেরকে উদ্ধারে বিশেষ তল্লাশি অভিযান শুরু করে মার্কিন বাহিনী।

আরও পড়ুন: ইরানে বিধ্বস্ত বিমানের পাইলট শনাক্ত, ইরান থেকে বের করা সম্ভব হয়নি

অভিযানের প্রথমদিকে পাইলটকে উদ্ধার করা হলেও অপর ক্র'র কোনো খোঁজ পাচ্ছিলেন না মার্কিন সেনারা। তাকে উদ্ধারে গত দু'দিন ধরে তল্লাশি অভিযান জোরদার করা হয়।

অন্যদিকে, ইরানও নিখোঁজ মার্কিন সেনাকে ধরার চেষ্টা চালাচ্ছিল।

তাকে জীবিত অবস্থায় ধরিয়ে দিতে পারলে প্রায় ৫০ হাজার পাউন্ড বা ৬৬ হাজার ১০০ মার্কিন ডলার সমমূল্যের পুরস্কার দেওয়ার ঘোষণা দিয়েছিল ইরানের সামরিক বাহিনী।

এরপর দেশটির সেনাদের পাশাপাশি স্থানীয় বাসিন্দারাও নিখোঁজ মার্কিন ক্রু'র সন্ধান পেতে তৎপরতা চালিয়ে আসছিলেন।

সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে প্রকাশিত এক ভিডিওতে দেখা যায়, নিখোঁজ মার্কিন ক্রু'র সন্ধান পেতে শত শত ইরানি নাগরিক দক্ষিণ ইরানের পাহাড়ি এলাকার দিকে যাচ্ছেন।

তাদের হাতে ধরা পড়ার আগে নিখোঁজ ক্রু'কে উদ্ধারে জোর তৎপরতা শুরু করে যুক্তরাষ্ট্র।

বিবিসির মার্কিন অংশীদার সিবিএস নিউজের খবর অনুযায়ী, মার্কিন উদ্ধারকারী দলে দু'টি হেলিকপ্টার এবং একটি যুদ্ধবিমান অংশ নেয়।

তবে রোববার সামাজিক মাধ্যম ট্রুথ সোশ্যালের এক পোস্টে ডোনাল্ড ট্রাম্প জানিয়েছেন, নিখোঁজ ক্রু'কে উদ্ধার করতে দক্ষিণ ইরানের পাহাড়ি এলাকায় 'কয়েক ডজন বিমান' পাঠিয়েছিল মার্কিন সামরিক বাহিনী।

দু'দিন তল্লাশি চালানোর পর রোববার নিখোঁজ দ্বিতীয় ক্রু'কেও উদ্ধার করা হয়েছে বলে জানান তিনি।

"আমরা তাকে পেয়েছি! আমার প্রিয় আমেরিকার ভাইয়েরা, গত কয়েক ঘণ্টায় মার্কিন সামরিক বাহিনী যুক্তরাষ্ট্রের ইতিহাসে অন্যতম দুঃসাহসিক একটি অনুসন্ধান ও উদ্ধার অভিযান পরিচালনা করেছে," ট্রুথ সোশ্যালে লিখেছেন ডোনাল্ড ট্রাম্প।

উদ্ধার হওয়া মার্কিন সেনাকে 'সম্মানিত একজন কর্নেল' বলে অভিহিত করেছেন ট্রাম্প। বিমান ভূপাতিত হওয়ার সময় তিনি আহত হন বলে জানান তিনি।

"তিনি আহত হয়েছেন, কিন্তু পুরোপুরি সুস্থ হয়ে উঠবেন," সামাজিক মাধ্যমের পোস্টে যোগ করেন ট্রাম্প।

উদ্ধার অভিযান চলাকালে মার্কিন কোনো সেনা হতাহত হননি বলে জানিয়েছে যুক্তরাষ্ট্র।

ক্রু'র অবস্থান আরও আগে শনাক্ত করতে পেরেছিলেন মার্কিন সেনা। 'উদ্ধার অভিযানকে বিপন্ন করতে চাননি' বলে সে বিষয়ে তথ্য প্রকাশ করা হয়নি বলে জানান ট্রাম্প।

