রায়পুরে দুর্গম চরাঞ্চলের মানুষের ভোগান্তি চরমে, কালভার্ট যেন মরণফাঁদ

Sadek Ali
আব্দুল্লাহ আল মামুন, রায়পুর
প্রকাশিত: ১২:২৫ অপরাহ্ন, ০৫ এপ্রিল ২০২৬ | আপডেট: ৮:৪২ অপরাহ্ন, ০৫ এপ্রিল ২০২৬
ছবিঃ সংগৃহীত
ছবিঃ সংগৃহীত

লক্ষীপুর জেলার রায়পুর উপজেলার  ৮ নং  চরবংশী ইউনিয়নের  ৭ নং ওয়ার্ডের মোল্লার হাটের  দক্ষিণ চর কাছিয়া গ্রামের   মিয়ার হাট সড়ক সংলগ্ন কালভার্টটি  মাঝখানে ভেঙ্গে পড়ায়, কালভার্টটি এখন মরণফাঁদে পরিনত হয়েছে , এতে করে  চরম  ভোগান্তিতে পড়েছে স্থানীয় বাসিন্দারা । 

কালভার্টটি দিয়ে প্রতিনিয়ত অন্তত  কয়েকটি গ্রামের কয়েক হাজার মানুষ এবং যানবাহন চলাচল করে । কালভার্টটির মাঝে ভেঙে গিয়ে অনেক বড় গর্তের সৃষ্টি হয়েছে এবং প্রতিনিয়ত দুর্ঘটনায় পড়ছে  ছোট শিশু ও বয়বৃদ্ধরা  এতে  করে ভোগান্তির চরমে পৌঁছেছে স্থানীয়রা ।

আরও পড়ুন: নরসিংদী জেলা প্রেসক্লাবের সভাপতি আউয়াল, সাধারণ সম্পাদক সজল ভূঁইয়া

সেতু না থাকায় চরম দুর্ভোগের শিকার হচ্ছেন চরাঞ্চলের লাখো মানুষ। প্রতিদিন নৌকায় খাল পারাপারে অপচয় হচ্ছে কর্মঘণ্টা, গুনতে হচ্ছে বাড়তি টাকা। দুর্ভোগ নিরসনে খেয়া ঘাটে  একটি সেতু নির্মাণের দাবি এ অঞ্চলের  হাজার মানুষের।

গ্রামের শত শত মানুষ প্রতিদিন  একটি নৌকার মাধ্যমে  জীবনের ঝুঁকি নিয়ে চলাচল করছে । শিক্ষা, স্বাস্থ্য ও কৃষি কার্যক্রমে পড়ছে বড় ধরনের বাধা। স্কুল, কলেজ ও মাদ্রাসাগামী শিক্ষার্থীরা যেমন ভোগান্তির শিকার হচ্ছেন, তেমনি জরুরি মুহূর্তে রোগী বা গর্ভবতী নারীকে হাসপাতালে নেওয়ার সময়ও ঘটছে দুর্ঘটনা। বর্ষার সময় ঝুঁকি আরও বেড়ে যায়।

আরও পড়ুন: বরগুনা সদর উপজেলাকে ‘রেড জোন’ ঘোষণা, তিন শিশুর মৃত্যু

স্থানীয়রা জানান, একদিকে নেই গাড়ি যাতায়াতের সেতু অপরদিকে নেই রাস্তাঘাট। এ কারণে এই এলাকায় কেউ আত্মীয়তা করতে চায় না। তাই এই খালের  ওপর একটি  সেতু নির্মাণ হলে এ অঞ্চলের শিক্ষার্থী, কৃষক, নারী-পুরুষ সবার জীবনযাত্রায় আসবে ইতিবাচক পরিবর্তন। শুধু তাই নয়, এলাকার অর্থনৈতিক ও সামাজিক উন্নয়নে সেতুটি হবে মাইলফলক।

স্থানীয় বাসিন্দা মো: রাসেল সর্দার বলেন,সম্প্রতি ৮ নং ইউনিয়ন মোল্লার হাট থেকে ক্রয় করা ৮ থেকে ১০ লক্ষ টাকার মুদি দোকানদারদের চাল চিনি লবণ  ও কৃটনাষক ঔষধসহ বিভিন্ন মালামাল   মিয়ারহাটের রাহুল ঘাট থেকে ট্রলারে করে টুনিরচর  কানিবগা একতা বাজার  নামক স্থানে নেওয়ার পথে  ট্রলারটি  নদীর জোয়ারের পানির গতি বেশি থাকার কারণে খালে সকল মালামালসহ জোয়ারের পানিতে  ট্রলারটি ডুবে যায়। এভাবে প্রতিনিয়ত দুর্ঘটনা ঘটছে। 

৮ নং দক্ষিণ চরবংশী ইউনিয়ন পরিষদ চেয়ারম্যান আবু জাফর সালেহ্ মিন্টু ফরায়জী বলেন, স্থানটিতে একটি সেতু নির্মাণের বিষয়ে আমি বারবার দাবি জানিয়েছি, এখানে একটা সেতু খুবই দরকার। জনগণের ভোগান্তি নিরসনে দ্রুত ব্যবস্থা হওয়া উচিত।

এবিষয়ে রায়পুর উপজেলা এলজিইডি প্রকৌশলী সুমন মুন্সি বলেন, বিষয়টি  সম্পর্কে অবগত রয়েছি, ওই স্থানে একটি একটি সেতু নির্মাণ জরুরী হয়ে পড়েছে। জনদুর্ভোগ লাঘব করতে জরুরি ভিত্তিতে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ  নেওয়া হবে ।