৪ শিক্ষকের ৫ জন শিক্ষার্থী
ছুটির দিনেও উত্তোলন করা হয়েছে পতাকা, স্কুলঘেঁষে গরুঘর
৪ জন শিক্ষকের ৫ জন শিক্ষার্থী, ছুটির দিনেও উত্তোলন করা হয়েছে পতাকা, স্কুলঘেঁষে গরুঘর, শ্রেণিকক্ষের তালায় ধরেছে মরিচা, ভাঙা টিনের বেড়ার ফাঁক থেকে উঁকি দিয়ে দেখা গেলো ক্লাসরুমে নির্মাণ সামগ্রী, একটি কক্ষে এলোমেলো ৩-৪টি বেঞ্চ, লাইব্রেরির চেয়ে পাশে থাকা গরুর গোয়ালঘরটি পরিষ্কার। এখানে পাঠদান হয়—দেখে বোঝার উপায় নেই।
এমন চিত্র পিরোজপুরের নাজিরপুর উপজেলার ৪ নম্বর দীর্ঘা ইউনিয়নের ১৮২ নং দক্ষিণ দীর্ঘা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের।
আরও পড়ুন: শেরপুরে বৈশাখী মেলা ঘিরে ব্যস্ত মৃৎশিল্পীরা
এনিয়ে স্থানীয়দের মধ্যে রয়েছে ক্ষোভ।
জানা গেছে, রোববার (১২ এপ্রিল) বৈশাখী উৎসব উপলক্ষে দেশের সব প্রাথমিক, মাধ্যমিক, উচ্চমাধ্যমিক ও কারিগরি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে সরকারি ছুটি ছিল। ছুটির তালিকা অনুযায়ী বিদ্যালয় বন্ধ থাকার কথা থাকলেও নিয়ম ভঙ্গ করে সেখানে পতাকা উত্তোলন করা হয়েছে।
আরও পড়ুন: সোনাগাজীতে লাইসেন্সহীন এলপিজি সিলিন্ডার বিক্রি, হাতেনাতে আটক ব্যবসায়ী
এদিকে বিদ্যালয়টির শিক্ষার মান নিয়েও উঠেছে গুরুতর প্রশ্ন। বর্তমানে স্কুলটিতে শিক্ষার্থীর সংখ্যা মাত্র পাঁচজন। এত অল্পসংখ্যক শিক্ষার্থী নিয়ে কার্যত শিক্ষা কার্যক্রম স্থবির হয়ে পড়েছে বলে অভিযোগ রয়েছে স্থানীয়দের।
সবচেয়ে উদ্বেগজনক বিষয় হলো, বিদ্যালয়ের ক্লাসরুম সংলগ্ন এলাকায় গড়ে উঠেছে গরুর খামার। শ্রেণিকক্ষের আশপাশে গবাদিপশু রাখার কারণে শিক্ষার পরিবেশ মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে। এতে শিক্ষার্থীদের স্বাস্থ্যঝুঁকিও বাড়ছে বলে মনে করছেন স্থানীয়রা।
স্থানীয়দের অভিযোগ, দীর্ঘদিন ধরেই বিদ্যালয়ে এমন অব্যবস্থাপনা চললেও কোনো কার্যকর পদক্ষেপ নেয়নি কেউ। তারা বিদ্যালয়ে স্বাভাবিক শিক্ষার পরিবেশ ফিরিয়ে আনার জোর দাবি জানায়।
অত্র বিদ্যালয়ের ৫ম শ্রেণির শিক্ষার্থী অর্পণ ঘরামী জানান, আমরা ক্লাসে ২ জন, ওয়ানে ১ জন, অন্য শ্রেণিগুলোতে কোনো ছাত্র-ছাত্রী নেই। ম্যাডামেরা ১০টায় আসে, দেড়টায় যায়।
মিতু নামের একজন স্কুলের দপ্তরির দায়িত্বে থাকা নারী বলেন, আজ স্কুল খোলা না বন্ধ আমি জানি। প্রতিদিনের ন্যায় আজও পতাকা উত্তোলন করেছি। স্কুলে ছাত্র-ছাত্রী কম। শিক্ষকেরা ৩টা–পৌনে ৪টায় যায়। স্থানীয় নিহার ঘরামী (কালু) স্কুলের ভেতরে গরুঘর বানিয়েছে।
এ বিষয়ে প্রধান শিক্ষক বনানীর কাছে জানতে চেয়ে তার মোবাইল ফোনে একাধিকবার কল করা হলে তার নম্বরটি বন্ধ পাওয়া যায়।
অত্র বিদ্যালয়ের ক্লাস্টারের দায়িত্বে থাকা উপজেলা সহকারী শিক্ষা কর্মকর্তা শামিম হাসান জানান, বন্ধের দিনে পতাকা উত্তোলনের ব্যাপারে তাদের কাছে লিখিত জবাব চাওয়া হবে। আমি আগামীকাল স্কুলে যাব এবং সবকিছুর সত্যতা খতিয়ে দেখব। তাদের কাছে লিখিত জবাব চাওয়া হবে। এই স্কুলে শিক্ষার্থী কমের বিষয়টি ইতোমধ্যে জেলায় পাঠানো হয়েছে।
উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিসার মো. আব্দুল হাকিম জানান, ছুটির দিনে জাতীয় পতাকা উত্তোলন করে স্কুলে তালা মেরে বাড়ি থাকা—এটি পতাকা অবমাননা। এর ব্যাপারে বিভাগীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে। স্কুলের ঘেঁষে গরুর খামার, শিক্ষার্থী কম—সার্বিক বিষয়ে খোঁজ নিয়ে ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের কাছে পাঠানো হবে।