"আমরা আমেরিকার কোনো যোদ্ধাকে পেছনে ফেলে রেখে যাব না!" বলেন ডোনাল্ড ট্রাম্প।

এদিকে, নিখোঁজ ক্রু'র উদ্ধারের খবরে যুক্তরাষ্ট্রের সাবেক ও বর্তমান কর্মকর্তারা উচ্ছ্বাস প্রকাশ করেছেন।

"কাউকে পেছনে ফেলে রেখে না আসার একটি নীতি মার্কিন সামরিক বাহিনীর রয়েছে," বলেন যুক্তরাষ্ট্রের নৌবাহিনীর সাবেক কর্মকর্তা মিক মুলরয়।

এদিকে, গত শুক্রবার ইরানে মার্কিন এফ-১৫ যুদ্ধবিমান ভূপাতিত হওয়া ওয়াশিংটনের জন্য একটি বড় ধাক্কা বলে বিবেচনা করা হচ্ছে।

এর কারণ ডোনাল্ড ট্রাম্প আগে বলেছিলেন, ইরানের আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা ব্যাপকভাবে দুর্বল হয়ে পড়েছে।

দেশটি তার আকাশসীমায় পরিচালিত আমেরিকান বিমানগুলোর বিরুদ্ধে 'কিছুই করতে পারবে না' বলে মন্তব্য করেছিলেন তিনি।

ট্রাম্পের প্রতিরক্ষামন্ত্রী পিট হেগসেথও বলেছিলেন যে, যুক্তরাষ্ট্র ইরানের ওপর 'আকাশ নিয়ন্ত্রণ' প্রতিষ্ঠা করেছে।

কিন্তু এফ-১৫ যুদ্ধবিমান ভূপাতিত হওয়ার ঘটনা ইঙ্গিত দিচ্ছে, ইরান সীমিত সক্ষমতায় হলেও তার আকাশসীমা রক্ষা করতে এখনো সক্ষম।

এছাড়া মার্কিন সেনারা কেউ হতাহত হননি বলে ট্রাম্প দাবি করলেও উদ্ধার অভিযান পরিচালনাকালে ইরানে তারা গোলাগুলির মুখে পড়েন বলে জানা যাচ্ছে।

এ ঘটনায় সেনাদের মধ্যে কয়েকজন আহত হন বলে মার্কিন গণমাধ্যমের খবরে বলা হয়েছে।

তবে তারা ইরানের আকাশসীমা থেকে বেরিয়ে আসতে সক্ষম হয়েছেন বলে সেখানে উল্লেখ করা হয়।

ইরানের নিরাপত্তা বাহিনীর হাতে মার্কিন ক্রু ধরা পড়লে সেটার প্রভাব কী হতে পারে, তা নিয়েও যুক্তরাষ্ট্রের কর্মকর্তাদের মধ্যে উদ্বেগ লক্ষ্য করা যাচ্ছিলো।

বিশ্লেষকরা বলছিলেন, তেমনটি ঘটলে ওয়াশিংটনের জন্য বিষয়টি রাজনৈতিকভাবে একটি বিব্রতকর পরিস্থিতি তৈরি করতে পারে।

মার্কিন বিমানসেনাকে প্রচারণার হাতিয়ার হিসেবে ব্যবহার করা হতে পারে, যা ১৯৭৯ সালের ইরান জিম্মি সংকটের ভয়াবহ স্মৃতিকে আবার সামনে নিয়ে আসবে বলে জানিয়েছিলেন তারা।

তখন মার্কিন কূটনীতিকদের ৪৪৪ দিন আটকে রাখা হয়েছিল।

তাদের উদ্ধারে একটি সামরিক অভিযান চালানো হলেও তা ব্যর্থ হয়।

পরে ইরানের ওপর নিষেধাজ্ঞা শিথিল করে দেশটির প্রায় আট বিলিয়ন ডলারের সম্পদ ছেড়ে দিয়ে আটক মার্কিন নাগরিকদের মুক্তি নিশ্চিত করেছিল যুক্তরাষ্ট্র।