শিশু রোজিনার কান্না সীমান্তে, হরিপুরে ১১ জনকে পুশইনের চেষ্টা প্রতিহত

Any Akter
ঠাকুরগাঁও প্রতিনিধি
প্রকাশিত: ৪:০২ অপরাহ্ন, ০৭ জুন ২০২৬ | আপডেট: ৪:০২ অপরাহ্ন, ০৭ জুন ২০২৬
ছবিঃ সংগৃহীত
ছবিঃ সংগৃহীত

ঠাকুরগাঁওয়ের হরিপুর উপজেলার সীমান্তবর্তী এলাকায় ১১ জন নারী, পুরুষ ও শিশুকে বাংলাদেশে পুশইনের একটি চেষ্টা প্রতিহত করেছে বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ (বিজিবি)। শুক্রবার ভোররাত সাড়ে ৩টার দিকে সীমান্ত পিলার ৩৪৯/৭-এস সংলগ্ন মশালগাঁও বিওপির দায়িত্বপূর্ণ এলাকায় এ ঘটনা ঘটে। বর্তমানে ওই ১১ জন ভারতের অভ্যন্তরে শূন্যরেখার কাছাকাছি অবস্থান করছেন বলে জানিয়েছে বিজিবি। শুক্রবার থেকে আজ অবধি সীমান্তে অবস্থানরতদের মধ্যে রয়েছে ৩ জন পুরুষ, ৪ জন নারী এবং ৪ জন শিশু। তাদের একজন শিশু রোজিনা। স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, দীর্ঘ সময় সীমান্ত এলাকায় আটকে থাকায় শিশুদের মধ্যে খাদ্য ও পানীয় সংকট দেখা দিয়েছে। ক্ষুধার্ত শিশুদের কান্নায় মানবিক উদ্বেগ তৈরি হয়েছে।

দিনাজপুর ব্যাটালিয়ন (৪২ বিজিবি) সূত্রে জানা যায়, সীমান্তে দায়িত্ব পালনরত একটি টহল দল সন্দেহজনক গতিবিধি লক্ষ্য করে দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে যায়। সেখানে তারা দেখতে পায়, ভারতের বহরগাঁও বিএসএফ ক্যাম্পের দিক থেকে কয়েকজন নারী, পুরুষ ও শিশুকে সীমান্তের দিকে নিয়ে আসা হচ্ছে। পরিস্থিতি বুঝে বিজিবি সদস্যরা তাৎক্ষণিকভাবে অবস্থান গ্রহণ করে তাদের বাংলাদেশে প্রবেশে বাধা দেন।

আরও পড়ুন: উলিপুরে বিশ্ব পরিবেশ দিবস ২০২৬ পালিত

বিজিবির উপস্থিতি টের পেয়ে ওই ব্যক্তিদের সীমান্তের শূন্যরেখার ভারতীয় অংশে থামিয়ে রাখা হয়। তারা বর্তমানে শূন্যরেখা থেকে প্রায় ৫০ গজ ভেতরে অবস্থান করছেন বলে জানা গেছে।

প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে ওই ব্যক্তিরা জানান, তারা ভারতের পশ্চিমবঙ্গের দমদম এলাকায় বসবাস করতেন। গত ২৬ মে ভারতীয় আইনশৃঙ্খলা বাহিনী তাদের একটি নির্দিষ্ট স্থানে নিয়ে রাখে। সেখানে আরও কয়েকশ মানুষ অবস্থান করছিল বলে তারা দাবি করেন। পরে কয়েকদিন পর তাদের ছোট ছোট দলে ভাগ করে বিভিন্ন সীমান্ত এলাকায় নিয়ে যাওয়া হয়।

আরও পড়ুন: পাবনায় চিনা বাদামের বাম্পার ফলন

বিজিবি সূত্র জানায়, ভোররাতে বহরগাঁও বিএসএফ ক্যাম্প থেকে তাদের সীমান্তের দিকে নিয়ে এসে শূন্যরেখার কাছাকাছি পৌঁছে দেওয়ার চেষ্টা করা হয়। তবে বিজিবির টহল দল দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে নেয় এবং অনুপ্রবেশের চেষ্টা ব্যর্থ করে দেয়।

এ বিষয়ে দিনাজপুর ব্যাটালিয়ন (৪২ বিজিবি)-এর অধিনায়ক আব্দুল্লাহ আল মঈন হাসান বলেন, “সীমান্ত এলাকায় সর্বোচ্চ সতর্কতা জারি করা হয়েছে। অতিরিক্ত জনবল মোতায়েনের পাশাপাশি টহল কার্যক্রমও জোরদার করা হয়েছে।”

তিনি আরও জানান, বিষয়টি নিয়ে দুই দেশের সীমান্তরক্ষী বাহিনীর মধ্যে কোম্পানি কমান্ডার পর্যায়ে পতাকা বৈঠক চলছে। প্রাথমিকভাবে জানা গেছে, রাতের অন্ধকারে সীমান্তের তারকাঁটার কাছে আলো নিভিয়ে কিছু ব্যক্তিকে বাংলাদেশে ঠেলে দেওয়ার চেষ্টা করা হয়েছিল। তবে বিজিবির সতর্ক ও দ্রুত পদক্ষেপের কারণে সেই চেষ্টা সফল হয়নি।

বিজিবি জানিয়েছে, সীমান্ত পরিস্থিতি নিবিড়ভাবে পর্যবেক্ষণ করা হচ্ছে এবং পুরো এলাকায় নিরাপত্তা ব্যবস্থা জোরদার রাখা হয়েছে। অন্যদিকে সীমান্তে আটকে থাকা নারী ও শিশুদের মানবিক পরিস্থিতি নিয়ে স্থানীয়দের মধ্যে উদ্বেগ দেখা দিয়েছে। শিশু রোজিনাসহ কয়েকজন শিশুর খাদ্য সংকটের বিষয়টি বিশেষভাবে আলোচনায় এসেছে।