রায়পুরে মাদকের ছড়াছড়ি, সন্ধ্যা হলেই বাড়ে বিক্রি-সেবন

Sadek Ali
আব্দুল্লাহ আল মামুন, রায়পুর
প্রকাশিত: ৮:১৫ পূর্বাহ্ন, ১২ এপ্রিল ২০২৬ | আপডেট: ৮:১৫ পূর্বাহ্ন, ১২ এপ্রিল ২০২৬
ছবিঃ সংগৃহীত
ছবিঃ সংগৃহীত

 লক্ষ্মীপুরের রায়পুরে বিভিন্ন গ্রামে দেদারসে বিক্রি হচ্ছে মাদক। মাদকের নীল ছোবলে ধ্বংস হচ্ছে তরুণ ও যুব সমাজ। মাদক ব্যবহারকারী ও বিক্রয়কারীর সংখ্যা দিন দিন বৃদ্ধি পাওয়ায় এখানে বাড়ছে নানা মাত্রার অপরাধ কর্মকাণ্ড । যুবক-যুবতী থেকে শুরু করে কিশোর-কিশোরীরাও মাদকাসক্ত হয়ে ভয়ংকর অপরাধে জড়িয়ে পড়ছে। মাদকের অর্থ সংগ্রহ করতে গিয়ে নানান অপরাধে জড়িয়ে পড়ছে কিশোর-যুবকরা। এখানে মাদকের সহজলভ্যতায় অধিকহারে বিপদগামী হচ্ছে উঠতি বয়সের কিশোররা। অত্যাধুনিক যোগাযোগ মাধ্যমের কারণে অতি সহজেই হাতের নাগালে পেয়ে যাচ্ছে এসব মাদকদ্রব্য । ফলে উপজেলার সর্বত্র ইয়াবা, গাঁজা, ফেন্সিডিলের ব্যবসা জমজমাট হয়ে উঠেছে।

স্থানীয় সচেতন নাগরিকরা জানান, ‘রায়পুরে মাদক সহজলভ্য হওয়ায় কিশোর, তরুণরা এ মরণনেশায় ঝুঁকে পড়ছে। সংশ্লিষ্টদের তেমন কোন তৎপরতা না থাকায় এ উপজেলার গ্রামে গ্রামে ইয়াবার জমজমাট ব্যবসা চলছে। ফলে সেবনকারীর সংখ্যাও আশংকাজনক হারে বাড়ছে। রায়পুর এলএম পাইলট স্কুলের এক শিক্ষক বলেন, ‘প্রতিদিন বিকাল থেকে রাত দশটা-এগারোটা পর্যন্ত মাদক ব্যবসায়ীরা গ্রামের রাস্তায় হেঁটে হেঁটে  ইয়াবাসহ বিভিন্ন মাদকদ্রব্য বিক্রি করে থাকে । প্যান্ট বা শার্টের ভেতর রেখে মুঠোফোনে যোগাযোগ করে তা বিক্রি করে বলে জানা গেছে। 

আরও পড়ুন: ঢাবির জগন্নাথ হলে বিঝু-বিষু-বৈসুকসহ পার্বত্য উৎসব উদযাপন

সম্প্রতি সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেইসবুকে  ব্যাপক ভসইরাল ও আলোড়ন সৃষ্টি হয়েছে, ৫নং চরপাতা ইউনিয়নে সচেতন নাগরিকদের মাদকদ্রব্য বিক্রি করা মূল এজেন্টদের তালিকা প্রকাশের মাধ্যমে। তালিকায় এগারো জন মাদক ব্যবসায়ীর নাম ঠিকানাসহ বিস্তারিত তালিকা প্রকাশ করা হয়।এছাড়াও উপজেলার কেরোয়া ইউনিয়নের সুনামগঞ্জ, নয়ারহাট, বাঁশতলা, মোল্লারহাট, সোনাপুর ইউপির বাসাবাড়ি, চরবগা, রাখালিয়া, চরপাতা ইউপির  বর্ডার বাজার , পশ্চিম চরপাতা সিংহেরপুল এলাকা, বামনী ইউপির বাংলাবাজার, কবিরহাট এলাকাসহ বিভিন্ন গ্রাম্যশহরে বিক্রি হচ্ছে দেদারসে ইয়াবা ট্যাবলেট । 

এদিকে চরমোহনা, রায়পুর, দক্ষিন চর আবাবিল, উত্তর চরবংশী, দক্ষিন চরবংশী ইউনিয়ন ও উত্তর চর আবাবিল ইউপির বেড়িবাঁধ এলাকা, এমপিবাজার সড়ক, হায়দরগঞ্জ ফাঁড়িথানার পেছনের কাইমুদ্দি বাড়ির এলাকা, কাঠেরপুল, ফজুমোল্লা ষ্টেশন, ঝাউডগী ও উত্তর চর আবাবিল গ্রামে সবচেয়ে বেশি মাদক বিক্রি হয়ে থাকে যা একাধিকবার  সরজমিনে দেখা গেছে  । 

আরও পড়ুন: নাইক্ষ্যংছড়ি সীমান্তে অভিযান, ৩৯৫ লিটার অক্টেন ও ২৪ বস্তা সার জব্দ

এছাড়া রায়পুর পৌরসভা বাসস্ট্যান্ড, মধুপুর, মুড়িহাটা সংলগ্ন আখড়া, মুচিহাটা, পোষ্টঅফিস সংলগ্ন ওয়াবদা কলোনি, ডাকাতিয়া নদীর পাড়, মহিলা কলেজ সংলগ্ন এলাকা,  শ্মশান ঘাট ,নতুনবাজার, পানি উন্নয়ন বোর্ডের ওয়ার্কশপ এলাকা, গোডাউন সংলগ্ন নদীর পাড়, পীর ফয়জুল্লা সড়কের ২০-২৫টি স্পটে দেদারসে এ মাদক ব্যবসা ও সেবন চলে আসছে প্রতিনিয়ত । 

এসব এলাকায় প্রায়ই মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তর ও পুলিশের বিভিন্ন বিভাগ অভিযান চালাচ্ছে। এতে মাদকদ্রব্যসহ মাদকসেবী, মাদক কারবারিদের গ্রেপ্তার করা হলেও থামছে না মাদক চোরাচালান ও সেবন। উল্লেখিত স্পটগুলোতে গাঁজা, ফেন্সিডিল, মদ, ইয়াবা বিক্রি হচ্ছে হরহামেশাই। তবে বহন সুবিধাজনক হওয়ায় ইয়াবার বেচাকেনা সবচেয়ে বেশি। পৌর শহরসহ গ্রামে গ্রামে চলছে নীরবে ইয়াবার সেবন। এদের মধ্যে অধিকাংশই উঠতি বয়সী।

এলাকাবাসীরা  জানান, সন্ধ্যা হলেই মোটরসাইকেলের আনাগোনা অনেক বেড়ে যায়। সেইসাথে বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের নাম পরিচয় দেওয়া  নেতাকর্মীদেরও উপস্থিতি দেখে থাকেন । দেখা যায় ৮-১০টি মোটরসাইকেল এদিক সেদিক ছুটে বেড়াচ্ছে। এভাবেই মাদকের কেনাবেচা হয় বলে জানান এলাকাবাসী।

এবিষয়ে এডভোকেট   মানিক জানান, ‘মাদকের সহজলভ্যতা ও  সংশ্লিষ্টদের তেমন তৎপরতা না থাকায় এ উপজেলার গ্রামে গ্রামে চলছে মাদকের জমজমাট ব্যবসা। একারণে সেবনকারীর সংখ্যা যেমন বাড়ছে, অন্যদিকে অপরাধ ও নৈতিক অবক্ষয়ও বেড়ে চলছে। এখান থেকে উত্তরণ হতে না পারলে ভবিষ্যৎ প্রজন্ম ধ্বংস হয়ে যাবে বলে তিনি মন্তব্য করেন ।

রায়পুর থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) শাহীন মিয়া বলেন, ‘সুনির্দিষ্টভাবে  তথ্য পাওয়ার পরে যেসব এলাকায় ইয়াবা বা যে কোন মাদক বিক্রি হয় সেখানেই পুলিশের অভিযান পরিচালনা করেন । তবে নিত্য নতুন কৌশল অবলম্বন করে এবং স্থান পাল্টিয়ে ঘুরে ঘুরে মাদক ব্যবসায়ীরা মাদক বিক্রি করে। এতে করে এদের ধরতে প্রতিদিন পুলিশের টহল চলে। গত দুই মাসে কমপক্ষে ১৫ জনের অধিক মাদক ব্যবসায়ীকে গ্রেফতার করে জেলহাজতে পাঠানো হয়েছে। এছাড়াও মাদক ব্যবসায়ী ও সেবনকারীদের ধরতে পুলিশের  বিশেষ অভিযান অব্যাহত রয়েছে ।